দুর্গাপুর : দুর্গাপুরে বিজেপির দলীয় সংগঠনে দুষ্কৃতী, বালি মাফিয়া কিংবা কয়লা মাফিয়াদের কোনও জায়গা নেই। এই ধরনের ব্যক্তিরা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বাঁশ-বাটাম নিয়ে তৈরি থাকবেন দলের নিচুতলার কর্মীরা। দুর্গাপুরে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালীপুজোর খুঁটিপুজো থেকে কার্যত এই ভাষাতেই হুঁশিয়ারি দিলেন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কালীপুজোর খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, চোর-ছ্যাঁচড়, বালি মাফিয়া, কয়লা মাফিয়া কিংবা সমাজবিরোধীদের বিজেপিতে কোনও জায়গা দেওয়া হবে না। তাঁর দাবি, বিজেপির সংগঠনকে স্বচ্ছ রাখতে এই ধরনের ব্যক্তিদের দল থেকে দূরে রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে, যাঁরা এই ধরনের লোকজনকে বিজেপিতে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন, তাঁদেরও সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। বিজেপি বিধায়কের নিশানায় রয়েছেন তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের প্রাক্তন কোর কমিটির সদস্য বান্টি সিং এবং বালিকারবারের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ ওঠা কেবু। তাঁদের মতো ব্যক্তিদের কোনওভাবেই বিজেপিতে জায়গা দেওয়া যাবে না বলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য সামনে আসেনি। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

বিধায়কের বক্তব্য, বালি ও কয়লা কারবারের সঙ্গে যুক্ত বলে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের কেউ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করলেই তাঁকে দলে জায়গা দেওয়া হবে, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। বিজেপির নিচুতলার কর্মীরা এই ধরনের ব্যক্তিদের দলে অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধিতা করবেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে, এমন কোনও ব্যক্তিকে বিজেপিতে জায়গা দেওয়া উচিত নয়। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা দলের সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করছেন, সেই সমস্ত কর্মীর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বাইরে থেকে কেউ দলে যোগ দিতে চাইলেই তাঁর অতীত এবং ভূমিকা যাচাই না করে তাঁকে গ্রহণ করা উচিত নয় বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে আরও কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান বিজেপি বিধায়ক। তিনি বলেন, “চোর-ছ্যাঁচড় আর দুষ্কৃতীদের দলে কোনও জায়গা নেই। বালি মাফিয়া, কয়লা মাফিয়ারা সাবধান হয়ে যান। বিজেপিতে আসার চেষ্টা করবেন না। না হলে মাঝেমধ্যে বাঁশ-বাটাম খেতে হবে। আর সেই বাঁশ-বাটাম নিয়ে দলের নিচুতলার কর্মীরা তৈরি আছে। তাঁদের পূর্ণ সমর্থন আছে আমার।” বিধায়কের এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিশেষ করে, প্রকাশ্য রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে বাঁশ-বাটাম নিয়ে হুঁশিয়ারি দেওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। একদিকে যখন রাজনৈতিক দলগুলির তরফে সংগঠন বিস্তারের চেষ্টা চলছে, তখন অন্যদিকে দলে কাদের জায়গা দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিজেপির অন্দরেও মতামতের প্রশ্ন সামনে আসছে।

দুর্গাপুর ও সংলগ্ন শিল্পাঞ্চলে বালি এবং কয়লা কারবারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর দেখা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি বিধায়কের বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দলের সংগঠনে অপরাধমূলক কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রবেশ আটকানোর বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্য শুধু দুষ্কৃতীদের দলে নেওয়া বা না নেওয়ার প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রকাশ্যে দেওয়া এমন হুঁশিয়ারি রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে কী বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক বিরোধিতার ক্ষেত্রে বক্তব্য ও প্রতিবাদের সীমারেখা কোথায় থাকা উচিত, সেই বিতর্কও নতুন করে সামনে আসতে পারে। চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য কারও অতীত বা পরিচয়কে উপেক্ষা করা যাবে না। বালি মাফিয়া, কয়লা মাফিয়া কিংবা সমাজবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত বলে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের দলে নেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। পাশাপাশি, এই ধরনের ব্যক্তিদের বিজেপিতে নিয়ে আসার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদেরও সতর্ক থাকতে হবে বলে বার্তা দিয়েছেন তিনি। এখন দেখার, দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়কের এই মন্তব্যের পর দলের জেলা নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয় এবং যাঁদের নাম উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ তুলেছেন, তাঁদের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসে কি না। আপাতত ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালীপুজোর খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠান থেকে দেওয়া চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই হুঁশিয়ারি ঘিরেই সরগরম দুর্গাপুরের রাজনৈতিক মহল।