বাড়িতে ঢুকে যুবতীর শ্লীলতাহানি, অভিযুক্ত বিজেপি কর্মী

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
কাঁকসা : অন্নপূর্ণা যোজনার নথি জমা নেওয়ার নাম করে বাড়িতে ঢুকে এক যুবতীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল এলাকার এক বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুরের কাঁকসার আমলাজোড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। অভিযোগ, চলতি মাসের ৫ তারিখে ওই যুবতীর বাড়িতে যান এলাকার বিজেপি কর্মী বিশ্বনাথ বাউড়ি। সেই সময় বাড়িতে ওই যুবতী একাই ছিলেন বলে দাবি তাঁর। অভিযোগকারিণীর দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনার নথি সংগ্রহের কথা বলে বাড়িতে ঢোকার পর সুযোগ বুঝে তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন অভিযুক্ত এবং তাঁর শরীরে অশালীনভাবে স্পর্শ করেন। ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কে রয়েছেন বলে দাবি ওই যুবতীর। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের জানানোর পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরপর কাঁকসা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই যুবতী। অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কাঁকসা থানার পুলিশ। তবে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরও এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগকারিণী এবং স্থানীয়দের একাংশের দাবি। আর তা নিয়েই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এলাকায়। শনিবার সেই ক্ষোভের আঁচ পৌঁছয় কাঁকসা থানাতেও। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, কোনও সরকারি প্রকল্পের নথি সংগ্রহের মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে যদি কেউ বাড়িতে প্রবেশ করে এবং তার পর সেই সুযোগের অপব্যবহার করে কোনও মহিলার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। তাই অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। অভিযোগকারিণীর বক্তব্য, অন্নপূর্ণা যোজনার নথি জমা নেওয়ার কথা বলেই অভিযুক্ত তাঁর বাড়িতে ঢুকেছিলেন। সেই সময় তিনি বাড়িতে একা ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, বাড়িতে ঢোকার পর সুযোগ বুঝে অভিযুক্ত তাঁর শরীরে অশালীনভাবে স্পর্শ করেন। ঘটনার পর তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানান। তাঁর কথায়, “অন্নপূর্ণা যোজনার নথি জমা নেওয়ার নাম করে বাড়িতে ঢোকে। তারপর আমাকে একা পেয়ে আমার শরীরে অশালীনভাবে স্পর্শ করে। আমি ওর শাস্তি চাই।” যদিও অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্তের পরই জানা যাবে। পুলিশ ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে। অভিযোগকারিণীর বক্তব্য, অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি এই ধরনের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, তার জন্যও প্রশাসনের কাছে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি। এদিকে ঘটনায় রাজনৈতিক রংও লেগেছে। কারণ, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি এলাকার বিজেপি কর্মী বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে অভিযোগকে কেন্দ্র করে যাতে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যে মূল ঘটনাটি আড়ালে না চলে যায়, সেই দাবিও উঠছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত করছে এবং তদন্তে যে তথ্য সামনে আসবে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল বলেন, “যে ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। সে যদি বিজেপির কর্মী হয়ে থাকে, তাহলে তাকেও ছাড়া হবে না।” অর্থাৎ অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলের তরফেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়েছে বিজেপি।
বাড়িতে ঢুকে যুবতীর শ্লীলতাহানি, অভিযুক্ত বিজেপি কর্মী
অন্নপূর্ণা যোজনার নথি সংগ্রহের নামে কাণ্ড ! BJP কর্মীর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ
তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অভিযোগটি ঠিক কীভাবে ঘটেছিল, ঘটনার সময় সেখানে আর কেউ ছিলেন কি না, অভিযোগকারিণীর বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ কী বলছে—সেসব খতিয়ে দেখা। পুলিশের তদন্তেই সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর সামনে আসবে। একইসঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনার নথি সংগ্রহের নামে বাড়িতে যাওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া বা তার নথি সংগ্রহের নামে সাধারণ মানুষের বাড়িতে কেউ গেলে, সেই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে কোনও বাড়িতে যদি একা মহিলা থাকেন, সেক্ষেত্রে তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছেন স্থানীয়দের একাংশ। কারণ সরকারি প্রকল্পের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করার সুযোগ যদি কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে বা অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেন, তাহলে তা শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয় নয়, সরকারি প্রকল্পের বিশ্বাসযোগ্যতার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই ঘটনায় তদন্ত দ্রুত শেষ করে প্রকৃত সত্য সামনে আনার দাবি উঠেছে। শনিবার কাঁকসা থানায় স্থানীয়দের ক্ষোভের কারণও মূলত এই বিষয়টি ঘিরেই। তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরও যদি দীর্ঘ সময় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। যদিও পুলিশ তদন্ত করছে এবং তদন্তের স্বার্থে সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে আনা সম্ভব নয়, তবুও অভিযোগকারিণীর নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচারের বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অন্য কোনও ব্যাখ্যা বা পাল্টা বক্তব্য থাকলে সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কোনও ব্যক্তিকে শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না; তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে। তবে অভিযোগের গুরুত্বও অস্বীকার করা যায় না। একজন মহিলা যখন সরাসরি থানায় গিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেন, তখন সেই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা এবং তাঁর বক্তব্য যথাযথভাবে নথিবদ্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন নজর রয়েছে কাঁকসা থানার তদন্তের দিকে। পুলিশ কী কী তথ্য সংগ্রহ করে, অভিযোগের সমর্থনে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় কি না এবং শেষ পর্যন্ত আইনি পদক্ষেপ কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার। একইসঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনার নথি সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়েও স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবি উঠেছে। রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি মহিলার শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তাহলে তদন্তে কোনওরকম পক্ষপাত থাকা উচিত নয়—এমনটাই দাবি স্থানীয়দের। অন্যদিকে বিজেপির জেলা নেতৃত্বও জানিয়েছে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে অভিযুক্তকে ছাড়া হবে না। ফলে এখন বল পুলিশের কোর্টে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের প্রকৃত সত্য সামনে আসে কি না, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রমাণ মেলে কি না এবং শেষ পর্যন্ত আইন অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আমলাজোড়া এলাকার মানুষ। একটি সরকারি প্রকল্পের নথি সংগ্রহকে কেন্দ্র করে ওঠা এই অভিযোগ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তবে সবকিছুর আগে অভিযোগকারিণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আনা—এখন সেটাই প্রধান দাবি।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram