একরাশ রহস্য আর আতঙ্ক বুকে নিয়ে চলে গেলেন শ্রমিক নেতা "বটু" : দুর্গাপুরে শোকের ছায়া

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
TVNEWS10 : রবিবারের অলস সকালটা দুর্গাপুরের গোপালমাঠ এলাকার মানুষের কাছে আর পাঁচটা দিনের মতো স্বাভাবিক হতে পারত। কিন্তু ভোরের আলো ফুটতেই এক মর্মান্তিক ও স্তব্ধ করে দেওয়া খবর গ্রাস করল গোটা এলাকাকে। নিজের ঘরের বন্ধ দরজার ওপাশে, চিরতরে নীরব হয়ে গেছেন তৃণমূলের পরিচিত ও প্রভাবশালী শ্রমিক নেতা সন্দীপ ঘটক, যাঁকে সবাই ভালোবেসে ‘বটু’ বলে ডাকতেন। নিজেরই বাসভবনে গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন তিনি। সকালে যখন তাঁর নিথর দেহটি উদ্ধার হয়, তখন চারদিকের কান্নায় গোপালমাঠের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। ঘর থেকে যখন তাঁর নিস্প্রাণ দেহটি প্রাথমিক তদন্তের পর ময়নাতদন্তের জন্য দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন উপস্থিত প্রতিবেশীদের চোখে ছিল শুধুই জল আর একরাশ কুয়াশাচ্ছন্ন প্রশ্ন। কেন এই চরম সিদ্ধান্ত? : যে মানুষটি প্রতিদিন শত শত মানুষের ভিড়ে পরিবেষ্টিত থাকতেন, যিনি শ্রমিকদের অধিকার আর রাজনীতির ময়দানে চড়া গলায় কথা বলতেন, তিনি কেন রাতের অন্ধকারে এমন একাকী, নিঃশব্দ বিদায়ের পথ বেছে নিলেন? এই প্রশ্নটাই এখন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে সবাইকে। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও ধোঁয়াশায় ঢাকা Men seated at public gathering with collage overlay তবে এই আকস্মিক মৃত্যুর নেপথ্যে উঠে আসছে এক চরম মানসিক টানাপোড়েন ও আতঙ্কের গল্প। স্থানীয় সূত্রে ও কানাঘুষোয় জানা যাচ্ছে, দুর্গাপুর স্টিল প্লান্ট (DSP) এবং ফেরো স্ক্র্যাপ নিগমে (FSNL) ঠিকা কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর যেভাবে একের পর এক প্রথম সারির তৃণমূল নেতা ও আধিকারিকরা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জালে ধরা পড়ছেন, সেই চাদরটাই হয়তো নিঃশব্দে চেপে বসেছিল বটুর মনের ওপর। স্থানীয়দের অনুমান, আইনি খাঁড়া এবং জনসমক্ষে সম্মানহানির তীব্র আতঙ্ক ও মানসিক অবসাদ ভেতরে ভেতরে তাঁকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল। সেই চরম একাকীত্ব আর লোকলজ্জার ভয় থেকেই হয়তো আত্মহননের এই মর্মান্তিক পথ বেছে নিয়েছেন এই শ্রমিক নেতা। একটি হাসিমুখের এভাবে ঝরে যাওয়া যেমন দুর্গাপুরের রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তেমনই রেখে গেছে এক বুক চাপা হাহাকার। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে, তবে বটুর এই রহস্যময় ও দুঃখজনক বিদায় সহজে ভুলতে পারছে না গোপালমাঠের মানুষ।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram