হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল ECL-র জলট্যাংকি !

তবুও স্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে বারবার অস্থায়ী মেরামত করে ট্যাংকিটিকে ব্যবহার করা হচ্ছিল। শ্রমিক সংগঠনগুলির বক্তব্য, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। কিন্তু সেই ক্ষেত্রে যথেষ্ট গাফিলতি হয়েছে বলেই তাঁদের অভিযোগ। তাঁরা অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দ্রুত নতুন একটি আধুনিক জলট্যাংকি নির্মাণের দাবিও তুলেছেন। কারণ, পানীয় জলের পরিষেবা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে ধসে পড়া ট্যাংকির চারপাশের এলাকা ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়েছে। কেউ যাতে ধ্বংসস্তূপের কাছে যেতে না পারেন, সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজও শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনার বিষয়ে ইসিএল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে। কাঠামোর অতিরিক্ত পুরনো হয়ে যাওয়া, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, নাকি অন্য কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি—কী কারণে এই বিপর্যয় ঘটল, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পাঞ্চলে বহু পুরনো পরিকাঠামো এখনও ব্যবহৃত হচ্ছে। সময়মতো সেগুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা ‘স্ট্রাকচারাল অডিট’ না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই শুধু এই একটি ঘটনার তদন্ত নয়, শিল্পাঞ্চলের অন্যান্য পুরনো জলট্যাংকি, ভবন এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোরও জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তা পরীক্ষা করার দাবি উঠছে। এদিকে আহত দুই কর্মীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন সহকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। একইসঙ্গে সকলের একটাই দাবি—এই ঘটনার প্রকৃত কারণ সামনে আসুক এবং ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও শ্রমিক বা সাধারণ মানুষ এ ধরনের দুর্ঘটনার শিকার না হন, তার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। অন্ডালের শ্যামসুন্দরপুর কোলিয়ারির এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, শিল্পাঞ্চলের পুরনো পরিকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি। কারণ, সামান্য অবহেলাও কখনও কখনও বড়সড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে। এখন সকলের নজর তদন্তের দিকে। তদন্তে কী উঠে আসে এবং ইসিএল ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেটাই দেখার।
