একই দড়িতে ঝুলছে প্রেমিক যুগলের দেহ !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
লাউদোহা :  পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের ফরিদপুর ব্লকের জামগড়া এলাকায় প্রেমিক যুগলের রহস্যময় মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামের অদূরে একটি বাঁশঝোপ সংলগ্ন গাছে একই দড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এক যুবক ও এক যুবতীর দেহ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি এই ঘটনায় আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম সুকুমার বাগদি। তিনি অন্ডাল থানার দক্ষিণখণ্ড এলাকার বাসিন্দা। জানা যায়, সুকুমার বিবাহিত ছিলেন। অন্যদিকে মৃত যুবতীর নাম বিউটি বাগদি। তিনি জামগড়া গ্রামেরই বাসিন্দা। শনিবার সকালে গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা মাঠের দিকে যাওয়ার সময় প্রথম গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দু’জনকে দেখতে পান। এরপরই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন এলাকার মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় লাউদোহা-ফরিদপুর থানার পুলিশ। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করে এবং দেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পাশাপাশি কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তারও তদন্ত শুরু করেছেন পুলিশ আধিকারিকরা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুকুমারের মামার বাড়ি ছিল জামগড়া গ্রামে। সেই সূত্রেই তাঁর নিয়মিত যাতায়াত ছিল এই এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে ওই গ্রামে আসা-যাওয়ার সুবাদেই বিউটি বাগদির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। প্রথমে বন্ধুত্ব এবং পরে সেই সম্পর্ক প্রেমের রূপ নেয় বলে জানা গিয়েছে। তবে তাঁদের এই সম্পর্কের সামনে ছিল একাধিক সামাজিক ও পারিবারিক বাধা। কারণ, সুকুমার আগেই বিবাহিত ছিলেন। অন্যদিকে বিউটির পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বিয়ে বীরভূম জেলার দুবরাজপুর এলাকার এক যুবকের সঙ্গে ঠিক করা হয়েছিল। এমনকি কয়েকদিনের মধ্যেই বিয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার কথাও ছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।
একই দড়িতে ঝুলছে প্রেমিক যুগলের দেহ !
বিয়ের আগেই মর্মান্তিক পরিণতি ! ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার যুবক-যুবতীর দেহ

স্থানীয়দের দাবি, বিউটির এই বিয়েতে তাঁর বিশেষ মত ছিল না। পরিবারের সিদ্ধান্তে বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু নিজের পছন্দের মানুষকে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করতে তিনি মানসিকভাবে রাজি ছিলেন না বলেও দাবি পরিবারের ঘনিষ্ঠদের একাংশের। অন্যদিকে, সুকুমার বিবাহিত হওয়ায় তাঁদের সম্পর্ক সমাজ ও পরিবারের স্বীকৃতি পাওয়া অত্যন্ত কঠিন ছিল। ফলে ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপের মধ্যেই দু’জন এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। যদিও এই ঘটনাকে শুধুমাত্র আত্মহত্যা বলেই এখনই নিশ্চিত করতে নারাজ পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি আত্মহত্যার পিছনে অন্য কোনও কারণ বা অন্য কারও ভূমিকা রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন হারানোর যন্ত্রণায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এলাকার বাসিন্দারাও এই ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত। অনেকের মতে, সমাজ ও পারিবারিক চাপের কারণেই হয়তো দুই তরতাজা প্রাণ অকালে ঝরে গেল। তবে প্রকৃত সত্য কী, তা প্রকাশ্যে আসবে পুলিশের তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে এলেই। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা জামগড়া এলাকায় নেমে এসেছে স্তব্ধতা। সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড় দেখা যায়। এলাকার প্রবীণ বাসিন্দাদের কথায়, এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা আগে কখনও দেখেননি তাঁরা। গ্রামের মানুষ এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে, যাঁদের প্রতিদিন হাসিখুশি দেখা যেত, তাঁদের জীবন এভাবে শেষ হয়ে যাবে। এদিকে, পুলিশ ইতিমধ্যেই মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছে। তাঁদের মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সমস্ত দিক তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রেম, পারিবারিক চাপ, সামাজিক বাধা নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও রহস্য— সেই উত্তর খুঁজতেই এখন তদন্তে নেমেছে লাউদোহা-ফরিদপুর থানার পুলিশ। আর সেই তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা এলাকা।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram