বিশ্বজুড়ে আচমকা থমকে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম, বিপাকে কোটি কোটি ব্যবহারকারী

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
BEAURO REPORT : শুক্রবার সন্ধ্যার পর আচমকাই সমস্যার মুখে পড়ল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম। ভারতীয় সময় সন্ধ্যা সাতটার কিছু পর থেকেই বিভিন্ন দেশ থেকে একের পর এক অভিযোগ আসতে শুরু করে। হঠাৎ করেই ফেসবুকের পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় চরম সমস্যায় পড়েন কোটি কোটি ব্যবহারকারী। শুধু সাধারণ মানুষই নন, যাঁদের ব্যবসা, প্রচার কিংবা দৈনন্দিন কাজের অন্যতম ভরসা এই সামাজিক মাধ্যম, তাঁরাও পড়েন ব্যাপক সমস্যায়। অনেকেই প্রথমে ভেবেছিলেন, হয়তো তাঁদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট বা ইন্টারনেট সংযোগে কোনও সমস্যা দেখা দিয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়, সমস্যাটি কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা অঞ্চলের নয়, বরং বিশ্বব্যাপী। বিভিন্ন দেশের ব্যবহারকারীরা একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানা যায়। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন ফেসবুক মেসেঞ্জার ব্যবহারকারীরা। বহু মানুষের ক্ষেত্রে মেসেঞ্জার অ্যাপ হঠাৎ করেই নিজে থেকে লগ আউট হয়ে যায়। কেউ আবার লগ ইন অবস্থায় থাকলেও কোনও বার্তা পাঠাতে পারছিলেন না। অনেকের ক্ষেত্রে ফেসবুকের ফিড দেখা গেলেও, নতুন কোনও পোস্ট করা সম্ভব হচ্ছিল না। ছবি, ভিডিও কিংবা স্ট্যাটাস আপলোড করার চেষ্টা করলেও তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছিল। শুধু ফেসবুকেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এই সমস্যা। একই সময়ে সমস্যার মুখে পড়ে ইনস্টাগ্রামও। ব্যবহারকারীদের একাংশ জানিয়েছেন, তাঁদের ফিড রিফ্রেশ হলেও নতুন পোস্ট আপলোড করা সম্ভব হচ্ছিল না। কেউ আবার ইনস্টাগ্রামের ডাইরেক্ট মেসেজ বা ডিএম পরিষেবা ব্যবহার করতে পারছিলেন না। ফলে ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক কাজ—সব ক্ষেত্রেই তৈরি হয় ব্যাপক অসুবিধা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম একই সংস্থা মেটার অধীনে পরিচালিত হওয়ায়, একটি প্ল্যাটফর্মে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিলে তার প্রভাব অন্য পরিষেবাতেও পড়ে। অতীতেও একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। সেই কারণেই ফেসবুকের পাশাপাশি ইনস্টাগ্রামেও একই সময়ে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার ঘটনা নতুন নয় বলেই মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বজুড়ে আচমকা থমকে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম, বিপাকে কোটি কোটি ব্যবহারকারী
হঠাৎ অচল সোশ্যাল মিডিয়া, সমস্যায় কোটি কোটি মানুষ

তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও স্বস্তির খবর ছিল হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য। কারণ, মেটার অধীনস্থ হলেও হোয়াটসঅ্যাপ পরিষেবায় কোনও বড় ধরনের সমস্যার খবর পাওয়া যায়নি। মেসেজ আদান-প্রদান, ভয়েস কল কিংবা ভিডিও কল—সবকিছুই স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। ফলে অনেকেই জরুরি যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপের উপরেই নির্ভর করেন। এদিকে বিভিন্ন ডিভাইসে সমস্যার ধরনও ছিল আলাদা। আইফোন ব্যবহারকারীদের একাংশ জানিয়েছেন, ইনস্টাগ্রামের ফিড দেখা গেলেও ডিএম পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ থেকে ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম—দুটি প্ল্যাটফর্মই অনেকের ক্ষেত্রে খুলছিল না। আবার অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনেকেই অভিযোগ করেন, তাঁদের মেসেঞ্জার অ্যাপ হঠাৎ করেই লগ আউট হয়ে গিয়েছে এবং পুনরায় লগ ইন করতেও সমস্যা হচ্ছিল। ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে সমস্যার কারণে অনেকেই বিকল্প হিসেবে ভিড় জমান এক্স প্ল্যাটফর্মে, যা আগে টুইটার নামে পরিচিত ছিল। সেখানে #FacebookDown এবং #InstagramDown হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে শুরু করেন হাজার হাজার মানুষ। কেউ স্ক্রিনশট পোস্ট করে সমস্যার কথা জানান, আবার কেউ মজার মিম তৈরি করে পরিস্থিতিকে হালকা করার চেষ্টা করেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই এই বিষয়টি বিশ্বজুড়ে ট্রেন্ডিং তালিকায় উঠে আসে। অনলাইন পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অল্প সময়ের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারী ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের সমস্যার অভিযোগ নথিভুক্ত করেন। এর ফলে পরিষেবা বিভ্রাটের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যদিও এই ঘটনার পিছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে মেটার তরফে প্রাথমিকভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া শুধুমাত্র বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং বহু মানুষের রোজগার, ব্যবসা, সংবাদ প্রচার এবং যোগাযোগের অন্যতম প্রধান ভরসা। তাই কয়েক ঘণ্টার জন্য পরিষেবা ব্যাহত হলেও তার প্রভাব পড়ে বহু ক্ষেত্রেই। কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ডিজিটাল মার্কেটিং সংস্থা, অনলাইন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবহারকারী—সকলেই এই সমস্যার কারণে কিছুটা হলেও ভোগান্তির শিকার হন। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে অনেকেই মনে করছেন, প্রযুক্তিগত এই ত্রুটি খুব দ্রুতই মেরামত করা সম্ভব হবে এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম। ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবহারকারীরা পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার আশায় অপেক্ষা করছেন। একবিংশ শতাব্দীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের জীবনের এতটাই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে যে, কয়েক ঘণ্টার সাময়িক বিভ্রাটও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। শুক্রবারের এই ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়। হঠাৎ থমকে যাওয়া ফেসবুক এবং ইনস্টাগামের কারণে আবারও সামনে এল প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বের বাস্তব চিত্র।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram