দুর্গাপুর "SAHA SWEETS"-র খাবারে পোকা !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : শিল্পাঞ্চলের অন্যতম স্বনামধন্য মিষ্টির দোকান “SAHA SWEETS”। দুর্গাপুরের একাধিক জায়গায় রয়েছে তাদের কাউন্টার। যা ঘিরে ছড়িয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। অভিযোগ, জনপ্রিয় মিষ্টির দোকান Saha Sweets-এর খাবারে পোকা বেরিয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। খাদ্যের মান এবং স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের Dayanand Area-র বাসিন্দা জয় সরকার নামে এক ব্যক্তি শনিবার সকালে অনলাইনের মাধ্যমে টিফিনের জন্য খাবার অর্ডার করেছিলেন। তিনি জনপ্রিয় মিষ্টির দোকান সাহা সুইটসের Saha Sweets Biringi Counter থেকে দু’প্লেট ধোকলা অর্ডার করেন। অনলাইনের মাধ্যমে খাবারটি তার বাড়িতে পৌঁছেও যায়। কিন্তু সেই খাবার খোলার পরই সামনে আসে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। জয় সরকারের দাবি, খাবারের প্যাকেট খুলে দেখার পর তিনি লক্ষ্য করেন ধোকলার মধ্যে সাদা রঙের পোকা কিলবিল করছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে বিষয়টি নজরে না আসায় তিনি এবং তাঁর মেয়ে কিছুটা ধোকলা খেয়েও ফেলেন। পরে যখন খাবারের মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পান, তখনই তারা খুঁটিয়ে দেখেন এবং তখনই চোখে পড়ে সেই সাদা পোকাগুলি। এই দৃশ্য দেখে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন জয় সরকার এবং তাঁর পরিবার। তিনি দাবি করেছেন, পোকা দেখতে পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি ও তাঁর মেয়ের শারীরিক অসুস্থতা শুরু হয়। দুজনেরই কয়েকবার বমি হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি চিকিৎসা রিপোর্ট সামনে আসেনি, তবুও ঘটনার পর পরিবারটির মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক শোরগোল। অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, কীভাবে একটি পরিচিত ও জনপ্রিয় মিষ্টির দোকানের খাবারে এই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে যখন সেই খাবার অনলাইনের মাধ্যমে গ্রাহকের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়, তখন খাদ্যের মান ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জয় সরকারের অভিযোগ, বিষয়টি জানার পর তিনি সরাসরি সাহা সুইটসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর দাবি, দোকানের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি নাকি ভুল স্বীকার করে নেন। যদিও দোকান কর্তৃপক্ষের তরফে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও লিখিত প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি। এই ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জয় সরকার। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি ফুড ইন্সপেক্টরকে জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপও নিতে পারেন। তাঁর বক্তব্য, একটি স্বনামধন্য দোকানের কাছ থেকে এ ধরনের ঘটনা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। কারণ সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করেই এই ধরনের দোকান থেকে খাবার কেনেন। তিনি আরও বলেন, “আমরা ভাবতেই পারিনি যে এমন একটি দোকানের খাবারের মধ্যে পোকা থাকতে পারে। আমার মেয়ে কিছুটা খেয়েও ফেলেছে। পরে আমরা পোকা দেখতে পাই। তারপর থেকেই ওর শরীর খারাপ হতে শুরু করে। এই ধরনের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, শহরের জনপ্রিয় দোকানগুলির খাবারের মান এবং স্বাস্থ্যবিধি নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করা উচিত। কারণ প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এসব দোকান থেকে খাবার কিনে থাকেন। বিশেষ করে অনলাইন ফুড ডেলিভারির ক্ষেত্রে অনেক সময় গ্রাহকরা খাবার না দেখেই গ্রহণ করেন। ফলে খাবারের গুণগত মান সম্পর্কে আগে থেকে বোঝা সম্ভব হয় না। এই ঘটনার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, দোকানগুলিতে ঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না। স্থানীয়দের মতে, খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যদি সামান্য অবহেলাও করা হয়, তাহলে তা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও গুরুতর হতে পারে। জয় সরকার সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আবেদনও জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “যারা অনলাইনের মাধ্যমে খাবার অর্ডার করেন, তারা খাবার হাতে পাওয়ার পর অবশ্যই আগে ভালো করে পরীক্ষা করে নেবেন। কারণ অনেক সময় প্যাকেটের ভিতরে কী রয়েছে, তা না দেখেই আমরা খেতে শুরু করে দিই। ”এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন দুর্গাপুর শহরে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ফুড ইন্সপেক্টর এবং প্রশাসনের উচিত দ্রুত এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজন হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। সব মিলিয়ে বলা যায়, সাহা সুইটসের মতো একটি পরিচিত মিষ্টির দোকানকে ঘিরে ওঠা এই অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই শহরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। খাবারের মধ্যে পোকা বেরোনোর অভিযোগ শুধুমাত্র একটি দোকানের সুনামকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেনি, বরং শহরের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। এখন সকলের নজর প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে। তদন্তে যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই আশা করছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে এই ঘটনাকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন অনেকেই—খাবার কেনার সময় এবং খাওয়ার আগে সচেতন হওয়াটা যে কতটা জরুরি, তা আবারও সামনে এসে গেল এই ঘটনায়।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram