দুর্গাপুর : নেশার অন্ধকার থেকে যুবসমাজকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনার বার্তা! নেশামুক্ত ভারত গড়ার লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে পথে নামল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হল। বুধবার দুর্গাপুরের নিউ টাউনশিপ থানার উদ্যোগে ফুলঝোড় মোড়ে আয়োজন করা হয় একটি সচেতনতামূলক র‍্যালির। এই র‍্যালির মূল উদ্দেশ্য ছিল নেশার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং বিশেষ করে যুবসমাজকে মাদকের কবল থেকে দূরে থাকার বার্তা দেওয়া। বর্তমান সময়ে নেশার কুফল সমাজের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের একটা অংশ বিভিন্ন ধরনের নেশার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবক থেকে শুরু করে সমাজের সচেতন নাগরিকদের মধ্যে। নেশার কারণে একজন মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ার পাশাপাশি তাঁর পারিবারিক ও সামাজিক জীবনেও নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। কর্মক্ষমতা হ্রাস, পড়াশোনায় মনোযোগের অভাব, পারিবারিক অশান্তি এবং আর্থিক সংকটের মতো একাধিক সমস্যার সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারেন নেশায় আসক্ত ব্যক্তি। সেই কারণেই নেশার বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলা এবং যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহলের একাংশ। এই পরিস্থিতিতে নেশামুক্ত সমাজ গড়ার বার্তা নিয়ে দুর্গাপুরের ফুলঝোড় মোড়ে আয়োজিত হয় পুলিশের এই বিশেষ উদ্যোগ। র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর নিউ টাউনশিপ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক শিউলি মণ্ডল-সহ থানার অন্যান্য পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীরা। পুলিশের পাশাপাশি দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্রছাত্রীরাও এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের সঙ্গে পা মেলান এলাকার যুবক-যুবতীরাও। পুলিশ প্রশাসন এবং তরুণ প্রজন্মের এই যৌথ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সমাজকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

র‍্যালির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় নেশার বিরুদ্ধে সচেতনতার বার্তা। শুধু আইন প্রয়োগ বা অপরাধ দমনের মাধ্যমেই নয়, মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করেও নেশার বিস্তার রুখতে উদ্যোগী হতে হবে। বিশেষ করে কম বয়সিদের মধ্যে নেশার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সঠিক ধারণা তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সচেতনতা এবং সঠিক দিশা পেলে অনেক ক্ষেত্রেই তরুণ প্রজন্মকে বিপথে যাওয়া থেকে দূরে রাখা সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই পুলিশের এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। পড়াশোনা, খেলাধুলা, শরীরচর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সৃজনশীল কাজের প্রতি তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে সুস্থ জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি। নেশা সাময়িকভাবে আকর্ষণীয় মনে হলেও তার পরিণতি যে ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, সেই বিষয়টি বোঝানো দরকার। একই সঙ্গে নেশায় আসক্ত কোনও ব্যক্তিকে শুধুমাত্র অবহেলা বা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন না করে, প্রয়োজনে চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। নেশামুক্ত সমাজ গড়তে তাই সচেতনতা, সহমর্মিতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন।

এই ধরনের কর্মসূচিতে ছাত্রছাত্রী এবং এলাকার যুবক-যুবতীদের অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, যুবসমাজই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের মধ্যে নেশার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা গেলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলার পথ আরও মসৃণ হবে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তরুণদের আচরণে কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো, সঠিক পরামর্শ দেওয়া এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই র‍্যালির মাধ্যমে নেশামুক্ত সমাজ গড়তে সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। নেশার বিরুদ্ধে লড়াই কেবল প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়, এই লড়াইয়ে সমাজের প্রতিটি মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি। এলাকার বাসিন্দা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক এবং যুবসমাজ একযোগে এগিয়ে এলে নেশার বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। সব মিলিয়ে, দুর্গাপুরের ফুলঝোড় মোড়ে নিউ টাউনশিপ থানার উদ্যোগে আয়োজিত এই সচেতনতামূলক র‍্যালি নেশামুক্ত সমাজ গড়ার বার্তাকে আরও জোরালো করল। পুলিশের আধিকারিকদের পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্রছাত্রী এবং এলাকার যুবক-যুবতীদের অংশগ্রহণ এই কর্মসূচিকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে। নেশার কুফল সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা, যুবসমাজকে বিপথে যাওয়া থেকে রক্ষা করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এখন দেখার, এই ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি আগামী দিনে সমাজের সর্বস্তরে নেশার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নেশামুক্ত ভারত গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে প্রশাসনের উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে বড় শক্তি।