দুর্গাপুর : বাড়ির ভেতরে ঢুকে নাবালিকাকে একাধিকবার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হল এক যুবককে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দুর্গাপুরের ফরিদপুর এলাকায়। ধৃত যুবকের নাম তরুণ রাম। পুলিশ সূত্রে খবর, ওল্ড কোর্ট মোড় এলাকার বাসিন্দা ওই যুবককে নাবালিকার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার বাবা এবং মা দু’জনেই দিনমজুরের কাজ করেন। সংসার চালাতে প্রতিদিনই তাঁদের দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। অভিযোগ, বাবা-মা কাজে বেরিয়ে যাওয়ার পর দিনের একটা বড় সময় বাড়িতে একাই থাকত নাবালিকা। আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগাত অভিযুক্ত যুবক। অভিযোগ, বাড়িতে যাতায়াতের সুবাদে ধীরে ধীরে নাবালিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে অভিযুক্ত। পরিবারের অভিযোগ, এরপর নাবালিকাকে ভয় দেখিয়ে এবং নানা ভাবে ফুসলিয়ে অভিযুক্ত যুবক তার উপর একাধিকবার যৌন নির্যাতন চালায়। বিষয়টি নিয়ে এতদিন নাবালিকা আতঙ্কে ছিল বলেই পরিবারের দাবি। অভিযোগ, অভিযুক্ত তাকে ভয় দেখানোর কারণে ঘটনার কথা সহজে কাউকে জানাতে পারেনি সে। ঘটনার মোড় ঘুরে যায় সোমবার দুপুরে। পরিবারের দাবি, ওইদিন আচমকাই বাড়িতে ফিরে আসেন নাবালিকার মা। বাড়িতে ঢুকেই তিনি অভিযুক্ত যুবককে নাবালিকার সঙ্গে দেখতে পান বলে অভিযোগ। এরপরই বিষয়টি বুঝতে পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। অভিযোগ, নাবালিকার মায়ের সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকের বচসা শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ মা অভিযুক্তকে মারতে মারতে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলেও অভিযোগ পরিবারের। এরপর আর দেরি করেনি নাবালিকার পরিবার। ঘটনার কথা জানিয়ে দুর্গাপুরের ফরিদপুর ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নাবালিকার মা। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। পরিবারের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি অভিযুক্ত যুবকের খোঁজ শুরু করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযুক্ত তরুণ রামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত যুবক ওল্ড কোর্ট মোড় এলাকার বাসিন্দা। তবে এই ঘটনায় আরও কোনও ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, অথবা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পুরোপুরি সত্যতা কতটা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

বাড়িতে ঢুকে নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার যুবক

অন্যদিকে, ঘটনার পর নাবালিকার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। নাবালিকাকে চিকিৎসার জন্য দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তার শারীরিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। এই ধরনের ঘটনায় তদন্তের ক্ষেত্রে নাবালিকার গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পুলিশ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নাবালিকার পরিচয় প্রকাশ না করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করছে বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরিবারের তরফে যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তাতে দিনের অধিকাংশ সময় বাবা-মা কাজে বাইরে থাকার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত যুবক বাড়িতে যাতায়াত করত বলে দাবি করা হয়েছে। সেই সুযোগেই নাবালিকার উপর নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নাবালিকার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। একইসঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। যদিও পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সমস্ত দিক নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না তদন্তকারীরা। এখন পুলিশের তদন্তে উঠে আসে কোন কোন তথ্য, সেটাই দেখার। নাবালিকার পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে যাতায়াত করত এবং সেই সুযোগে নির্যাতন চালানো হয়েছে। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাবালিকাকে চিকিৎসার জন্য দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশি তদন্ত এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্ট—এই সমস্ত বিষয় সামনে রেখেই এগোবে গোটা তদন্ত প্রক্রিয়া। বাড়িতে বাবা-মা না থাকার সুযোগ নিয়ে নাবালিকার সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে এই ঘটনার তদন্ত দ্রুত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনার দাবি জানিয়েছে নাবালিকার পরিবার। এখন পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে, ঠিক কী ঘটেছিল, কতদিন ধরে এই ঘটনা চলছিল এবং অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত আর কী কী তথ্য সামনে আসে। অভিযুক্ত যুবক বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। নাবালিকার চিকিৎসা ও পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে দুর্গাপুরের ফরিদপুর ফাঁড়ির পুলিশ।