মানবিক পুলিশ, আট ঘণ্টায় ফিরল নিখোঁজ যুবক

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
রানীগঞ্জ : দুশ্চিন্তা, উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তায় কেটে যাচ্ছিল প্রতিটি মুহূর্ত। মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান রানীগঞ্জের এগার গ্রাম পঞ্চায়েতের সাহেবগঞ্জ এলাকার এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ভেবেছিলেন, হয়তো আশেপাশেই কোথাও গিয়েছেন। কিন্তু সময় যত গড়াতে থাকে, ততই বাড়তে থাকে উদ্বেগ। পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে যুবকের কোনো খোঁজ না মেলায় তাঁরা নিজেরাই বিভিন্ন এলাকা, আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, বাজার, বাসস্ট্যান্ড এবং আশপাশের গ্রামগুলোতে খোঁজ শুরু করেন। পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। স্থানীয় মানুষজনের কাছেও জানতে চাওয়া হয়, কেউ তাঁকে দেখেছেন কি না। কিন্তু কোথাও কোনো সন্ধান মেলেনি। ক্রমশ পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় যুবকটি নিজের পরিচয় জানাতে পারবেন কি না, অথবা কোনো বিপদের মুখে পড়েছেন কি না, সেই আশঙ্কায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। অবশেষে পরিবারের পক্ষ থেকে রানীগঞ্জের বল্লভপুর ফাঁড়িতে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ। বল্লভপুর ফাঁড়ির অফিসার-ইনচার্জ পার্থ প্রতিম চক্রবর্তীর নেতৃত্বে গঠন করা হয় একটি বিশেষ অনুসন্ধানকারী দল। নিখোঁজ যুবকের সাম্প্রতিক ছবি, শারীরিক বর্ণনা এবং সম্ভাব্য যাতায়াতের রুট সংগ্রহ করে দ্রুত অনুসন্ধান শুরু করা হয়। পুলিশ শুধু একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ না থেকে একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালায়। বিভিন্ন বাজার, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, ধর্মীয় স্থান, ফাঁকা এলাকা এবং জনবহুল স্থানে খোঁজ শুরু হয়। পাশাপাশি আশপাশের থানাগুলিকেও সতর্ক করা হয় এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয় বলে জানা যায়। এছাড়াও এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলা এবং সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজও চালানো হয়। পুলিশের এই ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত অনুসন্ধানের ফল মিলতে খুব বেশি সময় লাগেনি।
মানবিক পুলিশ, আট ঘণ্টায় ফিরল নিখোঁজ যুবক
মানবিক মুখ বল্লভপুর পুলিশের ! নিখোঁজ যুবককে উদ্ধার করে পরিবারের হাতে তুলে দিল

অভিযোগ দায়েরের মাত্র আট ঘণ্টার মধ্যেই সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ ওই যুবককে। এরপর তাঁকে নিরাপদে পরিবারের হাতে তুলে দেয় পুলিশ। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর ছেলেকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি ও আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের চোখে তখন শুধু কৃতজ্ঞতা। পরিবারের বক্তব্য, পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ, মানবিক মনোভাব এবং নিরলস প্রচেষ্টার কারণেই এত অল্প সময়ের মধ্যে তাঁদের সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বল্লভপুর ফাঁড়ির অফিসার-ইনচার্জ পার্থ প্রতিম চক্রবর্তী-সহ গোটা পুলিশ টিমকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তাঁদের মতে, পুলিশ চাইলে যে কত দ্রুত এবং মানবিকভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে, এই ঘটনাই তার বড় প্রমাণ। স্থানীয় বাসিন্দারাও পুলিশের এই ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, অপরাধ দমন যেমন পুলিশের দায়িত্ব, তেমনি সাধারণ মানুষের বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বল্লভপুর ফাঁড়ির এই উদ্যোগ সেই দায়িত্ববোধেরই পরিচয় বহন করছে। অনেক সময় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে তিনি নিজের ঠিকানা বা পরিচয় জানাতে পারেন না। ফলে তাঁরা সহজেই পথ হারিয়ে ফেলেন বা দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। তাই এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত থানায় অভিযোগ জানানো এবং পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ঘটনায় পুলিশের দ্রুত সমন্বয়, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবং পদ্ধতিগত অনুসন্ধান একটি সম্ভাব্য বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করেছে যে, সময়মতো অভিযোগ জানানো হলে এবং পুলিশ-প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিলে অনেক জটিল পরিস্থিতিরও সফল সমাধান সম্ভব। আজকের এই ঘটনায় শুধু একটি পরিবারই নয়, গোটা এলাকাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। দীর্ঘ উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে বাড়ি ফিরেছেন নিখোঁজ যুবক। পরিবারের মুখে ফিরেছে হাসি, আর পুলিশের এই মানবিক ভূমিকা এলাকাবাসীর কাছেও কুড়িয়েছে ভূয়সী প্রশংসা। এই ঘটনা আরও একবার মনে করিয়ে দিল, পুলিশ শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, প্রয়োজনে মানুষের ভরসার অন্যতম আশ্রয়ও। সংকটের মুহূর্তে দ্রুত সিদ্ধান্ত, আন্তরিকতা এবং মানবিক আচরণই অনেক সময় একটি পরিবারের জীবনে সবচেয়ে বড় স্বস্তি এনে দিতে পারে।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram