দুর্গাপুর : দুর্গাপুরের বিধান ভবনে আয়োজিত এই মহা সম্মেলনে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি তথা কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মতুয়া মহাসঙ্ঘের মাতৃ সেনার সভানেত্রী সোমাদেবী ঠাকুরানী। এই প্রথম পশ্চিম বর্ধমান জেলায় অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের আনুষ্ঠানিক জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। সম্মেলনকে ঘিরে সকাল থেকেই দুর্গাপুরের বিধান ভবন চত্বরে ছিল উৎসবের আবহ। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশিষ্ট মতুয়া সাহিত্যিক, লেখক, দলপতি, সাধু, পাগল, গোঁসাই এবং বিপুল সংখ্যক ভক্তমণ্ডলী এই সম্মেলনে অংশ নেন। সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শান্তনু ঠাকুর জানান, এর আগে পশ্চিম বর্ধমান জেলায় মতুয়া মহাসঙ্ঘের কোনো আনুষ্ঠানিক জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। এমনকি সংগঠনের কোনো জেলা কমিটিও গঠিত ছিল না। সেই কারণেই সংগঠনের কাজকর্মকে আগামী দিনে আরও সুসংগঠিত ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার লক্ষ্যেই এই জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। একইসঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে মতুয়া সেনা এবং মাতৃ সেনার জেলা সংগঠনও। সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মতুয়া সমাজের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক ও আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষণ চন্দ্র ঘড়ুই, দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ইসকন দুর্গাপুরের প্রধান সেবাইত ঔদার্য চন্দ্র দাস-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে স্বপন গোঁসাই জানান, শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ ঠাকুরের মত ও আদর্শ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সনাতন ধর্মের শাশ্বত শান্তির বার্তা সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দেওয়াই এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। একইসঙ্গে সামাজিক ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিক চেতনা জাগিয়ে তোলার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সম্মেলন ঘিরে ছিল ধর্মীয় আবেগ ও উৎসাহের বিশেষ পরিবেশ। হরিবোল ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ। ডঙ্কা-কাঁসির সুরে তৈরি হয় উৎসবমুখর আবহ। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মতুয়া ভক্তদের উপস্থিতিতে বিধান ভবন চত্বর কার্যত মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়। সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল নতুন জেলা কমিটি ঘোষণা। সংগঠনের নেতৃত্বের আশা, নতুন কমিটি গঠনের ফলে পশ্চিম বর্ধমান জেলায় মতুয়া মহাসঙ্ঘের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত হবে। পাশাপাশি সামাজিক এবং আধ্যাত্মিক আন্দোলনও আগামী দিনে আরও গতি পাবে। মতুয়া সমাজের ধর্মীয় ও সামাজিক আদর্শকে সামনে রেখে সংগঠনের কার্যক্রমকে জেলার প্রত্যন্ত এলাকাতেও পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান নেতৃত্ব। নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে সেই কাজ আরও সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তাই উঠে আসে দুর্গাপুরের এই জেলা সম্মেলন থেকে। সব মিলিয়ে, হরি-গুরুচাঁদ ঠাকুরের আদর্শ, মতুয়া সমাজের ঐক্য এবং সনাতন ধর্মের শান্তির বার্তাকে সামনে রেখে দুর্গাপুরে অনুষ্ঠিত হলো অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্মেলন। নতুন জেলা কমিটির আত্মপ্রকাশের মধ্য দিয়ে পশ্চিম বর্ধমানে সংগঠনের আগামী দিনের পথচলা আরও শক্তিশালী হবে—এমনটাই আশাবাদী সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃত্ব ও ভক্তমণ্ডলী।