দুর্গাপুর : দুর্গাপুজোর আর হাতে গোনা কয়েকদিন। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবকে ঘিরে এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত দুর্গাপুরের বিভিন্ন পুজো কমিটি। কোথাও চলছে মণ্ডপসজ্জার শেষ মুহূর্তের কাজ, কোথাও আবার প্রতিমা, আলোকসজ্জা এবং দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি। আর পুজো কমিটিগুলির পাশাপাশি এবার আগেভাগেই নিরাপত্তা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। কারণ পুজোর দিনগুলিতে দুর্গাপুরের বিভিন্ন মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে শহরের বড় বাজেটের এবং জনপ্রিয় পুজোগুলিতে ভিড় সামলানোই পুলিশের কাছে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্গাপুরের অন্যতম বড় বাজেটের পুজো নিউ টাউনশিপ থানার শংকরপুর সর্বজনীন দুর্গাপুজো। প্রতি বছরই এই পুজোকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উন্মাদনা দেখা যায়। পুজোর দিনগুলিতে শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, দুর্গাপুরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও বহু মানুষ এই মণ্ডপে প্রতিমা দর্শনে আসেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কয়েকদিনের জন্য শংকরপুর এলাকায় তৈরি হয় ব্যাপক জনসমাগম। গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আগেভাগে সতর্ক পুলিশ প্রশাসন। গত বছর পুজোর দিনগুলিতে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হওয়ায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল পুলিশকে। কোথা দিয়ে দর্শনার্থীরা মণ্ডপে প্রবেশ করবেন, কোন পথ দিয়ে বেরিয়ে যাবেন, কোথায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হবে—এই সমস্ত বিষয় নিয়ে শেষ মুহূর্তে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছিল প্রশাসনের উপর। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার পুজো শুরুর আগেই গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা, শংকরপুরে আগেই নিরাপত্তা প্রস্তুতি

মঙ্গলবার শংকরপুর সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে গিয়ে প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার ডা. প্রণব কুমার। পুজো কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। মণ্ডপ চত্বর ঘুরে দেখার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের প্রবেশ এবং বেরোনোর পথ, মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকার পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন পুলিশ কমিশনার। পুজোর দিনগুলিতে কোথা দিয়ে দর্শনার্থীরা মণ্ডপে প্রবেশ করবেন এবং কোন পথ দিয়ে বেরিয়ে যাবেন, সেই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে পুলিশ প্রশাসন। কারণ একই জায়গায় বিপুল সংখ্যক মানুষ জমায়েত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আগে থেকেই প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ নির্দিষ্ট করা, প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যারিকেড তৈরি করা এবং ভিড়কে নির্দিষ্ট পথে পরিচালনা করার বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। শুধু মণ্ডপের ভিতরের নিরাপত্তাই নয়, মণ্ডপ সংলগ্ন রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশাসনের বিশেষ নজর রয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের পাশাপাশি বহু গাড়িও এলাকায় ঢুকবে। ফলে একদিকে যেমন পথচারীদের নিরাপদে চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে, তেমনই অন্যদিকে যানজট এড়াতে প্রয়োজনীয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণও করতে হবে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর দর্শনার্থীদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় সেই সময় পরিস্থিতি আরও সতর্কভাবে সামলাতে হবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।

দর্শনার্থীর ঢল সামলাতে প্রস্তুত পুলিশ, শংকরপুরে মণ্ডপ পরিদর্শন কমিশনারের

পুলিশ কমিশনার জানান, পুজোর দিনগুলিতে শংকরপুর সর্বজনীন দুর্গাপুজোয় বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং সুশৃঙ্খল রাখতে ইতিমধ্যেই থানার পুলিশ আধিকারিকদের একাধিক নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে আরও নির্দেশ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য, পুজোর আনন্দে যাতে কোনওভাবেই বিঘ্ন না ঘটে এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। বিশেষ করে শিশু, মহিলা এবং প্রবীণ দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখেই ভিড় নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কোনও জায়গায় অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হলে দ্রুত সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পুলিশ কর্মীদের সক্রিয় রাখা হবে। একইসঙ্গে মণ্ডপ চত্বর এবং আশপাশের এলাকায় নজরদারিও বাড়ানো হবে। শুধু শংকরপুর নয়, দুর্গাপুরের অন্যান্য বড় পুজো মণ্ডপগুলিতেও দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। পুজোর দিনগুলিতে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এবং মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ, পার্কিং ব্যবস্থা এবং দর্শনার্থীদের চলাচলের পথ নির্দিষ্ট করার মতো একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পুজো মানেই উৎসব, আনন্দ আর মানুষের মিলন। কিন্তু বিপুল জনসমাগমের কারণে সামান্য অসতর্কতাও বড় সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই এবার পুজো শুরুর আগেই সম্ভাব্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরি করতে চাইছে প্রশাসন। গত বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবারে আরও সংগঠিতভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই লক্ষ্য। ইতিমধ্যেই শংকরপুর সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। পুজো কমিটি যেমন মণ্ডপ এবং প্রতিমাকে দর্শনার্থীদের জন্য প্রস্তুত করে তুলছে, তেমনই প্রশাসনের তরফেও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে দুর্গাপুজোর আগে শংকরপুরে পুলিশের এই আগাম তৎপরতা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। উৎসবের দিনগুলিতে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং হাজার হাজার দর্শনার্থী নির্বিঘ্নে পুজো দেখতে পারেন—সেই লক্ষ্যেই এবার আগে থেকেই কোমর বেঁধে নামছে পুলিশ প্রশাসন। পুজোর আনন্দকে সুরক্ষিত ও সুশৃঙ্খল রাখাই এখন প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।