This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
পূর্ব বর্ধমান : রায়না-২ ব্লকের মাধবডিহি ব্লক প্রাথমিক হাসপাতালে সোমবার রাতে আচমকা আগুন লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। রাতের অন্ধকারে হাসপাতালের একটি অংশ থেকে ধোঁয়া এবং আগুনের শিখা দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। মুহূর্তের মধ্যেই খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। আতঙ্ক তৈরি হয় হাসপাতাল চত্বরেও। জানা গিয়েছে, রাত আনুমানিক ১০টা ৪৮ মিনিট নাগাদ মাধবডিহি ব্লক প্রাথমিক হাসপাতালের একটি অংশ থেকে আচমকাই ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এরপরই আগুনের শিখা দেখতে পান স্থানীয়রা। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গায় আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে আসেন এলাকার মানুষ। খবর দেওয়া হয় মাধবডিহি থানায়। খবর পাওয়ার পর দেরি না করে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। অফিসার-ইন-চার্জ রাজেশ মাহাতোর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছয়। একই সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় বাসিন্দারাও এগিয়ে আসেন। পুলিশ এবং স্থানীয়দের তৎপরতায় অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফলে আগুন বড় আকার নেওয়ার আগেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। আর এর জেরেই বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পায় হাসপাতাল বলে জানা গিয়েছে। তবে আগুন কীভাবে লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। শর্ট সার্কিট, বৈদ্যুতিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনও কারণে এই আগুন—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বরং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। তাঁদের দাবি, হাসপাতালের বিএমওএইচ নিয়মিতভাবে দায়িত্বে উপস্থিত থাকেন না। হাসপাতালের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়েও গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি তাঁদের। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে এ বিষয়ে কী বক্তব্য, তা স্পষ্ট নয়। তবে আগুন লাগার ঘটনার পর নতুন করে এই অভিযোগগুলি সামনে আসায় পরিস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি সরকারি হাসপাতালে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর? হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে কি না, থাকলে সেগুলি কতটা সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে, নিয়মিত পরীক্ষা করা হয় কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। কারণ হাসপাতাল এমন একটি জায়গা, যেখানে দিনের পাশাপাশি রাতেও রোগী, তাঁদের পরিবার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি থাকে। ফলে হাসপাতালের কোনও অংশে আগুন লাগলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে। বিশেষ করে রাতে রোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। সোমবার রাতের ঘটনায় যদিও আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, কিন্তু আগুন যদি আরও কিছুটা ছড়িয়ে পড়ত, তাহলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারত—সেই আশঙ্কাই এখন ঘুরছে স্থানীয়দের মধ্যে। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের কাজেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, আগুনের খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাঁদের সংবাদ সংগ্রহের কাজে বাধা দেওয়া হয়। এমনকী আগুন নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ ঘিরেও শুরু হয়েছে বিতর্ক। স্থানীয়দের বক্তব্য, হাসপাতালের মতো একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোনও ঘটনা ঘটলে তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। সেখানে তাঁদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ কেন উঠবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।
রায়নায় হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন ! প্রাণে বাঁচল হাসপাতাল, উঠছে গাফিলতির অভিযোগ
অন্যদিকে, আগুন নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের দ্রুত তৎপরতা এবং পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের কারণেই আগুন বড় আকার নেওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি। এখন তদন্তের মূল বিষয় কয়েকটি। প্রথমত, ঠিক কী কারণে হাসপাতালে আগুন লাগল ? দ্বিতীয়ত, আগুন লাগার সময় হাসপাতালের অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা কী অবস্থায় ছিল ? তৃতীয়ত, হাসপাতালের বৈদ্যুতিক পরিকাঠামো নিয়মিত পরীক্ষা করা হয় কি না ? এবং চতুর্থত, আগুন লাগার খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তার সত্যতা কী ? পুলিশের তদন্তে এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় কি না, এখন সেটাই দেখার। পাশাপাশি স্থানীয়দের আরও দাবি, হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্ত করা উচিত। বিএমওএইচ-এর নিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজকর্মে গাফিলতির যে দাবি করা হয়েছে—সেগুলিও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছেন তাঁরা। তবে আগুনের ঘটনায় সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়, এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর সামনে আসেনি। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই তা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনা ভবিষ্যতের জন্য বড় সতর্কবার্তা বলেই মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, শুধু আগুন লাগার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না। আগুন যাতে লাগতেই না পারে, তার জন্য আগে থেকেই উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। হাসপাতালের বৈদ্যুতিক সংযোগ, তার, সুইচবোর্ড, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র এবং জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে অগ্নি-নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ধরনের গাফিলতি যাতে না থাকে, তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কারণ কোনও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে তথ্য জানার অধিকার সাধারণ মানুষের রয়েছে বলেও মনে করছেন তাঁরা। এখন নজর পুলিশের তদন্ত এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আগুনের উৎস কোথায় ছিল, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত, কোনও বৈদ্যুতিক ত্রুটি ছিল কি না, নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে—তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিরও সত্যতা যাচাই করা জরুরি। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করার দাবি উঠছে। কারণ একটি হাসপাতাল শুধু চিকিৎসার জায়গা নয়, মানুষের ভরসার জায়গা। সেখানে অগ্নি-নিরাপত্তা থেকে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই থাকতে হয় সর্বোচ্চ সতর্কতা। সোমবার রাতের আগুন বড় বিপদ ঘটানোর আগেই নিয়ন্ত্রণে এসেছে ঠিকই। কিন্তু এই ঘটনা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—মাধবডিহি ব্লক প্রাথমিক হাসপাতালের অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত? প্রশাসনিক তৎপরতা কতটা কার্যকর? আর আগুনের খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগেরই বা কী সত্যতা ? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের দিকেই তাকিয়ে। প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা জোরদার করা হয় এবং অভিযোগগুলির বিষয়ে কী তদন্ত হয়—সেদিকেই নজর থাকবে এলাকাবাসী থেকে সাধারণ মানুষের।