আসানসোল : রেলে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ! পুলিশের নজর এড়াতে বহুতল আবাসনের ছাদে বিশেষভাবে তৈরি একটি ঘরে আত্মগোপন করেছিলেন অভিযুক্ত। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না! পুলিশের তৎপরতায় অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন আশীষ বোস। রবিবার সন্ধ্যায় সালানপুর থানার অন্তর্গত রূপনারায়ণপুরের রূপনগরের একটি বহুতল আবাসনের ছাদ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কুলটি থানার নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে রেলে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। শুধু একটি নয়, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের অধীন বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। সোমবার ধৃতকে আসানসোল আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ বলে খবর। চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে রেলের মতো কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থায় চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন দেখেন বহু যুবক-যুবতী। আর সেই স্বপ্নকে হাতিয়ার করেই প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে আশীষ বোসের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, রেলে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রতারণা করা হয়েছে। সরকারি চাকরির আশায় অনেকেই বিভিন্ন সুযোগের সন্ধান করেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কেউ যদি চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়, তাহলে চাকরিপ্রার্থীদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আশীষ বোসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঘিরে সেই প্রশ্নই ফের সামনে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রেলে চাকরি দেওয়ার নাম করে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের ভিত্তিতে আশীষ বোসের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। তদন্তের সূত্র ধরে তাঁর সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় নজর রাখছিল পুলিশ। তবে শেষ পর্যন্ত কোথায় তাঁর সন্ধান মিলবে, তা নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা। অবশেষে রবিবার সন্ধ্যায় রূপনারায়ণপুরের রূপনগর এলাকায় একটি বহুতল আবাসনে তাঁর খোঁজ মেলে। জানা গিয়েছে, ওই আবাসনের ছাদে বিশেষভাবে তৈরি একটি ঘরের মধ্যে লুকিয়ে ছিলেন তিনি। পুলিশের নজর এড়িয়ে সেখানে আত্মগোপন করে থাকার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ। কিন্তু পুলিশের তল্লাশিতে সেই গোপন আশ্রয়ের সন্ধান মেলে। এরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বহুতল আবাসনের ছাদে বিশেষভাবে তৈরি ঘরে আত্মগোপন করার বিষয়টি সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কতদিন ধরে সেখানে লুকিয়ে ছিলেন অভিযুক্ত? কীভাবেই বা ওই ঘরের সন্ধান পেল পুলিশ? তবে এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বিষয়গুলি পরিষ্কার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত আশীষ বোস।

তবে এই ঘটনার গুরুত্ব শুধু অভিযুক্তের গ্রেপ্তারিতেই সীমাবদ্ধ নয়। কারণ, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের অধীন বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে বলেও খবর। ফলে তদন্তকারীদের কাছে এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, অভিযোগগুলির মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা। বিভিন্ন অভিযোগের ধরন, আর্থিক লেনদেনের বিবরণ এবং সম্ভাব্য প্রতারিতদের বক্তব্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। যদিও এই মুহূর্তে অভিযোগগুলির বিস্তারিত বিবরণ কিংবা প্রতারিতের সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য সামনে আসেনি, তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। সোমবার ধৃত আশীষ বোসকে আসানসোল আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর হলে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রতারণার অভিযোগ সংক্রান্ত একাধিক তথ্য জানার চেষ্টা করতে পারেন তদন্তকারীরা। কীভাবে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো, কার কার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন হয়েছিল, এই অভিযোগের পিছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, কিংবা একাধিক অভিযোগের মধ্যে কোনও সংযোগ রয়েছে কি না—এমন নানা বিষয় তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

তবে এই প্রশ্নগুলির উত্তর পেতে তদন্তের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে। এদিকে, রেলে চাকরি পাওয়ার আশায় প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ নতুন করে চাকরিপ্রার্থীদের সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আনছে। সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে কেউ টাকা দাবি করলে বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে চাকরি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিলে, সেই দাবির সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তির উপর নির্ভর করার পরামর্শ দিচ্ছেন সচেতন মহলের অনেকে। চাকরির আশায় নিজের কষ্টার্জিত টাকা তুলে দেওয়ার আগে সমস্ত তথ্য যাচাই করা এবং সন্দেহজনক লেনদেনের ক্ষেত্রে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে, রেলে চাকরি দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে আশীষ বোসের গ্রেপ্তারি ঘিরে এখন তদন্তের দিকেই নজর। বহুতলের ছাদে বিশেষভাবে তৈরি ঘরে লুকিয়ে থেকেও পুলিশের হাত থেকে রেহাই পাননি তিনি। এবার জিজ্ঞাসাবাদে এই অভিযোগ সংক্রান্ত আর কী কী তথ্য সামনে আসে, অন্য কোনও ব্যক্তি এই ঘটনায় জড়িত কি না এবং একাধিক থানায় ওঠা অভিযোগের সঙ্গে এই গ্রেপ্তারির কী সম্পর্ক রয়েছে, তা জানার অপেক্ষা। তবে মনে রাখতে হবে, আশীষ বোসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি।