গ্রেপ্তার তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি গৌতম ঘোষ !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
লাউদোহা : রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই একের পর এক অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের ঘটনা সামনে আসছে। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ, বিভিন্ন এলাকায় ভোট পরবর্তী হিংসা, তোলাবাজি, সন্ত্রাস এবং অবৈধ কারবারের অভিযোগে বহু নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার গোগলা অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি গৌতম ঘোষের নাম। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় তোলাবাজি, রাজনৈতিক সন্ত্রাস এবং অবৈধ বালি কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠছিল গৌতম ঘোষের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল বলে দাবি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে লাউদোহা ফরিদপুর থানার পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে গৌতম ঘোষকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তাঁকে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ধৃত তৃণমূল নেতাকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় থানার বাইরে এক ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। সকাল থেকেই থানার সামনে জড়ো হতে থাকেন বহু মানুষ। তাঁদের মধ্যে অনেকেই গৌতম ঘোষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পুলিশ ভ্যানে করে ধৃতকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত জনতার একাংশ “চোর চোর” স্লোগান দিতে শুরু করেন। কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হলেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, গৌতম ঘোষের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এলাকার সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হত। পাশাপাশি সরকারি প্রকল্প এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক কাজে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তোলাবাজি চালানোর অভিযোগও তুলেছেন বিজেপি নেতারা। এছাড়াও অবৈধ বালি উত্তোলন এবং সেই কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগও সামনে এনেছেন তাঁরা।
গ্রেপ্তার তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি গৌতম ঘোষ !
তোলাবাজি-সন্ত্রাসের অভিযোগে ধৃত গোগলা তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি

বিজেপি নেতাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে পারেননি। কারণ অভিযোগ, প্রতিবাদ করলেই তাঁদের নানা ধরনের হুমকির মুখে পড়তে হত। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষ সাহস করে সামনে এসে অভিযোগ জানাতে শুরু করেছেন বলেও দাবি বিজেপির। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। দলের একাংশের মতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁদের নেতাদের টার্গেট করা হচ্ছে। যদিও গৌতম ঘোষের গ্রেফতারি নিয়ে এখনও পর্যন্ত জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এদিকে গৌতম ঘোষকে আদালতে তোলা হলে পুলিশি হেফাজতের আবেদন করা হয়েছে বলে আদালত সূত্রে খবর। তদন্তকারীদের মতে, অভিযোগগুলির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, অবৈধ বালি কারবারের আর্থিক লেনদেনের নথি এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। সেই কারণেই তাঁকে নিজেদের হেফাজতে চেয়েছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোগলা অঞ্চল এবং সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ বালি উত্তোলন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি প্রশাসনের রাজস্ব ক্ষতির বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে বহুবার। অভিযোগ, প্রভাবশালী রাজনৈতিক আশ্রয়ে এই ধরনের কারবার চলত। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা এলাকায় রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে উঠেছে। একদিকে বিজেপি এই গ্রেফতারিকে আইনের জয় বলে দাবি করছে, অন্যদিকে তৃণমূলের একাংশ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে গোটা ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে লাউদোহা ফরিদপুর থানার পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেরও। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তবে এই গ্রেফতারির ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন আরও সক্রিয় হয়েছে বলে দাবি করছে বর্তমান সরকার। সেই প্রেক্ষাপটে তোলাবাজি, সন্ত্রাস, অবৈধ বালি কারবারসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পদক্ষেপের ছবি সামনে আসছে। গৌতম ঘোষের গ্রেফতারিও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ কি না, নাকি এর পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণ—সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্ত এবং আদালতের পরবর্তী পর্যায়ে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram