This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
নদিয়া : ৪ঠা মে, অর্থাৎ সোমবার—রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ। তার আগেই নদীয়ার বাজারে ধরা পড়ছে এক অন্য ছবি, যেখানে রাজনীতির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে রঙের মাধ্যমে। গ্রাম থেকে শহর—সব জায়গাতেই এখন একটাই চিত্র, সবুজ ও গেরুয়া আবির কেনার হিড়িক পড়েছে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। ভোটের ফল ঘোষণার আগেই যেন উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে, আর সেই উৎসবের রং নির্ধারণ করছে রাজনৈতিক আনুগত্য। নদীয়ার রানাঘাট কলেজে গড়ে তোলা হয়েছে স্ট্রংরুম, যেখানে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে ইভিএমগুলি। এই ইভিএমেই বন্দী রয়েছে প্রার্থীদের ভাগ্য। বাইরে যখন এই ‘ভাগ্যবন্দী’ পরিস্থিতি, তখনই খোলা বাজারে চলছে রঙের এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতা। ব্যবসায়ীদের কথায়, এবারের নির্বাচনে সবুজ ও গেরুয়া আবিরের চাহিদা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি। রানাঘাটের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলিতে ইতিমধ্যেই মজুত করে রাখা হয়েছে বিপুল পরিমাণ সবুজ ও গেরুয়া আবির। দোকানিরা জানাচ্ছেন, গত কয়েকদিনে বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ। কেউ কেউ আবার আগাম স্টক শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নতুন করে আবির আনাচ্ছেন। তাদের মতে, ফল ঘোষণার দিন যেই দল জিতবে, তাদের সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে আবির খেলায় মেতে উঠবেন—এই প্রত্যাশা থেকেই এত চাহিদা। তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকদের মধ্যে সবুজ আবিরের চাহিদা চোখে পড়ার মতো। দলের রঙের সঙ্গে মিল রেখে সবুজ আবির কিনে রাখছেন তারা। অন্যদিকে, বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে গেরুয়া আবির কেনার প্রবণতা স্পষ্ট। গেরুয়া রঙ যেন তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ফলে, বাজারে এই দুই রঙের প্রতিযোগিতা কার্যত রাজনৈতিক লড়াইয়েরই প্রতিফলন। তবে এই রঙের লড়াইয়ে একেবারেই পিছিয়ে পড়েছে লাল আবির। একসময় বামপন্থী রাজনীতির প্রতীক হিসেবে লাল রঙের চাহিদা ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু এবারের বাজারচিত্রে সেই লাল রঙ প্রায় অনুপস্থিত। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, লাল আবিরের বিক্রি খুবই কম, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। অনেকেই এটিকে ভোটের সম্ভাব্য ফলাফলের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন, যদিও বাস্তব চিত্র জানা যাবে ফল ঘোষণার দিনই।
ফল ঘোষণার আগে নদীয়ার বাজারে ‘রঙের রাজনীতি’, সবুজ-গেরুয়ায় তুঙ্গে আবিরের লড়াই
উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল রাজ্যের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। এখন সবার নজর ৪ঠা মে-র দিকে। নদীয়ার ১৭টি বিধানসভা আসনে কোন দল কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তা নিয়ে চলছে জোর চর্চা। রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে সাধারণ মানুষ—সবাই এখন অপেক্ষায়, কোন রঙে রাঙবে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র। রানাঘাটের প্রাচীন বাজারগুলিতে গিয়ে দেখা গেছে, শুধু আবির নয়, পতাকা, ব্যানার, ঢাক-ঢোল—সব কিছুই প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, ফল ঘোষণার দিন সকাল থেকেই বাড়বে বিক্রি। বিশেষ করে দুপুরের পর যখন ফলাফল পরিষ্কার হতে শুরু করবে, তখনই বাজারে ভিড় বাড়বে বলে তারা মনে করছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। কারণ, ফল ঘোষণার পর অনেক সময় উচ্ছ্বাস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই বাজার এলাকাগুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ করে যেখানে ভিড় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা, সেইসব এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হবে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই আবির কেনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক ধরনের উৎসবের আবহ। অনেকেই বলছেন, ভোট মানেই গণতন্ত্রের উৎসব, আর তার ফলাফল ঘোষণাও এক বড় মুহূর্ত। সেই মুহূর্তকে রঙের মাধ্যমে উদযাপন করতে চান তারা। তবে অনেকেই আবার সতর্কবার্তাও দিচ্ছেন—উচ্ছ্বাস যেন কখনোই হিংসার রূপ না নেয়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে আবিরের এই বাড়তি চাহিদা শুধুমাত্র ব্যবসায়িক নয়, এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক মনস্তত্ত্বেরও প্রতিফলন। মানুষ আগাম নিজেদের জয়ের সম্ভাবনা ধরে নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মধ্যে যেমন রয়েছে আত্মবিশ্বাস, তেমনই রয়েছে প্রতিযোগিতার মানসিকতা। সব মিলিয়ে, ফল ঘোষণার আগেই নদীয়ার বাজারে শুরু হয়ে গিয়েছে রঙের রাজনীতি। সবুজ ও গেরুয়ার এই প্রতিযোগিতা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গিয়ে থামবে, তা জানা যাবে সোমবার। তবে তার আগেই স্পষ্ট—বাংলার রাজনৈতিক আবহ এখন রঙে রঙিন, আর সেই রঙই যেন বলছে আগামীর গল্প। এখন শুধু অপেক্ষা, কোন রঙে রাঙবে বাংলার ভবিষ্যৎ।