Log in

অণ্ডাল : উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেফতার ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। তার ঠিক আগেই নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে সরগরম রাজনৈতিক মহল। আর সেই গ্রেফতারের প্রতিবাদেই মঙ্গলবার অণ্ডাল থানায় ডেপুটেশন দিল ব্লক কংগ্রেস। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে থানায় পৌঁছন কংগ্রেস নেতৃত্ব। পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় দাবিপত্র। কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, ভোটের আগে একজন প্রার্থীকে গ্রেফতার করার ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন সামনে আসছে। কেন মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হল, তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কোন কোন মামলা রয়েছে, সেই মামলাগুলির ভিত্তি কী এবং এতদিন পর ওই মামলায় গ্রেফতারের প্রয়োজনীয়তা কেন তৈরি হল—এই সমস্ত বিষয়ের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেছে কংগ্রেস। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে মিলন প্রধানের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। ৬ অক্টোবর ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে নন্দীগ্রামে। এর মধ্যেই পুরনো মামলায় মিলন প্রধানের গ্রেফতারির খবর সামনে আসে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়কার একাধিক মামলার সঙ্গে এই গ্রেফতারের যোগ রয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই আইনানুগ পদক্ষেপ করা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক পুরনো মামলায় পরোয়ানা ছিল এবং সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে পুলিশের এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নয় কংগ্রেস। দলের অভিযোগ, ভোটের আগে একজন কংগ্রেস প্রার্থীকে পুরনো মামলা সামনে এনে গ্রেফতার করার ঘটনাকে শুধুমাত্র আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখলে চলবে না। গোটা ঘটনার সময়কাল এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও খতিয়ে দেখা দরকার। কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে যদি কোনও অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে সেই অভিযোগের তদন্ত এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার পুলিশের রয়েছে। কিন্তু সেই আইনি প্রক্রিয়ার আড়ালে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে কি না, সেটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

এদিন অণ্ডাল থানায় ডেপুটেশন দিতে এসে কংগ্রেস নেতৃত্ব মূলত এই প্রশ্নগুলিই সামনে তুলে ধরেন। তাঁদের দাবি, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত মামলা এবং অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসা দরকার। কোন মামলায় কী অভিযোগ রয়েছে, মামলাগুলি কত পুরনো, আদালতের কী নির্দেশ রয়েছে এবং সেই নির্দেশের ভিত্তিতে কীভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে—সবকিছু স্পষ্ট করা উচিত বলে দাবি কংগ্রেসের। পাশাপাশি গ্রেফতারের গোটা প্রক্রিয়াটিও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়। কংগ্রেসের অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে তাঁদের প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কর্মী বা প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হলে তার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সেই কারণেই তাঁরা পুলিশের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আরও বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেই মতপার্থক্যের কারণে কোনও রাজনৈতিক কর্মীকে হয়রানি বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আইনি জটিলতায় ফেলার অভিযোগ উঠলে তার প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই করা হবে।

অন্যদিকে, পুলিশের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। পুলিশের দাবি, কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই গ্রেফতারি করা হয়নি। পুরনো মামলায় আদালতের পরোয়ানা এবং আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে। পুলিশের তরফে আরও জানানো হয়েছে, বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ এবং আইনের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়াতেই গোটা বিষয়টি এগোচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, গ্রেফতারের পর মিলন প্রধানকে আদালতে পেশ করা হয় এবং আদালত তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠায়। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। কারণ, মিলন প্রধানের গ্রেফতারির ঘটনা এমন একটি সময়ে সামনে এসেছে, যখন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে। কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। সেই ঘোষণার পরেই মিলন প্রধানের গ্রেফতারের খবর সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। কংগ্রেস এই সময়ের যোগসূত্রকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখছে। অন্যদিকে পুলিশ গ্রেফতারির সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সম্পর্ক অস্বীকার করে আইনি প্রক্রিয়ার কথাই সামনে আনছে। এরই মধ্যে অণ্ডাল থানার সামনে মঙ্গলবার কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত দেখা যায়। ডেপুটেশন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলের নেতা-কর্মীরা মিলন প্রধানের গ্রেফতারির প্রতিবাদ জানান। তাঁদের দাবি, পুলিশকে কোনও রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই কাজ করতে হবে এবং মামলাগুলির তদন্ত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে করতে হবে। পাশাপাশি, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ এবং গ্রেফতারির আইনি ভিত্তি সম্পর্কেও স্পষ্ট তথ্য সামনে আনার দাবি জানানো হয়। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, নন্দীগ্রামকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপও তত বাড়ছে। ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ এবং ৯ অক্টোবর ফল ঘোষণার আগে মিলন প্রধানের গ্রেফতারি নিঃসন্দেহে নতুন রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। অণ্ডাল থানায় কংগ্রেসের এই ডেপুটেশন সেই রাজনৈতিক চাপানউতোরকেই আরও সামনে নিয়ে এল। কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছে, তাঁদের দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনেও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। অন্যদিকে, পুলিশের বক্তব্য—অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ এবং তদন্তের ভিত্তিতেই আইনানুগ পদক্ষেপ করা হয়েছে। ফলে ভোটের মুখে মিলন প্রধানের গ্রেফতারিকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি—দুই দিকেই বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।