আগ্নেয়াস্ত্র-কার্তুজ সহ ধৃত ১ !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
নানুর : বীরভূম জেলার নানুর থানা এলাকায় পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হল একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১৮ রাউন্ড কার্তুজ। এই ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে নানুর থানার পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস এবং এর সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে আসে তদন্তকারীদের। সেই তথ্যের ভিত্তিতে নানুর থানার পুলিশ বাসাপাড়া এলাকার দান্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় আলাউদ্দিনের বক্তব্যে অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন তদন্তকারীরা। এরপর আরও বিস্তারিত জেরার সময় তাঁর বাড়িতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং কার্তুজ মজুত থাকার তথ্য সামনে আসে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। এরপর আর দেরি না করে পুলিশ আলাউদ্দিন শেখকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় একটি ৩৬ ইঞ্চি লম্বা ডাবল-ব্যারেল আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১৮ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধারের পরই অভিযুক্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিতভাবে অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃতকে আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে, যাতে তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা যায়। তদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত কি না? যদি না হয়, তবে অস্ত্রটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে? কারা এই অস্ত্র সরবরাহ করেছে? কতদিন ধরে সেটি বাড়িতে রাখা ছিল? এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এই অস্ত্র কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হয়েছে কি না বা ভবিষ্যতে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল কি না—সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রটি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হতে পারে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে দেখবেন, অস্ত্রটি কার্যক্ষম কি না এবং অতীতে কোনও অপরাধে এটি ব্যবহার করা হয়েছে কি না। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া ১৮ রাউন্ড কার্তুজও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। তদন্তকারীরা ধৃত আলাউদ্দিন শেখের অতীত রেকর্ডও খতিয়ে দেখছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আগে কোনও অপরাধমূলক মামলা রয়েছে কি না, কোনও অপরাধচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না অথবা অন্য কোনও জেলার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে কি না, সেই বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
আগ্নেয়াস্ত্র-কার্তুজ সহ ধৃত ১ !
নানুরে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৮ রাউন্ড কার্তুজ, গ্রেফতার এক

এছাড়াও তাঁর মোবাইল ফোনের কল ডিটেলস, যোগাযোগের তালিকা এবং সাম্প্রতিক গতিবিধিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। প্রয়োজনে ডিজিটাল ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিয়ে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসও পরীক্ষা করা হতে পারে। তদন্তকারীদের ধারণা, শুধুমাত্র একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের মধ্যেই তদন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে না। অস্ত্রটি কোনও বৃহত্তর চক্রের মাধ্যমে এসেছে কি না, আন্তঃজেলা বা আন্তঃরাজ্য অস্ত্র পাচারচক্রের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। পুলিশ আরও জানতে চাইছে, অভিযুক্ত একাই এই অস্ত্র সংরক্ষণ করছিলেন, নাকি এর সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে। যদি অন্য কোনও ব্যক্তি বা সংগঠিত চক্রের নাম সামনে আসে, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গভীর রাতে পুলিশের এই অভিযানে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে অভিযানের সময় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ গোটা এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে রেখে তল্লাশি অভিযান সম্পন্ন করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। তাঁদের বক্তব্য, অবৈধ অস্ত্র সমাজের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তাই এই ধরনের অস্ত্র উদ্ধার এবং এর উৎস চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও এলাকা থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হলে শুধু অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করাই যথেষ্ট নয়। এর সরবরাহ শৃঙ্খল, অর্থের লেনদেন, সম্ভাব্য ক্রেতা এবং ব্যবহারকারীদেরও শনাক্ত করা প্রয়োজন। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই একটি অস্ত্র উদ্ধারের সূত্র ধরে বড় অপরাধচক্রের সন্ধান মিলেছে। এই ঘটনাতেও একইভাবে তদন্ত এগোচ্ছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রটি কেবল ব্যক্তিগতভাবে রাখা হয়েছিল, নাকি কোনও অপরাধমূলক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তা মজুত করা হয়েছিল। তবে এখনও পর্যন্ত পুলিশ কোনও বড় অপরাধচক্রের সঙ্গে এই ঘটনার সরাসরি যোগ থাকার কথা নিশ্চিত করেনি। তদন্তের স্বার্থে একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ সংগ্রহ, ফরেন্সিক রিপোর্ট এবং জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এখন নজর আদালতের দিকে। ধৃত আলাউদ্দিন শেখকে কত দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয় এবং জেরায় কী কী নতুন তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে তদন্তকারী মহল। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস এবং সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়েও তদন্ত এগিয়ে চলেছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও একইভাবে কড়া অভিযান চলবে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে কোনও ধরনের বেআইনি অস্ত্র মজুত বা পাচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে এই মামলায় আরও নতুন তথ্য এবং সম্ভাব্য নতুন নাম সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram