মাটির টানে শিল্পের প্রাণ, কুমারটুলির গর্ব মালা পাল
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
কলকাতা: কুমারটুলির সরু গলিতে মাটির গন্ধ মিশে আছে মালা পালের নিঃশ্বাসে। মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে বাবার হাত ধরে এই মৃৎশিল্পের পথে তাঁর হাতেখড়ি। সালটা ১৯৮৫—প্রথম প্রতিমা গড়ার আনন্দে ডুবে থাকতেই বাবাকে হারালেন পরের বছর। কিন্তু শিল্পের প্রতি অনুরাগ থামেনি; ১৯৮৬ সালে সরকার তাঁকে দিল্লির মিউজিয়ামে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ দেয়। সেই থেকেই শুরু এক অনন্য পথচলা, যা আজ আন্তর্জাতিক খ্যাতিতে আলোকিত। মালা পালের কাজের বিশেষত্ব সাবেকি প্রতিমা—বাঁশপাতার চোখ, সনাতনী রূপ, নিখুঁত হাতের ছোঁয়া। থিমের ঝলক নয়, বরং ঐতিহ্যই তাঁর শিল্পের প্রাণ। বৈশাখ মাস থেকে কাঠ, বাঁশ, দড়ি আর খড় দিয়ে শুরু হয় সৃষ্টির আয়োজন। তাঁর হাতে গড়া প্রতিমা আজ পৌঁছে যায় আমেরিকা, ইউক্রেনসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি কিংবা বর্ষার দিনে ত্রিপলের নিচে কাজ—সব বাধাকে আপন করে নিয়েছেন তিনি।
সরকারি সহায়তা খুব একটা না পেলেও সারা বছর কাজ করেন এবং ন্যায্য মূল্য পান নিজের শিল্পের জন্য। জাতীয় পুরস্কার পেলে গরিব মানুষের জন্য স্কুল গড়ার অঙ্গীকার করেছেন মালা। মাটির প্রতিমার জন্য থার্মোকল ব্যবহারে বাধা দেওয়ার লড়াইও চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজের পাঠশালায় হাতে-কলমে শেখাচ্ছেন নতুন প্রজন্মকে। তাঁর বিশ্বাস, “মাটির টানে”ই তৈরি হবে আগামী দিনের মৃৎশিল্পীরা। কুমারটুলি তাঁর কাছে দেবদেবীর মন্দির, আজীবন এখানেই থাকতে চান তিনি। মালা পালের বার্তা—ঘরে ঘরে উঠুক মৃৎশিল্পের প্রদীপ, বাঁচুক কুমারটুলির হাতের ছোঁয়ায় গড়া এই অমলিন ঐতিহ্য।
সরকারি সহায়তা খুব একটা না পেলেও সারা বছর কাজ করেন এবং ন্যায্য মূল্য পান নিজের শিল্পের জন্য। জাতীয় পুরস্কার পেলে গরিব মানুষের জন্য স্কুল গড়ার অঙ্গীকার করেছেন মালা। মাটির প্রতিমার জন্য থার্মোকল ব্যবহারে বাধা দেওয়ার লড়াইও চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজের পাঠশালায় হাতে-কলমে শেখাচ্ছেন নতুন প্রজন্মকে। তাঁর বিশ্বাস, “মাটির টানে”ই তৈরি হবে আগামী দিনের মৃৎশিল্পীরা। কুমারটুলি তাঁর কাছে দেবদেবীর মন্দির, আজীবন এখানেই থাকতে চান তিনি। মালা পালের বার্তা—ঘরে ঘরে উঠুক মৃৎশিল্পের প্রদীপ, বাঁচুক কুমারটুলির হাতের ছোঁয়ায় গড়া এই অমলিন ঐতিহ্য।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
