দুর্গাপুর : কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর উৎসবমুখর পরিবেশে জনসংযোগের ছবি ধরা পড়ল দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষণ চন্দ্র ঘোড়ুইয়ের উপস্থিতিতে। পুজোর আনন্দ, ভক্তি আর উৎসবের আবহের মধ্যেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললেন তিনি। শুধু পুজো মণ্ডপে উপস্থিত হয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় নয়, এলাকার মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনা এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে গিয়ে তাঁদের কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, তা জানার চেষ্টা করলেন বিধায়ক। দুর্গাপুরের গোপালমাঠের নাগারবাঁধ এলাকার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপুজো মণ্ডপে তাঁর এই উপস্থিতিকে ঘিরে তৈরি হয় জনসংযোগের পরিবেশ। নাগারবাঁধের এই লক্ষ্মীপুজো এবার ৪১তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের আবেগ, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই পুজো। প্রতি বছরই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজে মেতে ওঠেন এলাকার বাসিন্দারা। পুজো মণ্ডপে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা, ভক্তদের সমাগম এবং উৎসবকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের উৎসাহে তৈরি হয় এক অন্যরকম পরিবেশ। সেই ঐতিহ্যবাহী পুজোতেই উপস্থিত হয়ে উৎসবের আনন্দে শামিল হন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষণ চন্দ্র ঘোড়ুই। পুজো মণ্ডপে উপস্থিত হয়ে তিনি এলাকার মানুষকে লক্ষ্মীপুজোর শুভেচ্ছা জানান। উৎসবের এই বিশেষ দিনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং তাঁদের দৈনন্দিন সমস্যাগুলি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে তাঁর এই কর্মসূচিতে। উৎসবের আবহে পুজো কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথোপকথনের মধ্য দিয়ে জনসংযোগের ছবিই সামনে আসে।

তবে এদিনের কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব পায় রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পেতে গিয়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলাদের সমস্যার বিষয়টি। সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে অনেক সময় সেই সুবিধা পেতে দেরি হয়। কোথাও আবেদনপত্রে ভুল, কোথাও ব্যক্তিগত তথ্যের অসংগতি, আবার কোথাও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সমস্যার কারণে উপভোক্তাদের সমস্যায় পড়তে হয়। নাগারবাঁধের লক্ষ্মীপুজো মণ্ডপেও উঠে আসে সেই ধরনের অভিযোগ। বিশেষ করে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পেতে গিয়ে যেসব মহিলা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তাঁদের কথা মন দিয়ে শোনেন বিধায়ক লক্ষণ চন্দ্র ঘোড়ুই। পুজো মণ্ডপেই কয়েকজন মহিলা তাঁর কাছে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি সমস্যার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কেও খোঁজ নেন তিনি। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সামান্য তথ্যগত ভুল বা নথিপত্রের অসংগতি যে অনেক সময় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, সেই বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। বিধায়ক লক্ষণ চন্দ্র ঘোড়ুই জানান, নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর কিংবা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্যের ভুলের কারণে অনেক সময় সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে দেরি হতে পারে। আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথির অসংগতি থাকলেও উপভোক্তাদের সমস্যায় পড়তে হয়। ফলে প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোথায় সমস্যা হচ্ছে, তা চিহ্নিত করা জরুরি। এদিন সমস্যার কথা জানাতে আসা মহিলাদের আশ্বস্ত করে বিধায়ক জানান, তাঁদের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে যত দ্রুত সম্ভব সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। যাঁরা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় রয়েছেন, তাঁদের সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাস দেন তিনি। যদিও প্রতিটি অভিযোগের সমাধান নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও সরকারি নিয়মের উপর, তবুও জনপ্রতিনিধির কাছে সরাসরি নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেন অভিযোগ জানাতে আসা মহিলারা বলে এই কর্মসূচির প্রেক্ষিতে উঠে আসে জনসংযোগের তাৎপর্য।

সাধারণত উৎসবের দিনগুলিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে উপস্থিত হতে দেখা যায়। পুজোর উদ্বোধন, প্রতিমা দর্শন কিংবা পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে অনেক কর্মসূচি। কিন্তু নাগারবাঁধের লক্ষ্মীপুজোয় উৎসবের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। পুজো মণ্ডপকে কেন্দ্র করে এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে গিয়ে যে সমস্যাগুলি তাঁদের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করছে, সেই বিষয়গুলি জনপ্রতিনিধির সামনে তুলে ধরতে পারেন তাঁরা। অন্যদিকে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার-সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত উপভোক্তারা পেতে পারেন, তার জন্য আবেদনপত্রে সঠিক তথ্য দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র ঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার কারণ জানা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন করা জরুরি। নাগারবাঁধের পুজো মণ্ডপে মহিলাদের অভিযোগ শোনার মধ্য দিয়ে সেই বিষয়টিও সামনে এল। সব মিলিয়ে, নাগারবাঁধের ৪১তম বর্ষের লক্ষ্মীপুজোয় একদিকে যেমন ছিল উৎসবের আনন্দ ও দেবী আরাধনার আবহ, অন্যদিকে তেমনই দেখা গেল সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনপ্রতিনিধির সরাসরি যোগাযোগের ছবি। পুজোর শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে গিয়ে মহিলাদের সমস্যার কথা শোনা এবং তা সমাধানের আশ্বাস দেওয়ার মধ্য দিয়ে জনসংযোগের অন্য এক দিক উঠে এল। উৎসবের আলো, ভক্তির পরিবেশ এবং মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার কথা শোনার এই উদ্যোগ—সব মিলিয়ে গোপালমাঠের নাগারবাঁধের লক্ষ্মীপুজোয় বিশেষ তাৎপর্য পেল বিধায়ক লক্ষণ চন্দ্র ঘোড়ুইয়ের উপস্থিতি। এখন অভিযোগ জানানো মহিলাদের সমস্যাগুলি কত দ্রুত চিহ্নিত হয় এবং সেগুলির সমাধানে কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাদের।