বজবজ : দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজে পলাতক অভিযুক্ত সাহারুল পুরকায়েতের খোঁজে ভোররাতে অভিযান চালাল এনআইএ। মঙ্গলবার ভোর প্রায় পাঁচটা নাগাদ বজবজ থানার অন্তর্গত বলরামপুর চাকাতলা শেখপাড়ায় সাহারুলের শ্বশুরবাড়িতে হানা দেন জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা NIA-এর আধিকারিকরা। অভিযানের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। ঘটনাস্থলে বজবজ থানার পুলিশকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। জানা গিয়েছে, সাহারুল পুরকায়েতের খোঁজেই এদিন ভোরে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছয় NIA-এর তদন্তকারী দল। বেশ কিছুক্ষণ ধরে বাড়ি এবং আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। তবে অভিযানের সময় সাহারুল বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা যায়। ফলে তাঁকে না পেয়ে তাঁর শ্বশুরবাড়ি এবং সংলগ্ন এলাকায় খোঁজ চালান তদন্তকারী আধিকারিকরা। বাড়ির সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলা হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে ঠিক কী অভিযোগ বা কোন মামলার সূত্র ধরে সাহারুল পুরকায়েতের খোঁজে এই অভিযান, তা নিয়ে তদন্তকারী সংস্থার তরফে এখনও বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। পরিবারের সদস্যদের কাছেও অভিযানের নির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট নয়। ফলে NIA-এর এই তল্লাশি ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। এর আগে গভীর রাতেও বজবজ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়েছিল NIA-এর একটি দল। সূত্রের খবর, মিঠাপুকুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শেখ মোহাম্মদ জুম্মা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর বজবজ থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাতেই তাঁকে নিয়ে যায় NIA-এর আধিকারিকরা। সেই অভিযানের পরই ভোররাতে বলরামপুরের শেখপাড়ায় সাহারুল পুরকায়েতের শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পরপর এই দুই অভিযানের ঘটনায় বজবজ এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাতের অন্ধকারে মিঠাপুকুরে অভিযান এবং গ্রেফতারির পর ভোরের দিকে শেখপাড়ায় আরেক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি—দুটি ঘটনাকে ঘিরেই স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। যদিও দুই অভিযানের মধ্যে সরাসরি কী যোগসূত্র রয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সাহারুল পুরকায়েত তাঁর স্ত্রী, এক ছেলে এবং এক মেয়েকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। সাহারুলের স্ত্রী দাবি করেছেন, এর আগেও বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অভিযোগে তাঁর স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে এবার কেন NIA তাঁর খোঁজে বাড়িতে অভিযান চালাল, সে বিষয়ে পরিবারের কাছে স্পষ্ট কোনও তথ্য নেই বলেই দাবি তাঁর। সাহারুলের স্ত্রী আরও জানিয়েছেন, এদিন ভোরে তদন্তকারী আধিকারিকরা বাড়িতে আসার পর তাঁরা সাহারুলের খোঁজ করেন। কিন্তু তিনি বাড়িতে না থাকায় তাঁকে পাওয়া যায়নি। এরপর বাড়ি এবং আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও বিভিন্ন তথ্য জানার চেষ্টা করেন তদন্তকারীরা বলে জানা গিয়েছে। এদিকে সাহারুল পুরকায়েতের খোঁজে শুধু বলরামপুরের শেখপাড়াতেই নয়, ডায়মন্ড হারবারের রঘুনাথপুর এলাকাতেও খোঁজ নেওয়া হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। সেখানে সাহারুলের ননদের বাড়িতেও প্রশাসনের তরফে খোঁজ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। ফলে তদন্তের পরিধি বজবজের পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবারের দিকেও বিস্তৃত হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অভিযান শেষ হওয়ার পরও সাহারুলের বাড়ির সামনে কয়েকজন পুলিশকর্মী মোতায়েন রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এলাকায় যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তদন্তকারী আধিকারিকদের কোনও প্রকাশ্য সংঘাতের খবর নেই। NIA-এর এই অভিযানের জেরে সকাল থেকেই শেখপাড়া এবং সংলগ্ন এলাকায় মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই ঘটনাস্থলের আশপাশে জড়ো হয়ে অভিযানের বিষয়ে জানার চেষ্টা করেন। তবে তদন্তের স্বার্থে বেশ কিছু বিষয় প্রকাশ্যে আনা হয়নি বলেই মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে বজবজে পরপর NIA-এর অভিযান এবং একজনকে গ্রেফতারির ঘটনায় তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে তৈরি হয়েছে জল্পনা। মিঠাপুকুর থেকে শেখ মোহাম্মদ জুম্মার গ্রেফতারি, তারপর বলরামপুরের শেখপাড়ায় সাহারুল পুরকায়েতের সন্ধানে অভিযান এবং ডায়মন্ড হারবারের রঘুনাথপুরে তাঁর আত্মীয়ের বাড়িতে খোঁজ—পরপর এই ঘটনাগুলিকে ঘিরে নজর এখন তদন্তকারী সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। সাহারুল পুরকায়েতকে শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করা সম্ভব হয় কি না এবং তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে, সেই বিষয়ে NIA-এর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার ও স্থানীয়রা।