হীরাপুরের কর্মকার পরিবারের পুজোয় অতীতের হাতছানি...
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
ইতিহাসের তুলোট পাতায় বিবর্ণ হয়ে যাওয়া এক রক্ত ঝরা কাহিনী নিয়ে আজও কালো তালিকাভুক্ত হয়ে আছে যে সময়কাল, সেই ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে অস্তমিত হয়েছিল ভারতের স্বাধীনতা সূর্য ।বাঙালির খুনে রাঙা হয়েছিল ক্লাইভের খঞ্জর। ভারত মাতা শৃঙ্খলিত হওয়ার সেই কান্না ঝরা দিনগুলোতেই সূচনা হয়েছিল তৎকালীন হীরাপুর গ্রামে দেবী মহামায়ার মহাপুজোর। বর্ষপঞ্জির হিসেবে ২৬৮ বছর আগে পেরিয়ে আসা সেই অতীত কাহিনী আজও যেন জীবন্ত হয়ে আছে হীরাপুর গ্রামের কর্মকার পরিবারের সেই ঐতিহ্যমন্ডিত দেবী দুর্গার পুজোর বহিরঙ্গ জুড়ে। ঐতিহাসিক পুঁথি হাতড়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, এই কর্মকার পরিবারের তৎকালীন গৃহকর্তা নন্দলাল কর্মকার দামোদর নদে স্নান করতে গিয়ে বালুচরে কুড়িয়ে পান একটি ঘট।
ঘটটি তিনি পরম ভক্তিভরে সযতনে নিয়ে আসেন বাড়িতে। তারপর তৎকালীন পণ্ডিতদের পরামর্শে তিনি ঘটটি প্রতিষ্ঠা করেন দেবী দুর্গতিনাশিনী রূপে। ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’র নাগপাশে বন্দী ভারতমাতার যেন মুক্তি ঘটলো এই পরিবারের দেবী দুর্গতিনাশিনীর অভিষেকের মধ্য দিয়েই। দামোদর রূপী স্বয়ং নারায়ণের মহাদান সেই ঘট দেবী রূপে প্রতিষ্ঠিত হলো কর্মকার পরিবারের অলিন্দে। দেবী প্রতিমা বা মূর্তি না থাকলেও সেই ঘটকেই দেবীরূপে কল্পনা করে শুরু হল পূজার্চণা। কর্মকার পাড়ায় প্রতিষ্ঠিত প্রথম দেব মন্দির বলে দুর্গার এই মন্দিরকে ‘আদি মন্দির’ হিসেবে আজও মেনে চলা হয়। পরিবারের বর্তমান কর্তা নিমাই কর্মকার জানালেন, তাঁরা গত ৮০- ৮৫ বছর যাবৎ দেবীর মূর্তি গড়ে দুর্গার আরাধনা শুরু করেছেন। তার আগে পর্যন্ত ঘটেই মা মহামায়ার পুজো সম্পন্ন হত। এ পরিবারে মা বৈষ্ণবী। কোন পশুবধ এই পরিবারের পুজোয় হয় না। প্রতিবছর একই নিয়মে সাবেকিয়ানার ছাঁচে নির্মিত হয় দেবীর সন্তান সহ এক চালার প্রতিমা। অপরূপ ডাকের সাজে সাজানো হয় সেই একচালার দেবী প্রতিমাটি। ফলমূল, মিষ্টান্ন ইত্যাদি নৈবেদ্যর পাশাপাশি মন্দিরেই বাড়ির মহিলারা ধান থেকে তৈরি করেন এক ধরণের খই।সেই খই দেওয়া হয় দেবীর ভোগ হিসেবে। একইসঙ্গে চালগুঁড়ো দিয়ে প্রস্তুত হয় আরশে নামক বিশেষ এক ধরনের পিঠে। ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত এই একই নৈবেদ্য প্রতিদিনই দেবীর সামনে নিবেদন করা হয়। নিমাইবাবুর দাবি, এই পরিবারের প্রতিমার মধ্যে রয়েছে এক অলৌকিক বিশেষত্ব। ষষ্ঠী থেকে দশমী, প্রতিদিনই দেবীর মুখমণ্ডলে দেখা যায় ভিন্ন ভিন্ন রূপ। যাঁরা অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেবীর সেই ভুবন ভোলানো মূর্তি অবলোকন করেন, তাঁরাই কেবল দেবীর এই বদলে যাওয়া মূর্তির রূপ দেখতে পান। নিমাই বাবু বলেন, তাঁরা কর্মকার সম্প্রদায়ের হওয়া সত্ত্বেও তাঁদেরই এক পূর্বপুরুষ চন্ডি কর্মকার স্বহস্তে দেবী পূজা করতেন। তিনি যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন ব্রাহ্মণ পূজারী দ্বারা এ পরিবারের দেবীর পূজা সম্পন্ন হত না। চন্ডি কর্মকার প্রয়াত হওয়ার পর ব্রাহ্মণ পূজারীরা বৈদিক মতে দেবীর পূজার্চণা করে থাকেন। সঞ্জয় কর্মকার নামে এ পরিবারেরই বর্তমান এক সদস্য বলেন, কর্মকার বংশে রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টি শরিকী পরিবার। তাঁদের সকলের মিলিত আর্থিক আনুকূল্যে দেবী পূজার ব্যয় নির্বাহ হয়ে থাকে।
পুজোর আগেই সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা এমনকি বিদেশ থেকেও আত্মীয়রা এসে পৌঁছন এই পুজোয় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে। সেই অর্থে প্রতিবছর দেবী দুর্গার পূজা উপলক্ষে হীরাপুরের এই কর্মকার পরিবারে বসে এক মহামিলন মেলা। পরিবারের এক কিশোরী সদস্য তিতলি কর্মকার বলে, পুজো কয়েকদিন তারা রাত দিন ব্যস্ত থাকে নানান কাজে। বাড়ির মা ঠাকুমারা ধান থেকে খই তৈরি আরশে পিঠে তৈরি ইত্যাদিতে ব্যস্ত থাকেন। শুধু এ পরিবারেরই নয়, দূর দূরান্ত থেকেও বহু মানুষ এই পারিবারিক দুর্গোৎসবে এসে যোগ দেন। নিমাইবাবু জানান, তাঁদের এই মন্দির থেকেই দেবীর পূজায় ব্যবহৃত নানান উপচার দিয়ে তৈরি বিভিন্ন রোগের ওষুধ দেওয়া হয় ভক্তদের। যাঁরা ভক্তি ভ’রে দেবীর দেওয়া সেই ওষুধরূপী অনুপান গ্রহন করেন, তাঁদের শুধু রোগ মুক্তি ঘটে এমনই নয়, সন্তানহীনা নারীও সন্তানবতী হন, বহু দুরারোগ্য রোগ থেকে মুক্তি লাভ ঘটে ভক্তদের।
ঘটটি তিনি পরম ভক্তিভরে সযতনে নিয়ে আসেন বাড়িতে। তারপর তৎকালীন পণ্ডিতদের পরামর্শে তিনি ঘটটি প্রতিষ্ঠা করেন দেবী দুর্গতিনাশিনী রূপে। ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’র নাগপাশে বন্দী ভারতমাতার যেন মুক্তি ঘটলো এই পরিবারের দেবী দুর্গতিনাশিনীর অভিষেকের মধ্য দিয়েই। দামোদর রূপী স্বয়ং নারায়ণের মহাদান সেই ঘট দেবী রূপে প্রতিষ্ঠিত হলো কর্মকার পরিবারের অলিন্দে। দেবী প্রতিমা বা মূর্তি না থাকলেও সেই ঘটকেই দেবীরূপে কল্পনা করে শুরু হল পূজার্চণা। কর্মকার পাড়ায় প্রতিষ্ঠিত প্রথম দেব মন্দির বলে দুর্গার এই মন্দিরকে ‘আদি মন্দির’ হিসেবে আজও মেনে চলা হয়। পরিবারের বর্তমান কর্তা নিমাই কর্মকার জানালেন, তাঁরা গত ৮০- ৮৫ বছর যাবৎ দেবীর মূর্তি গড়ে দুর্গার আরাধনা শুরু করেছেন। তার আগে পর্যন্ত ঘটেই মা মহামায়ার পুজো সম্পন্ন হত। এ পরিবারে মা বৈষ্ণবী। কোন পশুবধ এই পরিবারের পুজোয় হয় না। প্রতিবছর একই নিয়মে সাবেকিয়ানার ছাঁচে নির্মিত হয় দেবীর সন্তান সহ এক চালার প্রতিমা। অপরূপ ডাকের সাজে সাজানো হয় সেই একচালার দেবী প্রতিমাটি। ফলমূল, মিষ্টান্ন ইত্যাদি নৈবেদ্যর পাশাপাশি মন্দিরেই বাড়ির মহিলারা ধান থেকে তৈরি করেন এক ধরণের খই।সেই খই দেওয়া হয় দেবীর ভোগ হিসেবে। একইসঙ্গে চালগুঁড়ো দিয়ে প্রস্তুত হয় আরশে নামক বিশেষ এক ধরনের পিঠে। ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত এই একই নৈবেদ্য প্রতিদিনই দেবীর সামনে নিবেদন করা হয়। নিমাইবাবুর দাবি, এই পরিবারের প্রতিমার মধ্যে রয়েছে এক অলৌকিক বিশেষত্ব। ষষ্ঠী থেকে দশমী, প্রতিদিনই দেবীর মুখমণ্ডলে দেখা যায় ভিন্ন ভিন্ন রূপ। যাঁরা অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেবীর সেই ভুবন ভোলানো মূর্তি অবলোকন করেন, তাঁরাই কেবল দেবীর এই বদলে যাওয়া মূর্তির রূপ দেখতে পান। নিমাই বাবু বলেন, তাঁরা কর্মকার সম্প্রদায়ের হওয়া সত্ত্বেও তাঁদেরই এক পূর্বপুরুষ চন্ডি কর্মকার স্বহস্তে দেবী পূজা করতেন। তিনি যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন ব্রাহ্মণ পূজারী দ্বারা এ পরিবারের দেবীর পূজা সম্পন্ন হত না। চন্ডি কর্মকার প্রয়াত হওয়ার পর ব্রাহ্মণ পূজারীরা বৈদিক মতে দেবীর পূজার্চণা করে থাকেন। সঞ্জয় কর্মকার নামে এ পরিবারেরই বর্তমান এক সদস্য বলেন, কর্মকার বংশে রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টি শরিকী পরিবার। তাঁদের সকলের মিলিত আর্থিক আনুকূল্যে দেবী পূজার ব্যয় নির্বাহ হয়ে থাকে।
পুজোর আগেই সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা এমনকি বিদেশ থেকেও আত্মীয়রা এসে পৌঁছন এই পুজোয় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে। সেই অর্থে প্রতিবছর দেবী দুর্গার পূজা উপলক্ষে হীরাপুরের এই কর্মকার পরিবারে বসে এক মহামিলন মেলা। পরিবারের এক কিশোরী সদস্য তিতলি কর্মকার বলে, পুজো কয়েকদিন তারা রাত দিন ব্যস্ত থাকে নানান কাজে। বাড়ির মা ঠাকুমারা ধান থেকে খই তৈরি আরশে পিঠে তৈরি ইত্যাদিতে ব্যস্ত থাকেন। শুধু এ পরিবারেরই নয়, দূর দূরান্ত থেকেও বহু মানুষ এই পারিবারিক দুর্গোৎসবে এসে যোগ দেন। নিমাইবাবু জানান, তাঁদের এই মন্দির থেকেই দেবীর পূজায় ব্যবহৃত নানান উপচার দিয়ে তৈরি বিভিন্ন রোগের ওষুধ দেওয়া হয় ভক্তদের। যাঁরা ভক্তি ভ’রে দেবীর দেওয়া সেই ওষুধরূপী অনুপান গ্রহন করেন, তাঁদের শুধু রোগ মুক্তি ঘটে এমনই নয়, সন্তানহীনা নারীও সন্তানবতী হন, বহু দুরারোগ্য রোগ থেকে মুক্তি লাভ ঘটে ভক্তদের।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
