হাওড়ায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলি- লুট !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
হাওড়া : সাঁকরাইল থানার অন্তর্গত রানিহাটি পুরাতন বাজার এলাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে দুঃসাহসিক ছিনতাই ও গুলি চালনার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকার ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ। অভিযোগ, স্বর্ণ ও রুপোর গয়নাভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে আগে থেকেই ওৎ পেতে ছিল দুষ্কৃতীরা। বাধা দিতে গেলে ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয়। যদিও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান ওই ব্যবসায়ী। জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ব্যবসায়ীর নাম চন্দন কাঁড়ার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রানিহাটি পুরাতন বাজার এলাকায় স্বর্ণ ও রুপোর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। রাত প্রায় ৯টা ২০ মিনিট নাগাদ দোকানের কাজ শেষ করে বাইকে চেপে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নেন। সেই সময়ই ঘটে যায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ব্যবসায়ীর অভিযোগ, কয়েকজন দুষ্কৃতী আগে থেকেই তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখছিল। তিনি দোকান থেকে বের হতেই আচমকা তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। পিঠে থাকা গয়নার ব্যাগ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। হঠাৎ এই হামলায় প্রথমে কিছুটা হতভম্ব হয়ে পড়লেও নিজের জিনিস বাঁচানোর জন্য প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন চন্দনবাবু। আর তাতেই আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয়। যদিও ভাগ্যক্রমে গুলি তাঁর শরীরে না লাগলেও একটি গুলি তাঁর বাইকের সামনের অংশে আঘাত করে। গুলির শব্দে মুহূর্তের মধ্যেই গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে আসতে শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে দুষ্কৃতীরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনটি মোটরবাইকে চেপে মোট কয়েকজন দুষ্কৃতী জাতীয় সড়কের দিকে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি এতটাই দ্রুত ঘটে যে কেউ তাদের আটকানোর সুযোগ পাননি। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন।
হাওড়ায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলি- লুট !
গয়নার ব্যাগ ছিনতাইয়ে গুলি, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী

আক্রান্ত ব্যবসায়ী চন্দন কাঁড়ারের দাবি, দুষ্কৃতীরা যে ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়েছে, তার মধ্যে প্রায় ২০০ গ্রাম সোনার গয়না, ৭ থেকে ৮ কেজি রুপোর সামগ্রী এবং নগদ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ছিল। সব মিলিয়ে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি লুট হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তিনি গভীরভাবে আতঙ্কিত এবং দ্রুত দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সাঁকরাইল থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। কোথা থেকে দুষ্কৃতীরা এসেছিল, কীভাবে তারা পালিয়ে গেল এবং এর পিছনে কোনও বড় অপরাধচক্র জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। দুষ্কৃতীদের গতিবিধি এবং ব্যবহৃত মোটরবাইকের নম্বর শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন প্রবেশ ও বেরোনোর রাস্তার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব দ্রুত অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলেই আশাবাদী তদন্তকারী আধিকারিকরা। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে। তাঁদের অভিযোগ, বাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক চুরি, ছিনতাই ও অপরাধমূলক ঘটনার কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই রাতের সময় অতিরিক্ত পুলিশি টহল এবং বাজার এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর দাবি তুলেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশেরও অভিযোগ, পরিকল্পনা করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। কারণ দুষ্কৃতীরা আগে থেকেই ব্যবসায়ীর গতিবিধি সম্পর্কে অবগত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে এর পিছনে কোনও পরিচিত ব্যক্তি বা সংগঠিত অপরাধচক্র জড়িত রয়েছে কিনা, সেই দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে পুলিশ। শনিবার রাতের এই দুঃসাহসিক ছিনতাই এবং গুলিচালনার ঘটনায় গোটা রানিহাটি পুরাতন বাজার এলাকা জুড়ে চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখন সকলের নজর পুলিশের তদন্তের দিকে। কবে ধরা পড়বে অভিযুক্তরা এবং লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ সোনা, রুপো ও নগদ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হবে কিনা, সেটাই দেখার। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram