তৃণমূল নেতার বাড়ির পেছনে জ্বলছিল ভোটার কার্ড-আধার জেরক্স ! চাঞ্চল্য, উঠছে একাধিক প্রশ্ন

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু পোড়া এবং আংশিক পোড়া নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। কোন নথি কার, সেগুলি আদৌ বৈধ নথির প্রতিলিপি কি না এবং কী উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার কেন্দ্রে থাকা উত্তম রুইদাসকে অবশ্য ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। ফলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সুযোগও হয়নি। তাঁর অনুপস্থিতি ঘিরে আরও জল্পনা তৈরি হয়েছে এলাকায়। এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা তাপস দাস অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল সরকারের সময় উত্তম রুইদাস এলাকায় যথেষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর দাবি, আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া, শ্রমিকদের কাছ থেকে কাটমানি আদায় এবং বিভিন্ন নির্মীয়মাণ কারখানার মালিকদের কাছ থেকেও অর্থ তোলার অভিযোগ বহুদিন ধরেই রয়েছে। তাপস দাসের বক্তব্য, “আজ যে নথিপত্র পুড়তে দেখা গিয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই নথিগুলি কার, কেন এখানে রাখা হয়েছিল এবং কেন সেগুলি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছিল, তা জানার অধিকার সাধারণ মানুষের রয়েছে। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং প্রকৃত সত্য সামনে আসুক।” তবে বিজেপির এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও পর্যন্ত প্রশাসনিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে কোনও সরকারি মন্তব্য করা হয়নি। ফলে অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই তদন্তের দিকে নজর রয়েছে সকলের। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের আবেদন, আবাস যোজনা, শ্রমিক নথিভুক্তিকরণ, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত কাজ কিংবা জমিজমার নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, জব কার্ড এবং পাসবইয়ের কপির প্রয়োজন হয়। তাই এত পরিমাণ নথির প্রতিলিপি একসঙ্গে পাওয়া যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। তদন্তকারীরা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছেন এবং উদ্ধার হওয়া নথিপত্রের উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে, নথিগুলি আদৌ কার কার ছিল এবং সেগুলি কোনও সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কি না। পাশাপাশি এগুলি সেখানে কীভাবে এল এবং আগুন লাগানো হয়েছিল নাকি অন্য কোনও কারণে আগুন ধরে যায়, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনাকে ঘিরে কাঁকসার দোমড়া এলাকায় চাঞ্চল্য তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ—সকলের নজর এখন পুলিশের তদন্তের দিকে। কারণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে, এটি শুধুই নথিপত্র পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় কোনও রহস্য। বর্তমানে সেই উত্তর খুঁজতেই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কাঁকসা থানার পুলিশ।
