উচ্ছেদ নোটিস প্রত্যাহারের দাবিতে DRM-কে ডেপুটেশন

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
রানীগঞ্জ : রেলের জমিতে বসবাসকারী মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা যেন দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সম্প্রতি রেল কর্তৃপক্ষের জারি করা উচ্ছেদ নোটিস ঘিরে উদ্বেগে রয়েছেন রানীগঞ্জের একাধিক এলাকার বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতিতে শনিবার পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতির রানীগঞ্জ টাউন কমিটির উদ্যোগে আসানসোল রেল ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, অবিলম্বে উচ্ছেদ নোটিস প্রত্যাহার অথবা স্থগিত করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সমিতির অভিযোগ, সম্প্রতি রানীগঞ্জের লাইকবাঁধ, ৩ নম্বর ধাওড়া এবং গির্জাপাড়া সংলগ্ন বার্ন স্ট্যান্ডার্ড কোম্পানির আশপাশে বসবাসকারী বহু পরিবারকে রেল কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদের নোটিস পাঠিয়েছে। এই নোটিসের পর থেকেই এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বাসিন্দাদের বক্তব্য, বহু বছর নয়, অনেক ক্ষেত্রে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁরা এই এলাকায় বসবাস করছেন। এখানেই তাঁদের বাড়ি, জীবিকা, সন্তানদের পড়াশোনা এবং সামাজিক জীবন গড়ে উঠেছে। হঠাৎ করে উচ্ছেদের নোটিস পাওয়ার পর ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা। পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতির দাবি, কোনও বিকল্প পুনর্বাসনের পরিকল্পনা ছাড়া উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়বেন। শুধু মাথার উপর থেকে ছাদই সরে যাবে না, বিপন্ন হবে তাঁদের জীবিকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তাও।
উচ্ছেদ নোটিস প্রত্যাহারের দাবিতে DRM-কে ডেপুটেশন
রেলের উচ্ছেদ নোটিস ঘিরে ক্ষোভ, পুনর্বাসনের দাবিতে সরব বাসিন্দারা

সংগঠনের প্রতিনিধিদের বক্তব্য, উন্নয়নের স্বার্থে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত যেন মানবিকতার পরিপন্থী না হয়। সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা এবং মৌলিক অধিকারের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। এই কারণেই তাঁরা ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে উচ্ছেদ নোটিস স্থগিত অথবা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসে একটি গ্রহণযোগ্য ও আইনসম্মত সমাধান বের করারও আবেদন জানানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, একতরফা সিদ্ধান্ত না নিয়ে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। সমিতির মতে, দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী পরিবারগুলির পুনর্বাসনের বিষয়টি নিশ্চিত না করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে তা মানবিক সংকটের সৃষ্টি করবে। তাই পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ নয়—এই দাবিতেই তাঁরা অনড়। স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সময় সংগঠনের একাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা জানান, প্রশাসনের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশায় রয়েছেন তাঁরা। তবে দাবি উপেক্ষিত হলে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথেও হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবি অগ্রাহ্য করে যদি একতরফাভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়, তাহলে তাঁরা গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন। অন্যদিকে, এলাকাবাসীরাও এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন রেল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের দিকে। তাঁদের আশা, প্রশাসন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করবে এবং পুনর্বাসনের রূপরেখা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কোনও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে না। বর্তমানে পুরো বিষয়টির উপর নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনেরও। আগামী দিনে রেল কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সকলেই।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram