Log in

দুর্গাপুর : অযোধ্যার রাম মন্দির এবার উঠে আসছে দুর্গাপুরের দুর্গাপুজোর মণ্ডপে। পুজোর এখনও কয়েকদিন বাকি, কিন্তু তার আগেই ক্ষুদিরাম মাঠজুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে সাজো সাজো রব। সকাল থেকে রাত—মণ্ডপ নির্মাণের কাজে ব্যস্ত শিল্পী থেকে শুরু করে কর্মীরা। বাঁশ, কাঠ, কাপড় এবং নানা ধরনের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে দ্রুত গতিতে তৈরি হচ্ছে বিশালাকার থিম মণ্ডপ। আর সেই মণ্ডপের অবয়ব ধীরে ধীরে নিতে শুরু করেছে অযোধ্যার রাম মন্দিরের স্থাপত্যশৈলীর আদল। শিল্পীদের নিপুণ হাতের কারুকাজে ফুটে উঠছে মন্দিরের বিভিন্ন স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য। দূর থেকে দেখলেও যাতে দর্শনার্থীদের চোখে পড়ে, সেই লক্ষ্যেই তৈরি করা হচ্ছে বিশাল এই মণ্ডপ। দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য এবং সৃজনশীলতার এক অনন্য মেলবন্ধন। প্রতি বছরই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পুজো কমিটিগুলি নতুন নতুন ভাবনা নিয়ে হাজির হয়। কোথাও উঠে আসে ইতিহাস, কোথাও শিল্প-সংস্কৃতি, আবার কোথাও সমসাময়িক কোনও বিষয় হয়ে ওঠে পুজোর মূল আকর্ষণ। আর সেই তালিকাতেই এবার নতুন সংযোজন অযোধ্যার রাম মন্দির। দুর্গাপুরের ক্ষুদিরাম মাঠে ‘ইচ্ছে পূরণ’-এর উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে এই বিশেষ থিম মণ্ডপ। ইতিমধ্যেই মণ্ডপ নির্মাণের কাজ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। বাঁশের কাঠামোর উপর ধাপে ধাপে তৈরি করা হচ্ছে মন্দিরের বিভিন্ন অংশ। কোথাও চলছে কারুকাজ, কোথাও চলছে কাঠামোকে আরও নিখুঁত করে তোলার কাজ। প্রতিটি অংশে নজর রাখা হচ্ছে নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার দিকে। শিল্পীদের লক্ষ্য, দর্শনার্থীরা মণ্ডপে প্রবেশ করার আগেই যেন অযোধ্যার রাম মন্দিরের স্থাপত্যের সঙ্গে এক ধরনের পরিচিত অনুভূতি পান। সেই কারণেই মণ্ডপের উচ্চতা, নকশা, প্রবেশপথ এবং সামগ্রিক বিন্যাসে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তবে শুধু মণ্ডপ নির্মাণেই থেমে থাকছেন না উদ্যোক্তারা। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে গোটা পুজো প্রাঙ্গণ। ইতিমধ্যেই সেখানে এসে পৌঁছেছে রাম, সীতা এবং হনুমানের প্রতীকী মূর্তি। পাশাপাশি রয়েছে হাতির প্রতিকৃতিও। পুজো প্রাঙ্গণের বিভিন্ন অংশে এই প্রতীকগুলিকে এমনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে মণ্ডপের মূল ভাবনার সঙ্গে গোটা পরিবেশের একটা সুন্দর সংযোগ তৈরি হয়। অর্থাৎ ক্ষুদিরাম মাঠে এবার শুধু একটি মণ্ডপ দেখতে পাবেন না দর্শনার্থীরা। বরং মণ্ডপে প্রবেশের পর থেকেই ধাপে ধাপে তৈরি হবে একটি বিশেষ আবহ। মন্দিরের স্থাপত্য, প্রতীকী মূর্তি, বিভিন্ন সাজসজ্জা এবং আলোকসজ্জার সমন্বয়ে গোটা পুজো প্রাঙ্গণকে একটি নির্দিষ্ট থিমের মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। সন্ধ্যা নামার পর সেই আবহ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে দাবি পুজো কমিটির। কারণ মণ্ডপের পাশাপাশি এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে আলোকসজ্জাতেও। মণ্ডপের স্থাপত্যকে ফুটিয়ে তুলতে কোথায় কেমন আলো ব্যবহার করা হবে, কীভাবে রাতের অন্ধকারে মন্দিরের আদল আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে—সেই পরিকল্পনাও চলছে। আলো এবং মণ্ডপের স্থাপত্যকে একসঙ্গে মিলিয়ে এমন একটি দৃশ্য তৈরি করার চেষ্টা চলছে, যা দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে। পুজোর দিনগুলিতে সন্ধ্যার পর ক্ষুদিরাম মাঠের এই প্রাঙ্গণ কার্যত আলোয় ঝলমল করে উঠবে বলেই আশা উদ্যোক্তাদের। এই বিশাল আয়োজনের পিছনে রয়েছে বড় অঙ্কের বাজেটও। উদ্যোক্তাদের দাবি, এবারের থিম মণ্ডপ নির্মাণে খরচ হচ্ছে প্রায় এক কোটি টাকা। মণ্ডপের কাঠামো, কারুকাজ, সাজসজ্জা থেকে শুরু করে আলোকসজ্জা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাখা হচ্ছে বড়সড় আয়োজন। পুজোর কয়েকদিন আগে থেকেই যাতে কাজ শেষ করে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই জোরকদমে চলছে নির্মাণকাজ।

‘ইচ্ছে পূরণ’-এর উদ্যোগে টানা চার বছর ধরে আয়োজিত হচ্ছে এই দুর্গাপুজো। মাত্র চার বছরের মধ্যেই নিজেদের পুজোকে আলাদা পরিচিতি দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছেন উদ্যোক্তারা। প্রতি বছর নতুন ভাবনা, নতুন থিম এবং নতুন চমক নিয়ে দর্শনার্থীদের সামনে হাজির হওয়ার চেষ্টা থাকে তাদের। এবারের রাম মন্দিরের থিম সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। পুজো উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, দর্শনার্থীদের জন্য শুধু একটি মণ্ডপ তৈরি করাই তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। মণ্ডপের সঙ্গে গোটা পরিবেশকে এমনভাবে সাজিয়ে তুলতে চান তাঁরা, যাতে মানুষ সেখানে এসে একটি আলাদা অভিজ্ঞতা পান। বিশেষ করে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক—সব বয়সের মানুষ যাতে মণ্ডপের স্থাপত্য ও সাজসজ্জা উপভোগ করতে পারেন, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। উদ্যোক্তা পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, এবারের দুর্গাপুজো গোটা রাজ্যের মধ্যে অন্য মাত্রা পাবে। ক্ষুদিরাম মাঠের এই পুজো মানুষের মন কাড়বে বলেই তাঁদের আশা। তাঁর দাবি, প্রস্তুতির শুরু থেকেই দর্শনার্থীদের মধ্যে এই থিম নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে সেই আগ্রহ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন উদ্যোক্তারা। সব মিলিয়ে দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন যত এগোচ্ছে, ততই ব্যস্ততা বাড়ছে দুর্গাপুরের ক্ষুদিরাম মাঠে। বাঁশ-কাঠের কাঠামো পেরিয়ে ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে অযোধ্যার রাম মন্দিরের আদল। তার সঙ্গে রাম, সীতা, হনুমানের প্রতীকী উপস্থিতি, হাতির প্রতিকৃতি, পরিকল্পিত আলোকসজ্জা এবং থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবেশ—সব মিলিয়ে এবার ক্ষুদিরাম মাঠে দর্শনার্থীদের জন্য বড়সড় চমক অপেক্ষা করছে। পুজোর ঢাকে কাঠি পড়তে এখনও কয়েকটা দিন বাকি। কিন্তু তার আগেই নির্মাণস্থলে স্পষ্ট হয়ে উঠছে এবারের আয়োজনের ছবি। শেষ মুহূর্তের কাজ যত এগোবে, ততই বদলে যাবে ক্ষুদিরাম মাঠের চেহারা। আর পুজোর দিন আলো জ্বলার পর অযোধ্যার রাম মন্দিরের আদলে তৈরি এই বিশাল থিম মণ্ডপ কতটা নজর কাড়ে, এখন সেই অপেক্ষাতেই দুর্গাপুরবাসী।