অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ঘিরে উত্তেজনা, বিক্ষোভ !

সিটু নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শ্রমজীবী এবং নিম্ন আয়ের বহু পরিবার এই এলাকায় বসবাস করেন। তাঁদের পক্ষে একদিনে নতুন করে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া সম্ভব নয়। ফলে প্রশাসনের উচিত ছিল মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সমস্যার সমাধান করা। বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার আগে এলাকাবাসীদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি। কোনও নোটিশ বা সচেতনতা প্রচার ছাড়াই হঠাৎ করে সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ কার্যত বিপাকে পড়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছায় পুলিশ। পাশাপাশি প্রশাসনের আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে আসেন। উত্তেজিত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়ে ওঠে, তার জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবেই হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীদের অভিযোগ এবং দাবিগুলি খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এদিকে সিটু নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শুধুমাত্র আশ্বাসে তাঁরা সন্তুষ্ট নন। দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে হবে। বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে স্থায়ী সমাধান না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, তাঁরা কোনও সংঘাত চান না। কিন্তু বিদ্যুতের মতো মৌলিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে চুপ করে বসেও থাকতে পারবেন না। তাই সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে আন্দোলন আরও জোরদার হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁরা। অন্যদিকে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। বিদ্যুৎ চুরি রোধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় বলে মনে করছে প্রশাসন। কারণ অবৈধ সংযোগের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থেকে যায়। তবে প্রশাসনের একাংশও মনে করছে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যার দিকটিও বিবেচনা করা জরুরি। ফলে কীভাবে দ্রুত বৈধ সংযোগের আওতায় মানুষকে আনা যায়, সেই বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। বর্তমানে খান্দরা এলাকার পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও অসন্তোষ পুরোপুরি কাটেনি। এলাকাবাসী এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন। তাঁদের একটাই দাবি—যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করতে হবে। অন্ডালের নাগ কোলিয়ারির এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও উঠে এল উন্নয়ন, পরিষেবা এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন। একদিকে অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সংকট—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে করা হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
