নন্দীগ্রাম : মঙ্গলবার সকাল। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই নন্দীগ্রামে শুরু হয়ে গেল বহু প্রতীক্ষিত উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ। সকাল থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দেখা গেল ভোটারদের আনাগোনা। কোথাও লম্বা লাইন, কোথাও আবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাররা এসে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। আর এই ভোটের দিনেই ধর্মীয় আচার মেনে দিনের শুরু করলেন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসি রানী রথ। উপভোটের দিন সকালেই রেয়াপাড়া শিব মন্দিরে পৌঁছে যান বিজেপি প্রার্থী। সেখানে শিবের পুজো দেন তিনি। পুজো ও প্রার্থনা সেরে দিনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির দিকে এগিয়ে যান হাসি রানী রথ। তাঁর এই মন্দিরে পুজো দেওয়ার ছবি এবং মুহূর্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় আলোচনা। নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র বরাবরই রাজ্য রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন ঘিরে সকাল থেকেই রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তৎপরতা চোখে পড়েছে। ভোটারদের উৎসাহও নজরে এসেছে বিভিন্ন এলাকায়। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি প্রার্থীর সকালবেলার মন্দিরে পুজো দেওয়ার ঘটনাও ভোটের দিনের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। রেয়াপাড়া শিব মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন হাসি রানী রথ। সেখানে তিনি তাঁর বিশ্বাস এবং সংস্কারের কথা তুলে ধরেন। বিজেপি প্রার্থী বলেন, তাঁরা সনাতনী। আর সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী যেকোনও শুভ কাজের আগে ঈশ্বরের পুজো করা তাঁদের কাছে স্বাভাবিক বিষয়। সেই কারণেই ভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি দিনের শুরুতেই তিনি মন্দিরে এসে পুজো দিয়েছেন। অর্থাৎ, ভোটের লড়াইয়ে নামার আগে ঈশ্বরের আশীর্বাদ নিয়েই দিনের শুরু করতে চেয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর কথায়, ভোট শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। সেই গুরুত্বপূর্ণ দিনের শুরুটা তিনি করেছেন ধর্মীয় রীতি মেনেই।

এদিন নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ৩২৩টি বুথে ভোটগ্রহণ চলছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন বুথে ভোটারদের উপস্থিতি দেখা যায়। পুরুষ ভোটারের পাশাপাশি মহিলা ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে সকাল সকাল বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন সাধারণ মানুষ। নন্দীগ্রামের এই উপনির্বাচন রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ভোটের আগে একাধিক ইস্যুতে প্রচার চালিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে পৌঁছে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। আর ভোটের দিন সেই প্রচারের পর্ব শেষ করে এবার সরাসরি ভোটের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক দলগুলি। তার মধ্যেই বিজেপি প্রার্থী হাসি রানী রথের মন্দিরে পুজো দিয়ে ভোটের দিনের সূচনা বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে। রেয়াপাড়া শিব মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর তিনি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন। নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার পাশাপাশি ভোটারদেরও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার বার্তা দেন তিনি।

নন্দীগ্রামে উপভোট, শিব মন্দিরে পুজো দিয়ে ভোট বিজেপি প্রার্থীর
নন্দীগ্রামের ভোট মানেই রাজ্য রাজনীতির নজর। এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক গুরুত্ব বহুদিনের। ফলে উপনির্বাচনের দিন সকাল থেকেই সংবাদমাধ্যমের নজরও ছিল এই কেন্দ্রের দিকে। কোথায় কেমন ভোট হচ্ছে, ভোটারদের উপস্থিতি কেমন, কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে কি না—সবকিছুর দিকেই নজর রয়েছে। এরই মধ্যে বিজেপি প্রার্থীর পুজো দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। মন্দিরে পুজো দিয়ে হাসি রানী রথ জানান, তাঁদের কাছে ঈশ্বরের আশীর্বাদ নিয়ে শুভ কাজ শুরু করার রীতি রয়েছে। সেই বিশ্বাস থেকেই ভোটের দিন মন্দিরে এসে পুজো করেছেন তিনি। ভোটের দিন সকালেই তাঁর এই কর্মসূচি কার্যত তুলে ধরল ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং রাজনৈতিক দায়িত্বের এক ছবি। একদিকে মন্দিরে পুজো, অন্যদিকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ—দুই পর্বেই সক্রিয় দেখা গেল বিজেপি প্রার্থীকে। এখন নজর নন্দীগ্রামের ৩২৩টি বুথের দিকে। সকাল থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর স্পষ্ট হবে ভোটারদের রায় কোন দিকে। উপনির্বাচনের ফলাফল ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে হিসেব-নিকেশ। কার পক্ষে গেল নন্দীগ্রামের মানুষের ভোট, কে পেল সাধারণ মানুষের সমর্থন—তার উত্তর মিলবে ভোটের ফল প্রকাশের পরেই। তবে তার আগে ভোটের দিন সকালেই রেয়াপাড়া শিব মন্দিরে পুজো দিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন বিজেপি প্রার্থী হাসি রানী রথ। আর সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট করে জানালেন তাঁর বিশ্বাসের কথা—“আমরা সনাতনী, আমরা ঈশ্বরের পুজো দিয়ে যেকোনও শুভ কাজ শুরু করি।” নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ চলছে। এখন দেখার, মন্দিরে পুজো দিয়ে শুরু করা এই ভোটের দিন শেষে জনতার আশীর্বাদ কোন প্রার্থীর ঝুলিতে যায়।