Log in

দুর্গাপুর : সপ্তাহে দু’দিন ছুটি-সহ একাধিক দাবিতে শুক্রবার দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ব্যাংক ধর্মঘট। ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়নস-এর ডাকে এই ধর্মঘটে সামিল হয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যাংক কর্মী ও আধিকারিকরা। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দুর্গাপুরের বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখাতেও। শুক্রবার সকাল থেকেই দুর্গাপুরের একাধিক ব্যাংক শাখায় কর্মীদের ধর্মঘটে অংশ নিতে দেখা যায়। কর্মীদের অনুপস্থিতির জেরে ব্যাহত হয়েছে ব্যাংকের স্বাভাবিক পরিষেবা। ফলে ব্যাংকে এসে লেনদেন-সহ বিভিন্ন পরিষেবা নিতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। ব্যাংক কর্মীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব একাধিক কর্মী সংগঠন। তাদের অভিযোগ, ব্যাংকিং পরিষেবার পরিধি ও কাজের চাপ ক্রমশ বাড়লেও সেই অনুপাতে কর্মী সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে না। এর ফলে ব্যাংক কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হচ্ছে। একইসঙ্গে কর্মীদের কাজের পরিবেশ, ছুটি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়েও একাধিক দাবি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সেই দাবিগুলির মধ্যে অন্যতম সপ্তাহে দু’দিন ছুটির দাবি।

ব্যাংক কর্মীদের বক্তব্য, সপ্তাহে নির্দিষ্ট দু’দিন ছুটি কার্যকর হলে কর্মীদের কাজের চাপ কিছুটা কমবে এবং কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে। সেইসঙ্গে পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ, ব্যাংকিং পরিষেবায় কর্মীদের কাজের চাপ কমানো এবং কর্মীদের বিভিন্ন অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত বিষয়গুলিও ধর্মঘটের অন্যতম দাবি হিসেবে উঠে এসেছে। শুক্রবার দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হলেও দুর্গাপুরে সকাল থেকেই তার প্রভাব চোখে পড়ে। বিভিন্ন ব্যাংক শাখায় কর্মীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে কম। কোথাও কোথাও ব্যাংকের মূল পরিষেবা কার্যত বন্ধ থাকতে দেখা যায়। ফলে জরুরি প্রয়োজনে ব্যাংকে আসা গ্রাহকদের অনেকেই পরিষেবা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন। বিশেষ করে নগদ টাকা জমা দেওয়া, টাকা তোলা, চেক সংক্রান্ত কাজ, বিভিন্ন নথিপত্রের কাজ কিংবা ব্যাংকের কাউন্টারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া পরিষেবাগুলিতে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে গ্রাহকদের। ধর্মঘটের কারণে কোন কোন পরিষেবা কতটা ব্যাহত হয়েছে, তা ব্যাংকভেদে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করলেও সামগ্রিকভাবে গ্রাহক পরিষেবায় প্রভাব পড়েছে বলেই চিত্র ধরা পড়েছে দুর্গাপুরে। এদিকে শুধু ব্যাংকের শাখা পরিষেবাই নয়, ধর্মঘটের প্রভাব এটিএম পরিষেবাতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও এটিএম পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে ব্যাংকের শাখা কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল নয়, তবুও ধর্মঘটের জেরে নগদ টাকা ভরার প্রক্রিয়া বা অন্যান্য পরিষেবা ব্যাহত হলে কিছু এটিএমে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গ্রাহকদের একাংশ।

ইতিমধ্যেই অনেকেই এটিএম থেকে নগদ টাকা তোলার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে শুরু করেছেন। এরই মধ্যে শুক্রবারের পর দ্বিতীয় শনিবার এবং তারপর রবিবার। ফলে টানা তিন দিন ব্যাংকের স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার ধর্মঘটের কারণে ব্যাংকের পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার পর শনিবার দ্বিতীয় শনিবার হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকের শাখা বন্ধ থাকবে। এরপর রবিবারও ব্যাংক পরিষেবা বন্ধ থাকবে। ফলে টানা তিন দিন ব্যাংকের শাখায় গিয়ে সরাসরি পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ থাকছে না সাধারণ গ্রাহকদের। এর জেরে যাঁদের জরুরি ব্যাংকিং কাজ রয়েছে, তাঁদের সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী, ছোট দোকানদার, বেতনভোগী কর্মী এবং বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি বাড়তি সমস্যার কারণ হতে পারে। তবে ডিজিটাল ব্যাংকিং পরিষেবা চালু থাকায় অনলাইন লেনদেনের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে গ্রাহকদের। মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ইউপিআই-সহ বিভিন্ন ডিজিটাল পরিষেবা ব্যবহার করে অনেক কাজই করা সম্ভব হলেও, সমস্ত ধরনের ব্যাংকিং পরিষেবা অনলাইনে সম্পন্ন করা যায় না।

ফলে কাউন্টারভিত্তিক পরিষেবার জন্য গ্রাহকদের অপেক্ষা করতে হতে পারে। ব্যাংক কর্মীদের দাবি, ধর্মঘটের মাধ্যমে সরকারের কাছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের সমস্যাগুলি তুলে ধরাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। কর্মীদের বিভিন্ন দাবি দ্রুত বিবেচনা করে সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানানো হয়েছে সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে। অন্যদিকে, ব্যাংক ধর্মঘটের ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক পরিষেবায় যে প্রভাব পড়ছে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে আলোচনা। গ্রাহকদের একাংশের বক্তব্য, ব্যাংক কর্মীদের দাবিদাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ধর্মঘটের জেরে সাধারণ মানুষকে যাতে দীর্ঘদিন পরিষেবার জন্য অপেক্ষা করতে না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া দরকার। সব মিলিয়ে সপ্তাহে দু’দিন ছুটি-সহ একাধিক দাবিকে সামনে রেখে শুক্রবার দেশজুড়ে ব্যাংক ধর্মঘটের প্রভাব দুর্গাপুরেও স্পষ্ট। বিভিন্ন ব্যাংক শাখায় কর্মীদের ধর্মঘটে অংশ নেওয়া এবং গ্রাহক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার ছবি ধরা পড়েছে। শুক্রবারের পর দ্বিতীয় শনিবার ও রবিবার থাকায় টানা তিন দিন ব্যাংকের শাখা পরিষেবা থেকে দূরে থাকতে হবে সাধারণ মানুষকে। ফলে জরুরি ব্যাংকিং পরিষেবার প্রয়োজন থাকলে গ্রাহকদের বিকল্প ডিজিটাল পরিষেবা ব্যবহার করার পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। ব্যাংক কর্মীদের দাবিগুলি কতটা গুরুত্ব পায় এবং আগামী দিনে এই আন্দোলন কোন পথে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *