জঙ্গি যোগে ধৃত হামিম-অর্পিতাদের ফের আদালতে পেশ !

এদিকে, শুক্রবার নির্ধারিত সময়ের পর তিন অভিযুক্তকেই ফের বর্ধমান আদালতে নিয়ে আসে STF। আদালত চত্বরে তাঁদের ঘিরে ছিল পুলিশি নিরাপত্তা। ১৪ দিনের হেফাজতে তদন্তে কী কী তথ্য উঠে এসেছে, জিজ্ঞাসাবাদে কী কী জানা গিয়েছে এবং তদন্ত বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে—সেই সংক্রান্ত তথ্য আদালতের সামনে তুলে ধরেছে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, এই ঘটনার পিছনে আরও কোনও বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না। কারণ, কথিতভাবে বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তথ্য আদান-প্রদানের অভিযোগ সামনে আসায় তদন্তের পরিধি শুধুমাত্র তিন অভিযুক্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। তাঁদের যোগাযোগের পরিধি, আর্থিক লেনদেন, প্রযুক্তিগত যোগাযোগ এবং পরিচিতদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানা যাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য খুঁজে দেখছেন আধিকারিকরা। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তদের কাছ থেকে পাওয়া বক্তব্যের সঙ্গে তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথাও কোনও অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সেই জায়গাগুলিও আলাদাভাবে যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশের তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—অভিযুক্তদের কথিত যোগাযোগের সঙ্গে কোনও সংগঠিত চক্রের সম্পর্ক রয়েছে কি না। কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন তাঁদের প্রভাবিত করেছিল কি না, কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশের ভিত্তিতে তাঁরা কাজ করেছিলেন কি না, অথবা ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমেই গোটা বিষয়টি তৈরি হয়েছিল কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তরও খুঁজছে STF। তবে তদন্তকারীদের হাতে এখনও পর্যন্ত ঠিক কী কী তথ্য এসেছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তদন্তের স্বার্থেই বেশ কিছু তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। আদালতের সামনে তদন্তের অগ্রগতি এবং জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি পরবর্তী তদন্তের দিকও স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছে STF। তদন্তে উঠে আসা নতুন সূত্র ধরে আরও জিজ্ঞাসাবাদ বা অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ করা হয় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে। সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের সঙ্গে কথিত যোগাযোগ এবং গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তিনজনের গ্রেফতারির ঘটনায় তদন্ত এখনও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের পর এবার সামনে আসতে পারে আরও কিছু তথ্য। ধৃত তিনজনের সঙ্গে আরও কারও যোগাযোগ ছিল কি না, কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের ভূমিকা রয়েছে কি না এবং কথিতভাবে কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদান হয়েছিল কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে রাজ্য পুলিশের STF। তবে শেষ পর্যন্ত ফের ২৮ দিনের জেল হেপাজতে হামিম-অর্পিতা ।
