লরির ধাক্কায় উল্টাল পিকআপ ভ্যান, আহত ৫ শ্রমিক !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
কাঁকসা : ফের জাতীয় সড়কে বেপরোয়া গতির বলি শ্রমিকরা। বুধবার দুপুরে পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসার রাজবাঁধ এলাকায় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে ঘটে এই দুর্ঘটনা। দুপুরের ব্যস্ত সময়। জাতীয় সড়কে তখন চলছিল রোড মার্কিং বা রাস্তার লেন চিহ্নিত করার কাজ। রাস্তার নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে কাজ করছিলেন। সেই সময় কাজের সুবিধার জন্য সংস্থার একটি পিকআপ ভ্যান কলকাতামুখী দিকে দাঁড় করানো ছিল। ভ্যানটির আশপাশেই কর্মরত ছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঠিক সেই সময় কলকাতা দিক থেকে আসানসোলমুখী একটি দ্রুতগতির লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সজোরে ধাক্কা মারে দাঁড়িয়ে থাকা পিকআপ ভ্যানটিতে। ধাক্কার তীব্রতা এতটাই ছিল যে মুহূর্তের মধ্যেই পিকআপ ভ্যানটি উল্টে যায়। চারদিকে ছিটকে পড়ে কাজের সরঞ্জাম। আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু হয়ে যায় শ্রমিক ও পথচারীদের মধ্যে। দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে থাকা পাঁচজন শ্রমিক আহত হন। প্রত্যেকেরই শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত লাগে। কেউ মাথায়, কেউ হাতে, কেউ আবার কোমর ও পায়ে চোট পান। দুর্ঘটনার পরই স্থানীয় মানুষ এবং অন্যান্য কর্মীরা দ্রুত আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। খবর দেওয়া হয় কাঁকসা থানায়। অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় কাঁকসা থানার পুলিশ এবং কাঁকসা ট্রাফিক গার্ডের পুলিশকর্মীরা। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। তাঁদের শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
লরির ধাক্কায় উল্টাল পিকআপ ভ্যান, আহত ৫ শ্রমিক !
১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে বড় দুর্ঘটনা ! জখম ৫ শ্রমিক

দুর্ঘটনার পর জাতীয় সড়কের আসানসোলমুখী লেনে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। একাধিক মালবাহী গাড়ি এবং ছোট গাড়ি রাস্তার উপর আটকে পড়ে। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত পিকআপ ভ্যানটিকে ক্রেনের সাহায্যে রাস্তা থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল। তবে দুর্ঘটনার পরই ঘাতক লরির চালক গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ফলে লরির নম্বর এবং চালকের পরিচয় জানার চেষ্টা শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জাতীয় সড়কের টোল প্লাজা এবং নজরদারি ক্যামেরার তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশের আশা, খুব শীঘ্রই পলাতক লরি এবং তার চালককে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে ভারী যানবাহন চলাচল করে। বিশেষ করে যেখানে রাস্তার কাজ বা রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলে, সেখানে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সতর্কতা প্রয়োজন হলেও অনেক চালক তা মানেন না। ফলে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে। তাঁদের দাবি, রাস্তায় কাজ চলাকালীন আরও বেশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। পর্যাপ্ত সতর্কীকরণ বোর্ড, ব্যারিকেড, ফ্ল্যাশিং লাইট এবং গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় সড়কে কাজ চলার সময় ‘ওয়ার্ক জোন সেফটি’ কঠোরভাবে কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি। শুধু শ্রমিকদের সুরক্ষা সরঞ্জাম দিলেই হবে না, পথ দিয়ে চলা যানবাহনকেও নির্দিষ্ট গতিসীমার মধ্যে আনতে হবে। নইলে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন। এই ঘটনার পর ফের একবার সামনে এল জাতীয় সড়কে নিরাপত্তার প্রশ্ন। যেখানে রাস্তার উন্নয়নের কাজ চলছে, সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের জীবন সুরক্ষিত রাখতে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠছে। বর্তমানে আহত পাঁচ শ্রমিকের চিকিৎসা চলছে। তাঁদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন সহকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিকে ঘাতক লরিকে চিহ্নিত করে চালকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এখন তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে, কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল লরিটি এবং এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে কোনও অবহেলা ছিল কি না। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এক মুহূর্তের অসাবধানতা বা অতিরিক্ত গতি পাঁচজন শ্রমিককে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও শ্রমিককে কর্মক্ষেত্রে এমন দুর্ঘটনার শিকার হতে না হয়, সেই দিকেই এখন তাকিয়ে প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষ।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram