হাজার বছরের ঐতিহ্যে বিষ্ণুপুর মল্ল রাজবাড়িতে কামান দেগে দেবী মৃন্ময়ীর আগমন

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
বাঁকুড়া: বিষ্ণুপুরের রাজবাড়ি প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার ভোর থেকেই বাজল ঢোল, কাঁসর আর সানাই। মুহুর্মুহু কামান গর্জে উঠতেই ঘোষণা হল এক হাজার ঊনত্রিশ বছরের রীতিতে দেবী মৃন্ময়ীর পুজোর সূচনা। রাজা নেই, নেই রাজত্বও, তবুও কৃষ্ণা নবমীর দিনে এই প্রাচীন প্রথা আজও অটুট।রাজপুরোহিত ও রাজপরিবারের সদস্যরা এদিন সাত সকালে মাধব সায়ের পুকুরে মহাস্নান পর্ব সেরে বড় ঠাকুরানীর পট শোভাযাত্রা করে নিয়ে আসেন মৃন্ময়ী মন্দিরে। গোপাল সায়ের পাড় থেকে তোপধ্বনির মধ্যেই দেবীর আগমন ঘটে। পান পাতায় পা রেখে প্রবেশ করেন মূল মন্দিরে।মৃন্ময়ী পূজার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যও আলাদা। মল্ল রাজ পরিবারের বলীনারায়নী পুঁথি অনুযায়ী কৃষ্ণা নবমীতে মহাকালী রূপে বড় ঠাকুরানীর আগমন ঘটে। মান চতুর্থীতে আসেন মহা সরস্বতী, ষষ্ঠীতে মহা লক্ষ্মী। অষ্টমী-নবমীর রাতে হয় মহামারী দেবীর পুজো—বিশ্বাস, প্রজাদের রক্ষা করার জন্যই এই রীতি চালু হয়েছিল। অতীতে শাক্ত মতে নরবলির প্রথা থাকলেও বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষার পর সেই জায়গায় এসেছে কামানের শব্দ। ইতিহাস বলছে, ৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে বন বিষ্ণুপুরে বটগাছতলায় দেবী মৃন্ময়ীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন মল্লরাজ জগৎমল্ল। সেখান থেকেই রাজধানী স্থানান্তরিত হয় প্রদ্যুম্নপুর থেকে বিষ্ণুপুরে, শুরু হয় রাজকীয় মহাধূমধামে পুজো। আয় কমে গেছে, রাজত্বও হারিয়েছে মল্ল পরিবার, কিন্তু মৃন্ময়ী পূজোর আবেগ ও ঐতিহ্যে এক বিন্দুও ভাটা পড়েনি।একসময় এই তোপধ্বনিই ছিল গোটা রাঢ় বাংলায় দুর্গোৎসবের সময় নির্দেশক। আজও বিষ্ণুপুরবাসীর কাছে মৃন্ময়ী শুধু রাজ পরিবারের কূলদেবী নন—তিনি সমগ্র জনমানসের ভরসা, শ্রদ্ধা আর এক অটুট আবেগের নাম।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram