যুদ্ধের আগুনে জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য, কাঁপছে বিশ্ব রাজনীতি

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
বিউরো রিপোর্ট : মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে আমেরিকা, ইসরায়েল এবং ইরানের সংঘাত, আর এই সংঘাতের সরাসরি ও পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে শুধু এই তিন দেশেই নয় বরং জর্ডনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য, কূটনীতি এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপর, কারণ দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক বৈরিতা রয়েছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগ ক্রমেই বেড়েছে, অন্যদিকে আমেরিকা ঐতিহ্যগতভাবে ইসরায়েলের প্রধান মিত্র হিসেবে ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে সমর্থন করে এসেছে, ফলে যখনই ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে তখনই সেই সংঘাত আন্তর্জাতিক মাত্রা পেয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক অভিযান, পাল্টা হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের ঘটনায় এই উত্তেজনা আরও বেড়ে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ভারসাম্যকে নড়বড়ে করে দিয়েছে, যার ফলে ইরানের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে কারণ যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশের প্রধান আয়ের উৎসে ধাক্কা লেগেছে, একইসঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনা, সামরিক শক্তি বজায় রাখা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে ইরানকে যার ফলে দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও এই সংঘাত অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা দিক থেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে কারণ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রতিদিন বিপুল সামরিক ব্যয় করতে হচ্ছে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার রাখতে দেশের বাজেটের বড় অংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করতে হচ্ছে, যার ফলে ইসরায়েলের প্রযুক্তি খাত, পর্যটন শিল্প এবং বিদেশি বিনিয়োগ ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে কারণ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়ছেন এবং অনেক বিদেশি পর্যটক তাদের সফর বাতিল করছেন, অন্যদিকে আমেরিকার উপর এই সংঘাতের প্রভাব সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে না থাকলেও কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে এবং মিত্র দেশগুলিকে সহায়তা করতে আমেরিকার বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে
যুদ্ধের আগুনে জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য, কাঁপছে বিশ্ব রাজনীতি
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ছায়া : আমেরিকা–ইসরায়েল–ইরান সংঘাতে উত্তপ্ত বিশ্ব
একইসঙ্গে এই সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে কারণ বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল সরবরাহ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে তেল পরিবহন হয়, ফলে যদি যুদ্ধের কারণে সেই রুটগুলিতে সমস্যা তৈরি হয় তাহলে তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে এবং তার প্রভাব পড়তে পারে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারেও, যেখানে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেলে পরিবহন ব্যয় বাড়ে, উৎপাদন খরচ বাড়ে এবং মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে, অন্যদিকে জর্ডনের মতো দেশ এই সংঘাতের মাঝে পড়ে বিশেষভাবে বিপাকে পড়েছে কারণ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে জর্ডন প্রায়ই আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব সরাসরি অনুভব করে এবং সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ছোড়া ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু অংশ জর্ডনের আকাশসীমা অতিক্রম করার ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সতর্ক অবস্থায় নিয়ে গেছে, যার ফলে জর্ডনের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হচ্ছে এবং সামরিক প্রস্তুতি বাড়াতে হচ্ছে, একইসঙ্গে এই উত্তেজনার কারণে জর্ডনের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়ছে কারণ জ্বালানি আমদানির খরচ বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি পর্যটন খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কারণ বিদেশি পর্যটকেরা সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ভ্রমণ করতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছেন, এই সংঘাতের প্রভাব শুধু এই চারটি দেশেই সীমাবদ্ধ নয় বরং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ যেমন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক এবং কুয়েতের উপরও এর পরোক্ষ প্রভাব পড়ছে কারণ পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠলে বাণিজ্যিক কার্যকলাপ ব্যাহত হয়, তেল ও গ্যাস উৎপাদন ও পরিবহনের উপর ঝুঁকি তৈরি হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ওঠানামা করতে শুরু করে, ফলে বিশ্ব অর্থনীতিও এর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকে না কারণ তেলের দাম বেড়ে গেলে পরিবহন খরচ বাড়ে, শিল্প উৎপাদনের খরচ বাড়ে এবং খাদ্যপণ্যের দামও বাড়তে পারে যার ফলে অনেক দেশে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, এছাড়াও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও এর প্রভাব পড়ে কারণ সংঘাতপূর্ণ আকাশসীমা এড়িয়ে অনেক বিমানকে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হয় যার ফলে ভ্রমণের সময় ও ব্যয় দুইই বাড়ে, পাশাপাশি মানবিক সংকটও এই ধরনের সংঘাতের একটি বড় দিক কারণ যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বহু মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় এবং অনেক অঞ্চলে খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি পরিষেবার সরবরাহ ব্যাহত হয়, ফলে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলির উপর চাপ বেড়ে যায়, সব মিলিয়ে বলা যায় যে আমেরিকা, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলমান এই সংঘাত শুধু একটি সামরিক দ্বন্দ্ব নয় বরং এটি ধীরে ধীরে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিচ্ছে যার প্রভাব পড়ছে জর্ডনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং সাধারণ মানুষের জীবনের উপর, তাই আন্তর্জাতিক কূটনীতি, শান্তি আলোচনা এবং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে এই উত্তেজনা কমানো এখন সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন কারণ সংঘাত যত দীর্ঘস্থায়ী হবে তার প্রভাব তত গভীরভাবে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয় বরং পুরো বিশ্বের উপর পড়বে এবং বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram