This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
অন্ডাল : ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক দখলমুক্ত করতে বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করল জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। শনিবার অন্ডালের কাজোরা মোড় থেকে অন্ডাল মোড়ের মাঝামাঝি এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। জাতীয় সড়কের উপর এবং রাস্তার একেবারে সংলগ্ন অংশে থাকা একাধিক অনুমোদনহীন নির্মাণ ভেঙে সরিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় রাস্তার উপর এবং রাস্তার লাগোয়া অংশে বেশ কিছু অবৈধ নির্মাণ তৈরি হয়েছিল। এর ফলে জাতীয় সড়কের স্বাভাবিক পরিসর ক্রমশ কমে যাচ্ছিল। পাশাপাশি ব্যস্ত এই সড়কে যান চলাচলেও তৈরি হচ্ছিল সমস্যা। রাস্তার একটি বড় অংশ দখল হয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল এবং অনেক সময় সংকীর্ণ অংশ দিয়ে গাড়ি চলাচল করতে হচ্ছিল। বিশেষ করে পণ্যবাহী ট্রাক এবং বড় যানবাহন চলাচলের সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছিল বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের আধিকারিকদের বক্তব্য, রাস্তার স্বাভাবিক পরিসর কমে গেলে শুধু যানজটের সমস্যাই তৈরি হয় না, দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যায়। কারণ ব্যস্ত জাতীয় সড়কে প্রতিদিন অসংখ্য ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে। তার উপর রাস্তার পাশে বেআইনি নির্মাণ বা দখল থাকলে গাড়িচালকদের চলাচলের জায়গা কমে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে দৃশ্যমানতাতেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। ফলে পথচারী থেকে শুরু করে সাধারণ গাড়িচালক এবং পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের জন্যও তৈরি হয় বাড়তি ঝুঁকি। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের তরফে রাস্তা দখলমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই অন্ডালের কাজোরা মোড় থেকে অন্ডাল মোড়ের মাঝামাঝি এলাকায় শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে চিহ্নিত করা হয় রাস্তার উপর এবং রাস্তার সংলগ্ন অংশে থাকা অনুমোদনহীন নির্মাণগুলি। এরপর প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সেগুলি ভেঙে সরিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে থাকা একাধিক নির্মাণের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে। ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক শিল্পাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। দুর্গাপুর, অন্ডাল, রানিগঞ্জ-সহ শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই রাস্তার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাত্রীবাহী গাড়ি, বাস, ছোট গাড়ির পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করে। শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানা এবং ব্যবসায়িক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এই রাস্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই জাতীয় সড়কের উপর কোনও ধরনের বেআইনি দখল বা অনুমোদনহীন নির্মাণ থাকলে তার প্রভাব সরাসরি যান চলাচলের উপর পড়ে।
অন্ডালে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে উচ্ছেদ অভিযান ! ভাঙল একাধিক অবৈধ নির্মাণ
কর্তৃপক্ষের দাবি, অন্ডালের ওই অংশেও দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার উপর এবং রাস্তার একেবারে গা ঘেঁষে একাধিক নির্মাণ তৈরি হয়েছিল। এর ফলে রাস্তার ব্যবহারযোগ্য অংশ সংকুচিত হয়ে পড়ছিল। যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনেক সময় গাড়িগুলিকে রাস্তার এক অংশ থেকে অন্য অংশে যেতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল। বিশেষ করে মুখোমুখি বড় গাড়ি এলে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতি ভবিষ্যতে বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। তাই কোনও ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে আগেভাগেই রাস্তা দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিনের অভিযানে একাধিক অনুমোদনহীন নির্মাণ ভেঙে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় সড়কের স্বাভাবিক পরিসর ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, জাতীয় সড়কের নির্দিষ্ট জমি বা সীমানার মধ্যে কোনও অনুমোদনহীন নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না। রাস্তার জমি দখল করে কোনও স্থাপনা তৈরি হলে তা সরিয়ে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে নতুন করে কেউ রাস্তার জমি দখল করতে না পারে, সেদিকেও নজরদারি চালানো হবে বলে সূত্রের খবর। তবে এই অভিযানকে ঘিরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে যদি রাস্তার উপর এবং সংলগ্ন অংশে এই ধরনের নির্মাণ থেকে থাকে, তাহলে এতদিন সেগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন? স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, রাস্তার ধারে দখল এবং নির্মাণের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই নজরে ছিল। কিন্তু এবার জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সরাসরি অভিযান চালিয়ে সেই দখল সরানোর উদ্যোগ নিয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের আশা, এই অভিযান যদি ধারাবাহিকভাবে চালানো হয়, তাহলে অন্ডাল এলাকার যান চলাচল আরও স্বাভাবিক হবে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কাও অনেকটাই কমবে। তবে শুধু একদিন অভিযান চালিয়ে কয়েকটি নির্মাণ ভেঙে দিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না বলেও মনে করছেন অনেকে। কারণ উচ্ছেদের পর ফের যদি একই জায়গায় নতুন করে দখল তৈরি হয়, তাহলে পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। তাই নিয়মিত নজরদারি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযান চালানোর দাবি উঠছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দিনেও প্রয়োজন অনুযায়ী এই ধরনের অভিযান চালানো হবে। জাতীয় সড়কের উপর বা সংলগ্ন অংশে থাকা অনুমোদনহীন নির্মাণগুলি চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সেগুলি সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য কোনও ব্যক্তি বা ব্যবসায়ীর ক্ষতি করা নয়, বরং জাতীয় সড়কের স্বাভাবিক পরিসর ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা। কারণ একটি ব্যস্ত জাতীয় সড়কে রাস্তার প্রতিটি অংশ সঠিকভাবে ব্যবহারযোগ্য থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তার পরিসর স্বাভাবিক থাকলে যানবাহন সহজে চলাচল করতে পারে, যানজট কমে এবং চালকদেরও গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে সুবিধা হয়। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলের মতো এলাকায় যেখানে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ভারী যানবাহন চলাচল করে, সেখানে রাস্তার উপর বা রাস্তার পাশে কোনও ধরনের অবৈধ দখল বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সেই ঝুঁকি কমাতেই এদিনের অভিযান বলে জানিয়েছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। এখন প্রশ্ন, শনিবারের এই উচ্ছেদ অভিযান কি শুধুই একটি দিনের পদক্ষেপ, নাকি ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ককে পুরোপুরি দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে শুরু হল আরও বড় অভিযান? আগামী দিনে অন্ডাল থেকে শুরু করে জাতীয় সড়কের অন্যান্য অংশেও কি একই ধরনের অভিযান চালানো হবে? সেদিকেই এখন নজর থাকবে। তবে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপে অন্তত অন্ডালের ওই অংশে রাস্তার স্বাভাবিক পরিসর ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। রাস্তা দখলমুক্ত হলে যান চলাচল আরও স্বাভাবিক হবে, দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমবে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও নিরাপদ হবে—এমনটাই আশা স্থানীয়দের। আর আগামী দিনে এই উচ্ছেদ অভিযান কতটা ধারাবাহিক হয়, নতুন করে যাতে রাস্তার উপর কোনও দখল তৈরি না হয় এবং ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক কতটা নিরাপদ ও স্বাভাবিক রাখা যায়, এখন সেটাই দেখার।