অটোতে EVM বহন ঘিরে কুলতলীতে বিক্ষোভ !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দঃ ২৪ পরগনা : কুলতলীতে গভীর রাতে হঠাৎ করেই তৈরি হল তীব্র চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক উত্তেজনা। নির্বাচন পর্ব ঘিরে যখন গোটা রাজ্যেই নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি রয়েছে, ঠিক সেই সময় একটি EVM মেশিন পরিবহনকে কেন্দ্র করে উঠল একাধিক প্রশ্ন। ঘটনাটি ঘটেছে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে, যা পরিস্থিতিকে আরও রহস্যজনক করে তোলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গভীর রাতে একটি অটো রিকশায় করে Electronic Voting Machine বা EVM মেশিন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সাধারণত এই ধরনের সংবেদনশীল সামগ্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে কড়া নিরাপত্তা ও নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে চলার কথা। কিন্তু অভিযোগ, সেই নিয়ম মানা হয়নি। কোনও দৃশ্যমান নিরাপত্তা ছাড়াই একটি সাধারণ অটোতে করে EVM স্থানান্তরের এই ঘটনাই প্রথমে সন্দেহের সৃষ্টি করে। ঘটনাটি নজরে আসতেই স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন। মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। অটোটিকে ঘিরে শুরু হয় বিক্ষোভ, এবং পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এইভাবে গোপনে ইভিএম সরানো অত্যন্ত সন্দেহজনক এবং এর পেছনে ইভিএম বদলের মতো গুরুতর চক্রান্ত থাকতে পারে। বিজেপি কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপে নজরদারি থাকা উচিত, সেখানে এই ধরনের ঘটনায় প্রশ্ন উঠতেই পারে। তাদের দাবি, যথাযথ পুলিশি নিরাপত্তা, ভিডিও রেকর্ডিং বা প্রশাসনিক তদারকি ছাড়া ইভিএম পরিবহন কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই অভিযোগ ঘিরেই প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে অবস্থান বিক্ষোভ ও উত্তেজনা। অন্যদিকে, শাসক দল All India Trinamool Congress বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় তৎক্ষণাৎ কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বাড়তে থাকে। বিরোধীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শাসক দলের নীরবতা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।
অটোতে EVM বহন ঘিরে কুলতলীতে বিক্ষোভ !
গভীর রাতে কুলতলীতে অটোতে EVM পরিবহন ঘিরে বিতর্ক, তীব্র বিক্ষোভে উত্তপ্ত এলাকা
এদিকে পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী। পুলিশ ও অন্যান্য আধিকারিকরা এসে প্রথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর অটো সহ ইভিএম মেশিনগুলি প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই ইভিএম স্থানান্তর করা হচ্ছিল। তবে কেন সেই সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছিল না, বা কেন অটো রিকশার মতো সাধারণ যানবাহন ব্যবহার করা হল—এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর তখনও মেলেনি। ফলে সন্দেহ পুরোপুরি কাটেনি। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা সরে যান, তবে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বজায় থাকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে মানুষের আস্থা অটুট রাখা অত্যন্ত জরুরি, আর এই ধরনের ঘটনা সেই আস্থাকে নাড়িয়ে দিতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় ইভিএমকে কেন্দ্র করে এই ধরনের বিতর্ক নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন জায়গায় ইভিএম পরিবহন বা সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রতিবারই প্রশাসন দাবি করেছে যে কঠোর নিরাপত্তা ও নিয়ম মেনেই সবকিছু করা হয়। কিন্তু বাস্তবে যদি কোথাও কোনও ত্রুটি থেকে যায়, তাহলে তা বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। এই ঘটনার পর কুলতলী এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়ে গিয়েছে। বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাতে পারে বলেও সূত্রের খবর। অন্যদিকে প্রশাসনও পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে, গভীর রাতে একটি অটোতে করে ইভিএম পরিবহনের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলী এখন রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত। নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনা যে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য। আগামী দিনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয় এবং এই ঘটনার তদন্ত কোন দিকে এগোয়—সেদিকেই এখন নজর রয়েছে সকলের। এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি পদক্ষেপে সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং দায়িত্বশীলতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একটি ছোট সন্দেহও বড় আকারের অবিশ্বাসে পরিণত হতে পারে—যার প্রভাব পড়তে পারে গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার উপর।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram