সগড়ভাঙায় ভাটির বিস্ফোরণ ! আতঙ্কে কেঁপে উঠল এলাকা, ধোঁয়ায় ঢাকল চারপাশ

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
দুর্গাপুর : পশ্চিম বর্ধমান জেলার সগড়ভাঙা কলোনি এলাকায় বুধবার ভোরের নিস্তব্ধতা আচমকাই ভেঙে দেয় এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা এলাকা ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। হঠাৎ এই বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। অনেকে ঘর থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। এলাকায় তৈরি হয় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি। ইতিমধ্যেই এই বিস্ফোরণের একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ঘিরে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি বেসরকারি কারখানার ভাটিতে বিস্ফোরণ থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। অভিযোগ, কারখানার গ্যাসিফায়ার ইউনিটে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভোরের দিকে হঠাৎ এমন বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় বহু মানুষের। অনেকেই প্রথমে বুঝতেই পারেননি কী ঘটেছে। পরে ধোঁয়া দেখতে পেয়ে আতঙ্ক আরও বাড়ে। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার ওই কারখানায় বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ডের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রতিবারই প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়। যদিও এবার বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবুও স্থানীয় মানুষজনের অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দা বিকাশ ঘটক জানান, সকাল প্রায় ৬টা ৪৫ মিনিট নাগাদ তিনি হঠাৎ একটি বিকট শব্দ শুনতে পান। শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে আশপাশের বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। এরপরই তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তাঁর দাবি, কারখানার দুই নম্বর ইউনিটের গ্যাসিফায়ারেই বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিকভাবে প্রযুক্তিগত ত্রুটিকেই কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বিস্ফোরণের পর কারখানার নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। একটি ট্র্যাকে সামান্য আগুন লেগেছিল বলে জানা যায়। তবে দ্রুত সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। আপাতত কোনো হতাহতের খবর নেই বলেই দাবি স্থানীয়দের একাংশের। তবে এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার মানুষ। তাঁদের বক্তব্য, বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটলেও কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্যে এমন ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক। ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে, সেই প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।
সগড়ভাঙায় ভাটির বিস্ফোরণ ! আতঙ্কে কেঁপে উঠল এলাকা, ধোঁয়ায় ঢাকল চারপাশ
সগড়ভাঙায় কারখানায় বিস্ফোরণ, উঠছে নিরাপত্তা প্রশ্ন

অনেকেই দাবি করেছেন, ভোরবেলায় বিস্ফোরণের তীব্রতায় ছোট শিশু ও বয়স্ক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এলাকায় কিছু সময়ের জন্য আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। বিস্ফোরণের শব্দ বহু দূর পর্যন্ত শোনা গিয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকার মানুষদের একাংশের অভিযোগ, কারখানার ভিতরে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। যদি আগে থেকেই সঠিকভাবে পরিদর্শন করা হতো, তাহলে হয়তো এমন ঘটনা এড়ানো যেত। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র আশ্বাস নয়, এবার প্রশাসনের তরফে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এই ঘটনায় পরিবেশ দূষণের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। বিস্ফোরণের পর কালো ধোঁয়ায় কিছু সময়ের জন্য এলাকা ঢেকে যায়। এর ফলে শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্টের সমস্যাও দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত পরিবেশগত কোনো ক্ষতির বিষয় নিশ্চিত করা হয়নি। এদিকে, বিস্ফোরণের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিস্ফোরণের পর কারখানার দিক থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে এবং স্থানীয় মানুষজন আতঙ্কিত অবস্থায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন। অনেকে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, যদি এই বিস্ফোরণ আরও ভয়াবহ আকার নিত, তাহলে কী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত? কারণ, কারখানার আশপাশেই রয়েছে বহু বসতবাড়ি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবার ঘটনার পর কিছুদিন আলোচনা হলেও পরে সবকিছু আবার আগের মতোই চলতে থাকে। ফলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। কেন বারবার বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটছে, কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এমন দুর্ঘটনা না ঘটে, তার জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি উঠেছে। অন্যদিকে, কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে আসেনি। বিস্ফোরণের সঠিক কারণ কী, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, সেই বিষয়েও স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনো থমথমে সগড়ভাঙা কলোনি এলাকা। আতঙ্কের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের একটাই দাবি, নিরাপত্তার সঙ্গে আর কোনো আপস নয়। এবার স্থায়ী সমাধান চাই।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram