সগড়ভাঙায় ভাটির বিস্ফোরণ ! আতঙ্কে কেঁপে উঠল এলাকা, ধোঁয়ায় ঢাকল চারপাশ

অনেকেই দাবি করেছেন, ভোরবেলায় বিস্ফোরণের তীব্রতায় ছোট শিশু ও বয়স্ক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এলাকায় কিছু সময়ের জন্য আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। বিস্ফোরণের শব্দ বহু দূর পর্যন্ত শোনা গিয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকার মানুষদের একাংশের অভিযোগ, কারখানার ভিতরে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। যদি আগে থেকেই সঠিকভাবে পরিদর্শন করা হতো, তাহলে হয়তো এমন ঘটনা এড়ানো যেত। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র আশ্বাস নয়, এবার প্রশাসনের তরফে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এই ঘটনায় পরিবেশ দূষণের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। বিস্ফোরণের পর কালো ধোঁয়ায় কিছু সময়ের জন্য এলাকা ঢেকে যায়। এর ফলে শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্টের সমস্যাও দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত পরিবেশগত কোনো ক্ষতির বিষয় নিশ্চিত করা হয়নি। এদিকে, বিস্ফোরণের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিস্ফোরণের পর কারখানার দিক থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে এবং স্থানীয় মানুষজন আতঙ্কিত অবস্থায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন। অনেকে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, যদি এই বিস্ফোরণ আরও ভয়াবহ আকার নিত, তাহলে কী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত? কারণ, কারখানার আশপাশেই রয়েছে বহু বসতবাড়ি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবার ঘটনার পর কিছুদিন আলোচনা হলেও পরে সবকিছু আবার আগের মতোই চলতে থাকে। ফলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। কেন বারবার বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটছে, কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এমন দুর্ঘটনা না ঘটে, তার জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি উঠেছে। অন্যদিকে, কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে আসেনি। বিস্ফোরণের সঠিক কারণ কী, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, সেই বিষয়েও স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনো থমথমে সগড়ভাঙা কলোনি এলাকা। আতঙ্কের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের একটাই দাবি, নিরাপত্তার সঙ্গে আর কোনো আপস নয়। এবার স্থায়ী সমাধান চাই।
