অবৈধ ডিজেল মজুদের অভিযোগ,তৃণমূল নেতার গোডাউনে অভিযান

পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় আর কারা জড়িত থাকতে পারে, সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে। ডিজেল মজুদ ও পাচারের অভিযোগের সঙ্গে কোনও সংগঠিত চক্র যুক্ত রয়েছে কি না, তাও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে একাধিক ব্যক্তি ও সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল। তাঁদের অভিযোগ, ডাকাতি, বোমাবাজি, মারধর, লুটপাট এবং শ্রমিকদের কাছ থেকে তোলা আদায়ের মতো একাধিক অভিযোগ স্থানীয় স্তরে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ছিল। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। স্থানীয়দের আরও দাবি, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এবার প্রকাশ্যে অভিযোগ ওঠার পর এবং পুলিশি তদন্ত শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে প্রয়োজনীয় প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। অন্যদিকে, এই ঘটনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ সামনে এসেছে। এলাকাবাসীর দাবি, ইসিএলের কিছু আধিকারিকের সঙ্গে যোগসাজশ করেই দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছিল। যদিও এই অভিযোগের কোনও সরকারি প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি, তবুও তদন্তকারীরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের দাবি, অভিযুক্তের একাধিক বাণিজ্যিক গাড়ি এবং একটি বাস ইসিএলের বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত রয়েছে। পাশাপাশি ইসিএলের বিভিন্ন প্রকল্প ও পরিষেবার সঙ্গেও তাঁর ব্যবসায়িক যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই কারণে এই পুরো ঘটনার সঙ্গে কোনও বৃহত্তর স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে ঘটনার জেরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধী শিবির এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে অভিযুক্তের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। বর্তমানে গোটা রানীগঞ্জ এলাকায় এই ঘটনাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যদি অভিযোগ সত্যি হয়, তাহলে এতদিন ধরে কীভাবে প্রকাশ্যে এমন অবৈধ কার্যকলাপ চলছিল? আর কারা এর সঙ্গে জড়িত? সেই উত্তর খুঁজতেই এখন তদন্ত এগোচ্ছে। সব মিলিয়ে, অবৈধ ডিজেল মজুদ ও পাচারের অভিযোগে রানীগঞ্জের অমৃতনগরে শুরু হওয়া এই তদন্ত আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। এখন সকলের নজর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকে।
