This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
জামুরিয়া : নির্বাচনী লড়াই ক্রমশ জমে উঠছে জামুড়িয়া বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই ময়দানে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন কংগ্রেস প্রার্থী তথা প্রবীণ শ্রমিক নেতা তরুণ কুমার গাঙ্গুলী। শুক্রবার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বোগড়া কংগ্রেস পার্টি অফিসে এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি তার নির্বাচনী প্রচারের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন এবং সেখান থেকেই শাসক তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির বিরুদ্ধে একযোগে তোপ দাগেন। ৬৪ বছর বয়সী তরুণ কুমার গাঙ্গুলী রাজনৈতিক জীবনে নতুন মুখ নন। দীর্ঘদিন ধরে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এই নেতা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে এক পরিচিত নাম। তিনি প্রাক্তন ইসিএল কর্মী এবং ছাত্র রাজনীতির হাত ধরেই তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি কোলিয়ারি শ্রমিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন এবং শ্রমিক মহলে একটি শক্তিশালী প্রভাব তৈরি করেছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি প্রথমেই জামুড়িয়া এলাকার অনুন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তার দাবি, বহু বছর ধরে এই এলাকার মানুষ মৌলিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। জল, বিদ্যুৎ এবং রাস্তার মতো প্রাথমিক সুবিধা এখনও বহু এলাকায় পৌঁছায়নি। “এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, এত বছর পরেও মানুষকে এই মৌলিক সমস্যাগুলির সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে,”— বলেন তিনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বারবার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। “মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমে উঠছে। তারা পরিবর্তন চাইছে,”— এমনটাই মন্তব্য করেন গাঙ্গুলী। একইসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধেও সরব হন তিনি। তার বক্তব্য, “বিজেপি ক্ষমতায় থেকেও মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কোনও কাজ করেনি।” তবে শুধু বর্তমান নয়, অতীতের দিকেও আঙুল তুলেছেন এই কংগ্রেস প্রার্থী। বাম আমলের শাসনকেও দায়ী করে তিনি দাবি করেন, সেই সময় থেকেই জামুড়িয়া অঞ্চলের অবক্ষয় শুরু হয়। “একটি দীর্ঘ সময় ধরে এই এলাকা অবহেলার শিকার হয়েছে, যার ফল আজও মানুষ ভোগ করছে,”— বলেন তিনি। তরুণ কুমার গাঙ্গুলীর বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি এই নির্বাচনে মূলত উন্নয়ন ও মৌলিক পরিষেবার ইস্যুকেই সামনে রাখতে চাইছেন। তার প্রতিশ্রুতি, নির্বাচিত হলে জল, বিদ্যুৎ, রাস্তা— এই তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
জামুড়িয়ায় কংগ্রেসের বাজি শ্রমিক নেতা, তৃণমূল-বিজেপিকে একসঙ্গে আক্রমণে তরুণ গাঙ্গুলী
পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ক্ষেত্রেও উন্নয়নের আশ্বাস দেন তিনি। একজন শ্রমিক নেতা হিসেবে তার পরিচয় এই নির্বাচনে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জামুড়িয়া একটি শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানে শ্রমিক শ্রেণির সংখ্যা যথেষ্ট বেশি। ফলে শ্রমিকদের সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি সহজেই একটি বড় ভোটব্যাঙ্ককে প্রভাবিত করতে পারেন— এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের। তিনি নিজেও সেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেছেন। “শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করা আমার প্রথম দায়িত্ব। কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে,”— বলেন তিনি। তার এই বক্তব্য শ্রমিক মহলে কতটা সাড়া ফেলতে পারে, তা এখন দেখার বিষয়। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় জোর প্রচার শুরু করেছেন গাঙ্গুলী। ছোট ছোট সভা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ— এইভাবেই তিনি মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন দলীয় কর্মী-সমর্থকরা, যারা এই নির্বাচনে কংগ্রেসের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত অনেকেই তার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নও করেন। তিনি ধৈর্যের সঙ্গে সব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। এতে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পরিচয়ও ফুটে ওঠে। এই নির্বাচনে জামুড়িয়া কেন্দ্রটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তৃণমূল, বিজেপি এবং কংগ্রেস— তিন দলের মধ্যেই এখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে প্রতিটি দলের প্রার্থীর জন্যই এই লড়াই সহজ হবে না। তরুণ কুমার গাঙ্গুলীর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল, তিনি কতটা সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেন। যদিও তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার ইতিহাস তাকে একটি শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছে। সব মিলিয়ে, প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই সক্রিয় হয়ে ওঠা এই কংগ্রেস নেতা জামুড়িয়ার নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। তার আক্রমণাত্মক বক্তব্য এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এখন দেখার, এই প্রচার কতটা প্রভাব ফেলতে পারে ভোটের ফলাফলে। তবে আপাতত এটুকু স্পষ্ট— জামুড়িয়া বিধানসভা কেন্দ্রের লড়াই ক্রমশ জমে উঠছে, আর সেই লড়াইয়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠছেন তরুণ কুমার গাঙ্গুলী। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসবে, ততই বাড়বে প্রচারের তীব্রতা এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর। আর সেই আবহেই নিজের জায়গা মজবুত করতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এই প্রবীণ শ্রমিক নেতা।