জলপাইগুড়ির হোল্ডিং সেন্টারে আরও ২১ বাংলাদেশি !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
জলপাইগুড়ি : রাজবাড়িপাড়া ইন্দিরা গান্ধী কলোনি এলাকায় অবস্থিত আরটিসি হোল্ডিং সেন্টারে বাংলাদেশি নাগরিকদের রাখা নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বসিরহাট সীমান্তের হাকিমপুর এলাকা থেকে নিয়ে আসা ২১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে বর্তমানে এই হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এর আগেও কয়েকদিন আগে একই কেন্দ্রে আরও ১০ জনকে রাখা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৯ জনকে ইতিমধ্যেই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অসুস্থ এক ব্যক্তি বর্তমানে জলপাইগুড়ি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রাজ্যজুড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করতে প্রশাসনের তরফে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। সেই অভিযানের মধ্যেই জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ ব্লকের ফাটাপুকুর এলাকায় অবস্থিত হোল্ডিং সেন্টারে মোট ২৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে অস্থায়ীভাবে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছে ৭ জন শিশু, ১৫ জন মহিলা এবং বাকিরা পুরুষ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ব্যক্তিরা প্রায় তিন থেকে চার বছর আগে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় বসবাস শুরু করেন এবং জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। কেউ রিকশা চালাতেন, আবার কেউ রংমিস্ত্রির কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন বলেই জানা গিয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া অভিযানে তাঁদের শনাক্ত করা হয়। এরপর আইনানুগ প্রক্রিয়া মেনে তাঁদের হোল্ডিং সেন্টারে নিয়ে আসা হয়। বসিরহাট সীমান্ত সংলগ্ন হাকিমপুর এলাকা থেকে ২১ জনকে জলপাইগুড়ির আরটিসি হোল্ডিং সেন্টারে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এর আগে যাঁদের রাখা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে অধিকাংশকেই ইতিমধ্যেই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, আগে আনা ১০ জনের মধ্যে ৯ জনকে সফলভাবে সীমান্তের মাধ্যমে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে অসুস্থতার কারণে একজনকে এখনও জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য রাখা হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জলপাইগুড়ির হোল্ডিং সেন্টারে আরও ২১ বাংলাদেশি !
জলপাইগুড়িতে হোল্ডিং সেন্টারে ৭ শিশু-সহ ২৬ বাংলাদেশি, বাড়ানো হল নিরাপত্তা

অন্যদিকে, বর্তমানে হোল্ডিং সেন্টারে থাকা ২৬ জনের নিরাপত্তার জন্য কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গোটা এলাকাজুড়ে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি। হোল্ডিং সেন্টারের ভিতরে এবং বাইরে বসানো হয়েছে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা। যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। শুধু নিরাপত্তাই নয়, হোল্ডিং সেন্টারে থাকা ব্যক্তিদের জন্য থাকা-খাওয়ারও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিশুদের জন্য আলাদা নজরদারি এবং মহিলাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। মানবিক দিক মাথায় রেখেই তাঁদের অস্থায়ীভাবে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই ২৬ জনের ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে? তাঁদের সবাইকে ধাপে ধাপে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে, নাকি অন্য কোনও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি পুলিশ বা জেলা প্রশাসন। ফলে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ফের একবার বিতর্ক সামনে এসেছে। যদিও প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আইন মেনেই সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করার প্রয়োজন ছিল। আবার অন্যদিকে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। বিশেষ করে শিশু ও মহিলাদের উপস্থিতি থাকায় তাঁদের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি নিয়ে নজর রাখছে প্রশাসন। বর্তমানে জলপাইগুড়ির আরটিসি হোল্ডিং সেন্টার এবং রাজগঞ্জের ফাটাপুকুর হোল্ডিং সেন্টারকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি রয়েছে। পুলিশ এবং প্রশাসনের আধিকারিকরা নিয়মিত পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। পাশাপাশি সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে। সব মিলিয়ে, রাজ্যজুড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে চলা অভিযানের মধ্যে জলপাইগুড়িতে ২৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে হোল্ডিং সেন্টারে রাখার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের মধ্যে শিশু, মহিলা এবং পুরুষ মিলিয়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষ রয়েছেন। এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের। পরিস্থিতি নিয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও, নিরাপত্তা ও মানবিক দিক বজায় রেখেই সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram