This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
বোলপুর : ভোটের ফল ঘোষণার প্রহর গোনা চলছে, আর তার আগেই ফের রাজনৈতিক উত্তেজনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল বীরভূমের বোলপুর। নির্বাচন পর্ব শেষ হলেও উত্তেজনার পারদ যে এখনও কমেনি, তারই প্রমাণ মিলল শনিবার গভীর রাতের ঘটনায়। নানুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী খোকন দাসের গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাজুড়ে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর তরজা। ঘটনাটি ঘটেছে বোলপুর থানার অন্তর্গত ডাকবাংলো মাঠ সংলগ্ন এলাকায়। শনিবার গভীর রাতে আচমকাই একদল দুষ্কৃতী বিজেপি প্রার্থী খোকন দাসের গাড়ির উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় তাঁর গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়, পাশাপাশি গাড়ির একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও এই হামলায় তিনি শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে, তবুও ঘটনাটি ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। খোকন দাস নিজে জানান, শনিবার রাতে তিনি বোলপুর কলেজে অবস্থিত স্ট্রং রুমের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেই কারণেই তিনি সেখানে যান বলে দাবি করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি যখন ফেরার পথে ছিলেন, তখনই ডাকবাংলো মাঠের কাছে তাঁর গাড়ির পথ আটকানো হয়। অভিযোগ, মুহূর্তের মধ্যেই কয়েকজন দুষ্কৃতি লাঠিসোঁটা, ইট ও পাথর নিয়ে গাড়ির উপর হামলা চালায়। আচমকা এই আক্রমণে গাড়ির সামনের কাঁচ ভেঙে যায় এবং গাড়ির অন্যান্য অংশেও ব্যাপক ক্ষতি হয়। গাড়ির ভিতরে থাকা খোকন দাস ও তাঁর সহযাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। যদিও কোনওরকমে তাঁরা পরিস্থিতি সামাল দেন এবং পরবর্তীতে পুলিশের হস্তক্ষেপে নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হন। এই ঘটনায় সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা। স্ট্রং রুম পরিদর্শন করে ফেরার সময় তাঁকে লক্ষ্য করেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর আরও দাবি, তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরাই এই হামলার সঙ্গে জড়িত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
স্ট্রং রুম দেখে ফেরার পথে হামলা বিজেপি প্রার্থীর গাড়িতে, বোলপুরে চাঞ্চল্য—তৃণমূলের দিকে অভিযোগ, পাল্টা অস্বীকার
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বোলপুর থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপর হয়ে ওঠেন পুলিশ আধিকারিকরা। আক্রান্ত প্রার্থীকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে পুলিশ। গোটা এলাকায় বাড়ানো হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যাতে আর কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে হামলাকারীদের শনাক্ত করা যায়। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে। এই ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে একাধিক দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে বিজেপির অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনওরকম যোগ নেই। তাদের বক্তব্য, বিজেপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং রাজনৈতিক সহানুভূতি আদায়ের উদ্দেশ্যেই এই ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তারা এই ঘটনাকে ‘নাটক’ বলেও কটাক্ষ করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বোলপুর তথা বীরভূমের রাজনৈতিক পরিবেশ আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ভোটের ফল ঘোষণার আগে এমন ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে প্রশাসনের। কারণ এই সময়ে যে কোনও ধরনের উত্তেজনা বড় আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এই ঘটনাকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরও যদি এই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। আবার কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক টানাপোড়েনেরই অংশ বলে মনে করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনওরকম অশান্তি যাতে না ছড়ায়, তার জন্য সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে বিজেপি এই ঘটনাকে তুলে ধরে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পাল্টা বিজেপির বিরুদ্ধেই অভিযোগ আনছে। ফলে ভোটের ফল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সব মিলিয়ে, বোলপুরের এই ঘটনায় স্পষ্ট যে নির্বাচন পর্ব শেষ হলেও রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনও প্রশমিত হয়নি। এখন দেখার, পুলিশের তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে এবং এই ঘটনার প্রকৃত সত্য কতটা উদঘাটিত হয়। পাশাপাশি ভোটের ফল ঘোষণার দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা—আর তার মাঝেই এই ধরনের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।