This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
মালদা : মালদহ জেলায় বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। ভোটের আগে যখন গোটা রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, ঠিক সেই সময় চাঁচল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এমন একটি ঘটনার সামনে আসা স্বাভাবিকভাবেই একাধিক প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিজেপি প্রার্থী রতন দাসের ভাই বিপ্লব দাসকে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার চাঁচল বিধানসভার বরুই অঞ্চলে নিয়মিত টহলদারির সময় একটি সন্দেহজনক বাইককে আটকানো হয়। এলাকায় তখন যৌথভাবে টহল দিচ্ছিল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। নির্বাচনের আগে এই ধরনের টহলদারি এবং নাকা চেকিং ইতিমধ্যেই জোরদার করা হয়েছে, যাতে বেআইনি লেনদেন, অস্ত্র বা নগদ অর্থ পাচার রুখে দেওয়া যায়। সেই সময়ই নজরে আসে একটি বাইক, যাতে এক যুবক চলাচল করছিল। পুলিশ কর্মীদের সন্দেহ হওয়ায় তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। প্রাথমিকভাবে যুবকের উত্তর অসংলগ্ন মনে হওয়ায় তল্লাশি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাইকের ডিকি খুলতেই বেরিয়ে আসে একটি ব্যাগ, আর সেই ব্যাগ খুলতেই সামনে আসে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। গুনে দেখা যায়, ব্যাগের ভিতরে মোট প্রায় ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা রয়েছে। এত বড় অঙ্কের নগদ অর্থ নিয়ে ওই যুবক কোথায় যাচ্ছিলেন এবং কী উদ্দেশ্যে এই টাকা বহন করা হচ্ছিল, তা জানতে চায় পুলিশ। তবে উদ্ধার হওয়া নগদের বৈধ উৎস সম্পর্কে কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। এরপরই পুলিশ বিপ্লব দাসকে আটক করে এবং পরবর্তীতে গ্রেপ্তার করে। ধৃত ব্যক্তি চাঁচল বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রতন দাসের ভাই বলে জানা যায়। এই তথ্য সামনে আসতেই ঘটনাটি রাজনৈতিক মাত্রা পায় এবং জেলাজুড়ে শুরু হয় জোর আলোচনা। পুলিশ জানিয়েছে, নির্বাচনের সময় নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশিকা রয়েছে। নির্দিষ্ট সীমার বেশি নগদ অর্থ নিয়ে চলাচল করলে তার যথাযথ নথিপত্র ও উৎসের প্রমাণ দেখাতে হয়। এই ক্ষেত্রে তা না পারায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। যদিও এখনও পর্যন্ত বিজেপি প্রার্থী রতন দাসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে দলের একাংশের তরফে দাবি করা হয়েছে, বিপ্লব দাস পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং তাঁর এই আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে দলের কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছে। তাঁদের দাবি, এটি একটি ব্যক্তিগত ঘটনা এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক যোগসূত্র টানা ঠিক নয়।
ভোটের মুখে মালদহে নগদ উদ্ধার ঘিরে তোলপাড় : বিজেপি প্রার্থীর ভাই গ্রেপ্তার, শুরু রাজনৈতিক তরজা
অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। দলের তরফে দাবি করা হয়েছে, ভোটের আগে এই ধরনের নগদ উদ্ধারের ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর এবং এর পেছনে কোনও বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। তৃণমূলের নেতাদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের ভোট প্রভাবিত করার জন্য এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গে মালদা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গোটা ঘটনাকে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন। তাঁর মতে, ভোটের আগে বিরোধী দলকে হেনস্থা করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের ঘটনা সামনে আনা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আইন তার নিজের পথে চলবে, কিন্তু কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা হলে তা বরদাস্ত করা হবে না।” এদিকে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনও রকম বেআইনি কাজ বরদাস্ত করা হবে না। নগদ অর্থ, মদ, বা অন্য কোনও প্রলোভনমূলক সামগ্রী বিতরণের বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন জায়গায় নাকা চেকিং, রুট মার্চ এবং টহলদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি জেলায় ফ্লাইং স্কোয়াড এবং স্ট্যাটিক সার্ভিল্যান্স টিম মোতায়েন রয়েছে, যারা এই ধরনের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। মালদহের এই ঘটনাটিও সেই নজরদারির ফল বলেই মনে করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক। আবার কেউ কেউ বলছেন, প্রশাসন সক্রিয় থাকায় এই ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ছে, যা একটি ইতিবাচক দিক। সব মিলিয়ে, চাঁচল বিধানসভা কেন্দ্রের এই নগদ উদ্ধারের ঘটনা এখন মালদহের রাজনৈতিক আবহে বড় প্রভাব ফেলেছে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই এই ধরনের ঘটনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এখন দেখার, তদন্তে কী উঠে আসে এবং এই ঘটনার প্রকৃত সত্য কী। তবে আপাতত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়বে, তা বলাই যায়। ভোটের মুখে এই ধরনের ইস্যু সাধারণ মানুষের মনেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।