অবৈধ বালি পাচারের অভিযোগে, আটক ৩০ ট্রাক্টর !

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
কাঁকসা : বেআইনিভাবে বালি পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসা ব্লকের শোকনা গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে রাতের অন্ধকারে এবং ভোরের দিকে গ্রামের রাস্তা ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালি পরিবহণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বালি বোঝাই একাধিক ট্রাক্টর আটকে দিয়ে রাস্তায় অবরোধ গড়ে তোলেন গ্রামবাসীরা। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ৩০টি বালি বোঝাই ট্রাক্টর আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার ভোর থেকেই শোকনা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সিলামপুর এলাকা থেকে বালি এনে গভীর রাতে এবং ভোরের দিকে গ্রামের রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পাচার করা হচ্ছে। বহুবার বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। এই পরিস্থিতিতে সোমবার সকালে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা একজোট হয়ে বালি বোঝাই প্রায় ৪০টি ট্রাক্টর আটকে দেন। পাশাপাশি গ্রামের রাস্তায় অবরোধ গড়ে তুলে প্রতিবাদে সামিল হন তাঁরা। তাঁদের একটাই দাবি, অবিলম্বে এই অবৈধ বালি পাচার বন্ধ করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতিবাদে সামিল গ্রামবাসীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ট্রাক্টর চলাচলের ফলে গ্রামের রাস্তার অবস্থা ক্রমশ খারাপ হয়ে পড়ছে। প্রতিদিন গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ভারী যানবাহনের যাতায়াতের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ট্রাক্টরের কম্পনের ফলে বহু বাড়িঘরে ফাটল ধরছে এবং ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তাঁরা। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ট্রাক্টর চালকদের কাছে বালি পরিবহণের বৈধ নথি কিংবা চালান দেখতে চাওয়া হলে তাঁরা তা দেখাতে পারেননি। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের। তাঁদের বক্তব্য, সমস্ত কিছু প্রশাসনের নজরে এনে অবৈধ বালি পাচার এবং কালোবাজারি রুখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
অবৈধ বালি পাচারের অভিযোগে, আটক ৩০ ট্রাক্টর !
রাতের অন্ধকারে বালি পাচারের অভিযোগ, ক্ষোভে ফুঁসছে শোকনা গ্রামের বাসিন্দারা

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান কাঁকসার ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু করা হয়। একে একে ট্রাক্টরগুলির নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয় এবং প্রাথমিক তদন্তের পর ৩০টি বালি বোঝাই ট্রাক্টর আটক করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সাময়িকভাবে স্বস্তি ফিরলেও ক্ষোভ কমেনি গ্রামবাসীদের মধ্যে। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র কয়েকটি ট্রাক্টর আটক করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা এই অবৈধ বালি পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানান, গ্রামের রাস্তা মূলত সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য তৈরি হলেও রাতের পর রাত ভারী ট্রাক্টর চলাচলের কারণে সেই রাস্তা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্কুল পড়ুয়া, প্রবীণ নাগরিক এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ফলে দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি তুলেছেন তাঁরা। এছাড়াও আন্দোলনরত গ্রামবাসীরা মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রশাসনের পাশাপাশি রাজ্য সরকারেরও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। অবৈধ বালি পাচার এবং কালোবাজারি বন্ধ করতে আরও কড়া নজরদারি এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোকনা গ্রামে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যদিও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বড় ধরনের কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে এলাকায় এখনও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে অবৈধ বালি উত্তোলন এবং পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হবে, তেমনই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, কাঁকসার শোকনা গ্রামে অবৈধ বালি পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা নতুন করে প্রশাসনের ভূমিকা এবং নজরদারির বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার, ভবিষ্যতে এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ রুখতে প্রশাসন কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং গ্রামবাসীদের দাবি কতটা গুরুত্ব পায়।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram