STF-এর জালে হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকার !

তবে এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখনও পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থা এই অভিযোগের সমর্থনে কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে আনেনি। ফলে ‘হানি ট্র্যাপ’ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যই এই মুহূর্তে তদন্তকারীদের সন্দেহ এবং অনুসন্ধানের অংশমাত্র। আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কোনও ব্যক্তিকে দোষী বলা যায় না। এসটিএফ এখন অর্পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানতে চাইছে, হামিমের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের প্রকৃতি কী ছিল, তাঁরা কার কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং তাঁদের কথোপকথনের উদ্দেশ্য কী ছিল। পাশাপাশি বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল কি না, আন্তর্জাতিক মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়েছে কি না এবং আর কোনও ব্যক্তি এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত আছেন কি না, তাও জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের মতে, ডিজিটাল ফরেন্সিক রিপোর্ট এই মামলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। মোবাইল ফোন, ক্লাউড স্টোরেজ, এনক্রিপ্টেড চ্যাট, ই-মেল এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের তথ্য বিশ্লেষণ করে যোগাযোগের প্রকৃত চিত্র তুলে আনার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সংস্থারও প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে জঙ্গি সংগঠনগুলি সরাসরি যোগাযোগের পরিবর্তে এনক্রিপ্টেড ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। তাই তদন্তে ডিজিটাল প্রমাণের গুরুত্ব আগের তুলনায় অনেক বেশি। প্রতিটি চ্যাট, প্রতিটি কল রেকর্ড এবং প্রতিটি অনলাইন কার্যকলাপ তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠতে পারে। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্ধমানসহ গোটা রাজ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তদন্তকারীরা বিভিন্ন জেলার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন। ঝাড়খণ্ড-সহ একাধিক রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গেও তথ্য আদানপ্রদান চলছে বলে জানা গিয়েছে। তবে তদন্তের এই পর্যায়ে এসটিএফ কোনও তথ্যকে চূড়ান্ত বলে মানতে নারাজ। তদন্তকারীদের বক্তব্য, সমস্ত ডিজিটাল প্রমাণ, জিজ্ঞাসাবাদ, ফরেন্সিক বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এখন সকলের নজর আদালতের দিকে। অর্পিতাকে কত দিনের হেফাজতে পায় এসটিএফ, জেরায় কী কী তথ্য উঠে আসে এবং এই মামলায় আরও নতুন কোনও নাম সামনে আসে কি না, সেটাই দেখার। কারণ তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে এই মামলার পরিধি শুধু একজন বা দু’জন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত আদালতেই প্রমাণ হবে কার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কতটা সত্য এবং কার ভূমিকা কী ছিল। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত অভিযোগই তদন্তাধীন, এবং আইন অনুযায়ী প্রত্যেক অভিযুক্ত আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ বলে গণ্য হবেন।
