বসন্তের রঙে হবু নার্সদের প্রাক-দোল উল্লাস !
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
পূর্ব বর্ধমান : ফাগুনের হালকা রোদ, কোকিলের সুরেলা ডাক আর বাতাসে ভেসে আসা পলাশ-শিমুলের গন্ধ— এমনই এক মায়াবী সকালে রঙে রঙিন হয়ে উঠল পূর্ব বর্ধমানের শহর। বসন্তের আবাহনে যেন প্রকৃতি নিজেই গেয়ে উঠল— “ওরে গৃহবাসী, খোল দ্বার খোল, লাগল যে দোল।” সেই সুরে সুর মিলিয়ে শহরের অলি-গলিতে ছড়িয়ে পড়ল আনন্দের আবেশ। প্রাক্-দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে বর্ধমানের এক বেসরকারি নার্সিং কলেজ আয়োজন করল এক অনন্য, হৃদয়ছোঁয়া অনুষ্ঠান— যেখানে উৎসব শুধু রঙের নয়, ছিল সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও মানবিকতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন। শনিবার সকালে শহরের রথতলার মাঠ যেন পরিণত হয়েছিল এক ক্ষুদ্র বসন্ত-উৎসবের প্রাঙ্গণে। ভোরের কোমল আলোয় সেজে ওঠা মাঠে জমতে শুরু করেন কলেজের শিক্ষিকা, ছাত্রীরা এবং স্থানীয় মানুষজন। সবার পরনে ছিল বসন্তের ঐতিহ্যবাহী সাজ— সাদা শাড়ির সঙ্গে হলুদের ছোঁয়া, কারও চুলে গাঁদা বা পলাশের ফুল, কারও হাতে রঙিন আবিরের থালা। একদিকে বাজছিল ঢাকের মৃদু তাল, অন্যদিকে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুরে সুরে প্রস্তুত হচ্ছিল এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। রথতলা থেকে শুরু হয় সেই শোভাযাত্রা। রঙিন আবিরের উড়ান, হাসিমাখা মুখ আর উচ্ছ্বসিত পদচারণায় দোলযাত্রা এগিয়ে চলে রথতলা এলাকা পরিক্রমা করে আইটিআই কলেজ প্রাঙ্গণের দিকে। পথের দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজন মুগ্ধ হয়ে দেখেন এই বর্ণিল আয়োজন। কেউ মোবাইলে মুহূর্ত বন্দি করছেন, কেউ আবার হাততালি দিয়ে উৎসাহ জানাচ্ছেন। এটি নিছক পদযাত্রা ছিল না— ছিল নৃত্য, সঙ্গীত, ঐতিহ্য আর সম্প্রীতির এক জীবন্ত উৎসব। শোভাযাত্রার মাঝেই কখনও থেমে গেছে পদচারণা, শুরু হয়েছে দলবদ্ধ নৃত্য। রবীন্দ্রনাথের বসন্ত ও দোলের গান— “রঙে রঙে ভরা এলো রে বসন্ত,” কিংবা “ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায়”— এমন সব সুরে নেচে উঠেছে তরুণীরা। তাদের মুখে ছিল আবিরের রঙ, চোখে ছিল উচ্ছ্বাস, আর হৃদয়ে ছিল এক অন্যরকম গর্ব— তারা শুধু ছাত্রী নন, ভবিষ্যতের সেবিকা, যারা সমাজকে সুস্থ রাখার দায়িত্ব বহন করবেন। সেই দায়িত্ববোধের মধ্যেও তারা ভুলে যাননি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চা। শিক্ষিকাদের অংশগ্রহণ এই অনুষ্ঠানে এনে দেয় এক আলাদা মাত্রা। ছাত্রীরা যেমন প্রাণভরে নেচে-গেয়েছেন, তেমনি শিক্ষিকারা থেকেছেন তাদের পাশে— কখনও গানের কোরাসে, কখনও নৃত্যের ছন্দে, কখনও বা আবিরের রঙে রাঙিয়ে দিয়েছেন একে অপরকে। শিক্ষক-শিক্ষিকার এই একাত্মতা যেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছে— যেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি সম্পর্ক, সহযোগিতা ও সম্মানের বন্ধনও সমানভাবে লালিত হয়। আইটিআই কলেজ প্রাঙ্গণে পৌঁছে আয়োজন পায় আরও বৃহত্তর রূপ। সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বসন্তোৎসবের ঐতিহ্য ও তাৎপর্য। আবৃত্তি, গান এবং দলীয় নৃত্যের মাধ্যমে ছাত্রীরা ফুটিয়ে তোলে বাংলার চিরায়ত দোলযাত্রার আবহ। অনুষ্ঠানমঞ্চে বসন্তকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়— বসন্ত মানেই নতুনের আহ্বান, পুরনো দুঃখ-গ্লানি ঝেড়ে ফেলে জীবনের পথে এগিয়ে চলার প্রেরণা।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
