মেডিকেল হলেও নিয়োগ নয়,কারখানা গেটে বিক্ষোভ !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
জামুরিয়া : বিজয়নগর শিল্পতালুক—যেখানে একের পর এক কারখানা গড়ে উঠেছে কর্মসংস্থানের আশায়। কিন্তু সেই আশাই আজ ক্ষোভে পরিণত হয়েছে একদল স্থানীয় যুবকের কাছে। একটি বেসরকারি কারখানার গেটে নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখালেন প্রায় ২০ জন যুবক। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশ্রুতি মিললেও কাজের সুযোগ এখনও অধরাই রয়ে গেছে। শনিবার সকালে কারখানার প্রধান গেটের সামনে জড়ো হন এলাকার যুবকদের একাংশ। হাতে প্ল্যাকার্ড, মুখে ক্ষোভের স্লোগান—তাঁদের একটাই দাবি, “প্রতিশ্রুতি নয়, চাই নিয়োগপত্র।” বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, প্রায় দু’বছর আগে তাঁদের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছিল। সেই সময় তাঁদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল খুব শীঘ্রই কাজে যোগদানের ডাক আসবে। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত নিয়োগপত্র হাতে আসেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানা স্থাপনের সময় কর্তৃপক্ষ গ্রামের মানুষের সঙ্গে বৈঠক করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, প্রতি বছর অন্তত ২০ জন স্থানীয় বেকার যুবককে কাজ দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতির উপর ভরসা করেই বহু পরিবার আশা বেঁধেছিল। কিন্তু গত ছয় বছরে একজনও স্থানীয় যুবক স্থায়ীভাবে নিয়োগ পাননি বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের। তাঁদের কথায়, “আমাদের চোখের সামনে বাইরের লোকেরা কাজ পাচ্ছেন, আর আমরা শুধু আশ্বাসই পাচ্ছি।” দু’বছর আগে ২০ জন যুবকের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, মেডিকেল পরীক্ষার পর সাধারণত নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু নানা অজুহাতে তাঁদের কাজে নেওয়া হচ্ছে না। কখনও বলা হচ্ছে কাগজপত্র অসম্পূর্ণ, কখনও বা বলা হচ্ছে শূন্যপদ নেই। এই দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষুব্ধ হয়ে অবশেষে রাস্তায় নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। বিক্ষোভ চলাকালীন যুবকদের মধ্যে ক্ষোভের সুর আরও চড়া হয় যখন তাঁরা কিছু রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তোলেন। তাঁদের বক্তব্য, “পার্টির কিছু লোক কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে।” যদিও এই অভিযোগের সপক্ষে তাঁরা কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ সামনে আনেননি, তবুও এলাকায় এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। Sign at Shyam Sel & Power Ltd entrance. এ বিষয়ে INTTUC-এর দু নম্বর ব্লক সভাপতি রাজু মুখার্জী স্পষ্টভাবে বলেন, “আমাদের কোনও নেতা যদি বেআইনি ভাবে কোম্পানির কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকেন, প্রমাণ পেলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ভিত্তিহীন অভিযোগ মেনে নেওয়া হবে না। কারখানার গেটে অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভ করাও সমর্থনযোগ্য নয়। কারও কোনও সমস্যা থাকলে সরাসরি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেই আমরা কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করব।” তাঁর এই বক্তব্যে যেমন অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে, তেমনি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথও খোলা রাখা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা অবশ্য তাঁদের দাবিতে অনড়। তাঁদের বক্তব্য, বারবার যোগাযোগ করেও কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। এদিন কারখানা কর্তৃপক্ষ তাঁদের পুনরায় একটি তালিকা জমা দিতে বলেছে বলেও জানান তাঁরা। যুবকদের দাবি, আগেও একাধিকবার তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। তাই আবার নতুন করে তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশকে তাঁরা সময়ক্ষেপণের কৌশল বলেই মনে করছেন।স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, শিল্পাঞ্চলে কারখানা গড়ে ওঠার মূল উদ্দেশ্যই ছিল স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি। যদি সেই লক্ষ্য পূরণ না হয়, তাহলে অসন্তোষ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। বহু পরিবার আজও আশা করে আছে তাঁদের ছেলেরা স্থায়ী কাজ পাবে। কিন্তু বছরের পর বছর অপেক্ষার পরও যদি নিয়োগ না হয়, তাহলে সেই আশাই ক্ষোভে রূপ নেয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন এখনও পর্যন্ত সরাসরি কোনও মন্তব্য না করলেও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফেও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি মেলেনি। তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই সম্পন্ন করা হয় এবং শূন্যপদ অনুযায়ী প্রার্থীদের ডাকা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিরোধ নতুন নয়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা ও কর্পোরেট নীতির মধ্যে সমন্বয় না ঘটলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানই একমাত্র পথ। বিক্ষোভ ও পাল্টা অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দ্রুত নিয়োগপত্র না দেওয়া হলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন। প্রয়োজনে প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন, এমনকি আইনি পদক্ষেপও নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের একটাই বক্তব্য—“আমরা কাজ চাই, ভিক্ষা নয়। যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। ”সব মিলিয়ে, জামুড়িয়ার বিজয়নগর শিল্পতালুকের এই ঘটনা শিল্পাঞ্চলের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রশ্নকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার, প্রশাসন বা কারখানা কর্তৃপক্ষ দ্রুত কী পদক্ষেপ নেয় এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব হয় কি না। স্থানীয় যুবকদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটবে, নাকি ক্ষোভ আরও বিস্তৃত আকার নেবে—সেদিকেই নজর এখন সবার।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram