তৃণমূলের কার্যালয়ে উদ্ধার মেয়েদের মাথার চুল ও কনডম !

যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আসেনি। এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেত্রী ডোনা বসাক অভিযোগ করেন, এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছিল। তাঁর দাবি, বিভিন্ন ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ পরিচালনার ক্ষেত্র হিসেবেও ওই কার্যালয় ব্যবহার করা হত। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ নাকি দীর্ঘদিন ধরেই এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। ডোনা বসাক আরও দাবি করেন, শুধু একটি নয়, এলাকায় অবৈধভাবে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের মোট তিনটি দলীয় কার্যালয় ভেঙে ফেলা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সরকারি বা অনুমোদিত জমির বাইরে বেআইনিভাবে এই কার্যালয়গুলি গড়ে তোলা হয়েছিল। তাই সেগুলি সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার পর থেকেই ফুলিয়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে প্রশাসন। যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় পুলিশি নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। একদিকে বিজেপির তরফে একাধিক অভিযোগ সামনে আনা হলেও অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের রাজনীতির মাঝেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের ঘটনাগুলি আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব পেতে পারে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত ঘটনা সামনে আনতে প্রশাসনিক তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করছেন অনেকে। এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। অনেকেই পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আবার অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেই বিষয়টিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, ফুলিয়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় ঘিরে ওঠা এই বিতর্ক নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। এখন সকলের নজর প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়ার দিকেই।
