Log in

কাঁকসা : তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরলেন পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার সাহেবগঞ্জ এলাকার তরুণী বালিকা টুডু। বুধবার রাতে কাঁকসা থানার পুলিশের তৎপরতায় কাঁকসার ১১ মাইল এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ তিন দিন ধরে মেয়ের কোনও খোঁজ না পাওয়ায় উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল পরিবার। অবশেষে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। পরে নাদনঘাট থানার পুলিশের উপস্থিতিতে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনে তরুণীকে তাঁর মা-বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়। অক্ষত অবস্থায় মেয়েকে ফিরে পেয়ে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন পরিবারের সদস্যরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার পূর্ব বর্ধমানের নাদনঘাট থানার হলদি পাড়া এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন বালিকা টুডু। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই যোগাযোগ ছিল তাঁর। কিন্তু আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পর আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। বেশ কিছুক্ষণ ধরে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান না মেলায় চিন্তায় পড়ে যায় পরিবার। আত্মীয়ের বাড়ি থেকে আশপাশের এলাকা, পরিচিতজনদের বাড়ি-সহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালানো হয়। কিন্তু কোনওভাবেই তরুণীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠলে পরিবারের পক্ষ থেকে নাদনঘাট থানায় যোগাযোগ করা হয়। সেখানে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। পুলিশও নিখোঁজ তরুণীর সন্ধানে তদন্ত শুরু করে। পরিবারের কাছ থেকে তরুণীর পরিচয়, ছবি এবং নিখোঁজ হওয়ার সময়কার বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি সম্ভাব্য বিভিন্ন এলাকায় তাঁর সন্ধানে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে। দ্রুত মেয়েকে খুঁজে পাওয়ার আশায় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন তাঁরা।

এরই মধ্যে বুধবার কাঁকসা থানার পুলিশের তৎপরতায় সামনে আসে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। এদিন কাঁকসার ১১ মাইল এলাকায় পুলিশের একটি দল টহলদারি চালাচ্ছিল। সেই সময় পুলিশকর্মীদের নজরে আসে এক তরুণী। ওই তরুণীকে এলাকায় একা এবং কিছুটা সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশকর্মীরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রাথমিকভাবে তাঁর পরিচয় জানার চেষ্টা করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে ওই তরুণীর ছবি ও পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা শুরু হয়। সেই সময় নাদনঘাট থানায় নথিভুক্ত একটি নিখোঁজের ঘটনার সঙ্গে ওই তরুণীর ছবি ও পরিচয়ের মিল খুঁজে পান পুলিশকর্মীরা। এরপর আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। বিভিন্ন তথ্য যাচাইয়ের পর পুলিশের কাছে পরিষ্কার হয়, উদ্ধার হওয়া তরুণী আর কেউ নন, গত তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকা বালিকা টুডু। তরুণীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই কাঁকসা থানার পুলিশ নাদনঘাট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে। নিখোঁজ ডায়েরির তথ্যের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া তরুণীর পরিচয় মিলিয়ে দেখা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। পুলিশ তরুণীকে উদ্ধার করেছে—এই খবর পৌঁছতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন পরিবারের সদস্যরা। দ্রুত কাঁকসা থানায় পৌঁছন তাঁর মা-বাবা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর থানায় মেয়েকে অক্ষত অবস্থায় দেখতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তিন দিন ধরে মেয়ের কোনও সন্ধান না পাওয়ায় যে দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটছিল, মেয়েকে ফিরে পাওয়ার পর সেই উৎকণ্ঠার অবসান হয়। পুলিশি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর নাদনঘাট থানার পুলিশের উপস্থিতিতে সমস্ত আইনি নিয়ম মেনে তরুণীকে তাঁর মা-বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়।

তবে এই পুরো ঘটনায় কাঁকসা ও নাদনঘাট থানার পুলিশের সমন্বয়ের বিষয়টি বিশেষভাবে সামনে এসেছে। একদিকে নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পর নাদনঘাট থানার পুলিশ তথ্য নথিভুক্ত করে তরুণীর সন্ধানে তৎপর হয়। অন্যদিকে কাঁকসা থানা এলাকায় টহলদারির সময় সন্দেহজনকভাবে একা ঘোরাফেরা করা তরুণীকে দেখে পুলিশকর্মীরা পরিচয় যাচাই করেন। নিখোঁজের তথ্যের সঙ্গে মিল পাওয়ার পর দুই থানার মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ হওয়ায় তরুণীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়। পুলিশের তৎপরতায় অক্ষত অবস্থায় মেয়েকে ফিরে পাওয়ায় কাঁকসা ও নাদনঘাট থানার পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের বক্তব্য, মেয়েকে ফিরে পাওয়াটাই তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়। পুলিশ সময়মতো উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হতে পারত বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর কাঁকসার ১১ মাইল এলাকা থেকে তরুণীর উদ্ধার ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। তবে কীভাবে তিনি ওই এলাকায় পৌঁছেছিলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর এই তিন দিন তিনি কোথায় ছিলেন এবং কীভাবে সেখানে পৌঁছলেন, সেই সমস্ত বিষয় নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে, নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর কাঁকসা পুলিশের তৎপরতায় তরুণীকে উদ্ধার এবং পরে নাদনঘাট পুলিশের উপস্থিতিতে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনায় আপাতত স্বস্তি ফিরেছে বালিকা টুডুর পরিবারে। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ এবং দুই থানার সমন্বিত তৎপরতায় নিখোঁজ তরুণীকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার এই ঘটনাই এখন এলাকার আলোচনায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *