দুর্গাপুর : ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে আবহাওয়ার পরিবর্তন শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে! বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই আকাশের মুখ ভার। সকাল গড়াতেই শুরু হয় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত। কখনও ঝিরঝিরে বৃষ্টি, আবার কখনও কিছুটা জোরে বৃষ্টির কারণে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম। ভারী বৃষ্টি না হলেও, সকাল থেকে মেঘলা আকাশ আর বৃষ্টির দাপটে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে দুর্গাপুরের বাসিন্দাদের। অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পর দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পুরোপুরি কাটেনি। এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আবহাওয়ার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কোথাও আকাশ মেঘলা, কোথাও আবার হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত। সেই প্রভাব থেকে বাদ পড়েনি পশ্চিম বর্ধমানের শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরও। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দুর্গাপুরের আকাশে মেঘের আনাগোনা। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে বৃষ্টি। সকালবেলা সাধারণত কর্মব্যস্ততায় ভরে ওঠে শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের রাস্তাঘাট। অফিস, স্কুল, কলেজ কিংবা ব্যবসায়িক কাজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন বহু মানুষ। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বৃষ্টির কারণে সেই স্বাভাবিক ব্যস্ততায় কিছুটা ছন্দপতন ঘটেছে। বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে ছাতা মাথায় দিয়ে কিংবা রেইনকোট পরে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিতে দেখা যাচ্ছে পথচারীদের। যাঁদের কাছে বৃষ্টির মধ্যে বাইরে বেরোনো ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই, তাঁদেরই বাধ্য হয়ে সামান্য অসুবিধা উপেক্ষা করে পথে নামতে হচ্ছে। বিশেষ করে কর্মব্যস্ত মানুষের কাছে সকালের এই বৃষ্টি কিছুটা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছনোর তাড়া, তার উপর মাঝেমধ্যে বৃষ্টি—সব মিলিয়ে ভোগান্তি বাড়ছে। যাঁরা বাজার করতে কিংবা অন্যান্য জরুরি কাজে বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন, তাঁদেরও ছাতা সঙ্গে নিয়েই চলাফেরা করতে হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাটে চলাচলের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব। স্থলভাগে প্রবেশের পর ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হলেও তার প্রভাবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ এবং বৃষ্টির পরিস্থিতিতে পরিবর্তন ঘটতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির আবহাওয়া সেই পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে বৃষ্টির তীব্রতা এবং স্থায়িত্ব কতটা হবে, তা নির্ভর করছে স্থানীয় আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুর্গাপুরে ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি না হলেও, একটানা মেঘলা আকাশ এবং থেমে থেমে বৃষ্টি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কিছুটা হলেও প্রভাবিত করেছে। যাঁরা বাইক কিংবা সাইকেলে যাতায়াত করছেন, তাঁদের চলাফেরার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। বৃষ্টির জেরে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়তে পারে। তাই বৃষ্টির মধ্যে যানবাহন চালানোর সময় গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। অন্যদিকে, বৃষ্টির কারণে বাজারে যাতায়াত কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটার ক্ষেত্রেও কিছুটা অসুবিধা তৈরি হচ্ছে। খোলা জায়গায় কাজ করা মানুষ এবং ছোট ব্যবসায়ীদেরও আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। তবে বৃষ্টির জেরে কোথাও বড় ধরনের বিপর্যয় বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর এই প্রতিবেদনের দেওয়া তথ্যের মধ্যে নেই। আপাতত মেঘলা আকাশ এবং বৃষ্টির আবহাওয়াই দুর্গাপুরের দিনের চিত্রকে বদলে দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার পরিবর্তন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নজর রয়েছে সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে যাঁদের প্রতিদিন কাজের জন্য বাইরে বেরোতে হয়, তাঁদের কাছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় থাকলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে আরও কিছুটা সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। সব মিলিয়ে, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হলেও তার প্রভাব অনুভূত হচ্ছে শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই মেঘলা আকাশ, সকাল থেকে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং তার জেরে জনজীবনে কিছুটা ছন্দপতন—এই পরিস্থিতিই ধরা পড়েছে শহরজুড়ে। আপাতত বৃষ্টির মধ্যেই ছাতা মাথায় দিয়ে নিজেদের গন্তব্যে এগিয়ে চলেছেন সাধারণ মানুষ। এখন নজর, আগামী কয়েক ঘণ্টায় দুর্গাপুর-সহ দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।