জয়েন্ট এন্ট্রান্সে রাজ্যে তৃতীয় রানীগঞ্জের উমং !

তবে শুধু কোচিং বা নির্দিষ্ট রুটিন নয়, নিজের উপর আত্মবিশ্বাস এবং বিষয়গুলি ভালোভাবে বোঝার ওপরেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল উমং। নিজের সাফল্যের রহস্য জানতে চাইলে সে জানায়, পড়াশোনার জন্য তার কোনও বাঁধাধরা সময়সূচি ছিল না। যখনই মনোযোগ তৈরি হতো, তখনই পড়তে বসত। নির্দিষ্ট সময় ধরে পড়ার চেয়ে বিষয়গুলোকে ভালোভাবে বুঝে নেওয়ার ওপরই জোর দিত সে। আর সেই আত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায়ই তাকে আজ রাজ্যের তৃতীয় স্থানে পৌঁছে দিয়েছে। উমং আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে তার লক্ষ্য দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি খড়গপুরে পড়াশোনা করা। প্রযুক্তি ও গবেষণার জগতে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চায় সে। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে উমং। ছেলের এই অসামান্য কৃতিত্বে আবেগাপ্লুত বাবা অমিত ভুট। তিনি বলেন, ছেলের এই সাফল্য তাঁদের কাছে অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের বিষয়। উমং ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত পরিশ্রমী। পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ এবং নিষ্ঠাই আজ তাকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যই উমংয়ের এই সাফল্যে ভীষণ খুশি। মায়ের চোখেও আনন্দের জল। তিনি জানান, ছেলের জন্য অনেক স্বপ্ন দেখেছেন তাঁরা। আজ সেই স্বপ্ন পূরণের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল উমং। ছেলের এই সাফল্যে পরিবারের সকলেই গর্বিত। উমংয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও তাঁর এই কৃতিত্বে অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁদের কথায়, উমং বরাবরই একজন মেধাবী এবং পরিশ্রমী ছাত্র। পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ এবং জানার ইচ্ছা ছিল অসাধারণ। তাই তার এই সাফল্যে তাঁরা মোটেও অবাক নন। বরং ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে বলেই তাঁদের বিশ্বাস। এদিকে, রানীগঞ্জের বাসিন্দারাও উমংয়ের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত। এলাকার মানুষের মতে, উমং শুধু নিজের পরিবারের নয়, গোটা রানীগঞ্জ ও খনি অঞ্চলের গর্ব। তার এই কৃতিত্ব আগামী প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদেরও অনুপ্রেরণা জোগাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম সারিতে জায়গা করে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। সেখানে রাজ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করা নিঃসন্দেহে বিরাট সাফল্য। এর পিছনে যেমন রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, তেমনই রয়েছে আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য এবং লক্ষ্যপূরণের প্রতি অদম্য ইচ্ছাশক্তি। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় রাজ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করে নতুন নজির গড়েছে রানীগঞ্জের ছাত্র উমং ভুট। সাধারণ পরিবারের সন্তান হয়েও নিজের মেধা, অধ্যবসায় এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যে স্বপ্নপূরণ সম্ভব, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল এই তরুণ। এখন সকলেরই প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে আইআইটি খড়গপুরে পড়াশোনা করে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে উমং এবং দেশের পাশাপাশি বাংলার নামও উজ্জ্বল করবে। রানীগঞ্জের এই মেধাবী ছাত্রকে ঘিরে তাই এখন আনন্দ, গর্ব এবং আশার আবহ গোটা অঞ্চলে।
