This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
অন্ডাল : সোমবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অন্ডালের সিদুলি কোলিয়ারির সাইডিং চত্বর। ডিও কয়লা লোডিংয়ের কাজে শ্রমিকদের পরিবর্তে মেশিন ব্যবহারের প্রতিবাদে একজোট হন বহু শ্রমিক। বিক্ষোভ, স্লোগান এবং প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে তাঁরা তাঁদের ক্ষোভ উগরে দেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, একসময় সিদুলি-সহ খনি এলাকার বিভিন্ন সাইডিংয়ে ডিও কয়লা লোডিংয়ের কাজ সম্পূর্ণভাবে শ্রমিকদের মাধ্যমেই সম্পন্ন হতো। বছরের পর বছর ধরে বহু পরিবার এই কাজের উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেছে। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই জায়গা দখল করেছে যন্ত্র। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমানে কয়লা লোডিংয়ের অধিকাংশ কাজই মেশিনের মাধ্যমে করা হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এই কাজে যুক্ত শ্রমিকদের আর কাজে ডাকা হচ্ছে না। কাজ হারিয়ে কার্যত চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন তাঁরা। বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত শ্রমিক বিকাশ হরিজন জানান, তিনি প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে ডিও কয়লা লোডিংয়ের কাজ করে সংসার চালিয়েছেন। শুধু তিনি নন, তাঁর মতো প্রায় ৪০ জন শ্রমিক এই কাজের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। হঠাৎ করেই মেশিনে লোডিং শুরু হওয়ায় তাঁদের নিয়মিত কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁর কথায়, প্রতিদিনের আয়ের উপর নির্ভর করেই সংসার চলত। এখন কাজ না থাকায় পরিবারের ভরণপোষণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ—সবকিছুই অনিশ্চয়তার মুখে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে তাঁদের আপত্তি নেই। কিন্তু মেশিনের কারণে যদি শ্রমিকদের কাজ সম্পূর্ণভাবে কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে শতাধিক মানুষের জীবিকা বিপন্ন হয়ে পড়বে। তাই অন্তত ডিও কয়লা লোডিংয়ের কাজে শ্রমিকদেরও সুযোগ দিতে হবে।
১০ বছরের কাজ বন্ধ, সিদুলি সাইডিংয়ে বিক্ষোভে শ্রমিকরা
শ্রমিকদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়েই তাঁরা আন্দোলনের পথে নেমেছেন। বিক্ষোভের জেরে কিছু সময়ের জন্য সাইডিং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় অন্ডাল থানার উখড়া ফাঁড়ির পুলিশ। পুলিশ পরিস্থিতির উপর নজর রাখে এবং শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আবেদন জানায়। শ্রমিকদের স্পষ্ট দাবি, ইসিএল কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসুক এবং পুনরায় কাজে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করুক। অন্যথায় আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি পূরণ না হলে শুধু বিক্ষোভ নয়, প্রয়োজনে অনশনেও বসবেন তাঁরা। পাশাপাশি বৃহত্তর গণআন্দোলনের ডাক দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন শ্রমিক প্রতিনিধিরা। তাঁদের বক্তব্য, কয়লা শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেই প্রযুক্তির কারণে যদি বহু শ্রমিকের জীবিকা কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে তার সামাজিক প্রভাব অত্যন্ত গুরুতর হবে। তাই শ্রমিক ও প্রযুক্তির মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার দাবি তুলেছেন তাঁরা। অন্যদিকে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ইসিএল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ডিও কয়লা লোডিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত টেন্ডার হোল্ডার সংস্থার পক্ষ থেকেও কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ফলে শ্রমিকদের দাবি নিয়ে কর্তৃপক্ষের অবস্থান কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এখন নজর, আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার কোনও সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসে কি না। স্থানীয়দের একাংশের মতে, কয়লাঞ্চলের বহু পরিবার এখনও এই ধরনের দৈনিক মজুরিভিত্তিক কাজের উপর নির্ভরশীল। তাই হঠাৎ করে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের জীবন-জীবিকায় বড়সড় প্রভাব পড়েছে। এদিকে আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, তাঁদের আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তাঁরা শুধুমাত্র নিজেদের ন্যায্য কাজ ফিরে পেতে চান। যতদিন পর্যন্ত কোনও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না আসছে, ততদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁরা।